• ৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ২৫শে মাঘ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

দেহরক্ষী ছাড়া চলে না ‘হাতিরাজা’

report71
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১৯, ০৬:৩৮ পূর্বাহ্ণ
দেহরক্ষী ছাড়া চলে না ‘হাতিরাজা’

৭০ বছরের বুড়ো হাতি তিকিরিকে বাঁচানো যায়নি। তবে ৬৫ বছরের রাজাকে বাঁচাতে কোনো কসুর করেনি শ্রীলংকার সরকার। তার মেজাজও রাজার মতোই।

দু’পাশে দুই দেহরক্ষী ছাড়া এই হাতিকে কোনোদিন একা রাস্তায় দেখা যায়নি। শীতের রাতে তার একটু হাওয়া খাওয়ার ইচ্ছা হলে, তুরন্ত চলে আসে পুলিশ ফোর্স। পাহারা ২৪ ঘণ্টার। শ্রীলংকা গার্ডিয়ান। নাদুঙ্গামুয়া রাজা।

শ্রীলংকার ক্যান্ডিতে ভগবান বুদ্ধের সবচেয়ে ঐতিহ্যশালী টুথের মন্দিরের অন্যতম সম্পদ নাদুঙ্গামুয়া রাজা। মন্দিরের হাতিশালের সেরা হাতিও সে। উচ্চতায় সাড়ে ১০ ফুট এই দাঁতাল এখন শ্রীলংকার সবচেয়ে বড় হাতি। ক্যান্ডির ‘শ্রী ডালাডা পেরাহারা’ বা ‘এসালা পেরাহারা’ উৎসব তাকে ছাড়া ভাবাই যায় না।

কিন্তু দেহরক্ষী নিয়ে ঘোরে কেন রাজা? মন্দির কর্তৃপক্ষ তো বটেই, সরকারি কর্মকর্তারাও রাজার সুরক্ষায় সদা তৎপর। হর্ষ ধর্মবিজয় নামে এক সরকারি কর্মকর্তা বলেছেন, প্রথমে এতটা নিরাপত্তার ব্যবস্থা ছিল না।

এই দেহরক্ষীর ব্যাপারটা শুরু হয় ২০১৫ সালের পর থেকে। একটি মোটরবাইক প্রায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে হাতির মুখোমুখি এসে পড়ে। যে কোনো মুহূর্তে দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। হর্ষ জানিয়েছেন, সরকারিভাবে ঘোষণা না করা হলেও বেসরকারিভাবে রাজা দেশের জাতীয় সম্পদ।

বৌদ্ধ ধর্মের সবচেয়ে বড় উৎসব ‘এসালা পেরাহারা’য় মুখ্য ভূমিকা থাকে রাজার। তার গায়ে আঁচ এলে, মন্দির কর্তৃপক্ষের রোষের মুখে পড়তে হবে সরকারকে। তাই এত নিরাপত্তার বাঁধুনি। প্রতিবছর জুলাই এবং আগস্টে ক্যান্ডি সেজে ওঠে ‘এসালা পেরাহারা’ উৎসবে।

টুথের মন্দির থেকে শোভাযাত্রা করে বের হয় বিরাট মিছিল। আলোয় সেজে ওঠে গোটা শহর। এই মিছিলের অন্যতম আকর্ষণ হাতি। রাজকীয় ঝলমলে পোশাকে সাজিয়ে তারা প্যারেড করে শহরজুড়ে।

এই হাতিদের নেতৃত্ব দেয় নাদুঙ্গামুয়া রাজা। তার পিঠে বসানো থাকে বুদ্ধের মূর্তি। মন্দিরের পূজারিদের কাছে সে ঈশ্বরের দূত।