১০ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার

 

যে কারণে গ্রেফতার হলেন কাউন্সিলর রাজীব

আপডেট: অক্টোবর ২০, ২০১৯

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

মোহাম্মদপুর-বসিলা-ঢাকা উদ্যানসহ আশপাশ এলাকার অঘোষিত সম্রাট তারিকুজ্জামান রাজীবের সাম্রাজ্যের পতন ঘটেছে। দিনমজুর থেকে চাঁদাবাজি ও দখলের টাকায় ধনকুবের হয়ে ওঠা রাজীব শনিবার ভাটারা থেকে গ্রেফতার হয়েছেন র‌্যাবের হাতে।

মূলত সন্ত্রাসবাদ, দখলদারিত্ব ও চাঁদাবাজির মতো সুনির্দিষ্ট অভিযোগে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তারেকুজ্জামান রাজীবকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন র‌্যাব সদর দফতরের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইং পরিচালক লে. কর্নেল সারওয়ার-বিন-কাশেম।
তিনি জানান, চলমান ক্যাসিনো ও দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের মধ্যে গত ৪-৫ দিন ধরে আত্মগোপনে ছিলেন কাউন্সিলর রাজীব। তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদ, দখলদারিত্ব, চাঁদাবাজির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছিল। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে আত্মগোপনে থাকা রাজীবকে তার বন্ধুর ওই বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযানকালে ওই বাসা থেকে ৭টি বিদেশি মদের বোতল, একটি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, তিন রাউন্ড গুলি, নগদ ৩৩ হাজার টাকা ও একটি পাসপোর্ট জব্দ করা হয়। অস্ত্রের কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি রাজীব।

কাউন্সিলর রাজীব এই বাসায় কত দিন ধরে আত্মগোপনে ছিলেন- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের জানা মতে তিনি গত ১৩ অক্টোবর থেকে এই বাসায় আত্মগোপনে ছিলেন। তার বন্ধুকে আমরা পাইনি। তিনি বিদেশে রয়েছেন।

সারওয়ার-বিন-কাশেম বলেন, রাজীবের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে কি-না তাও খতিয়ে দেখা হবে। পাসপোর্ট নিয়ে বন্ধুর ওই বাসায় আত্মগোপনে ছিলেন তিনি। দেশ থেকে পালানোর চেষ্টায় ছিলেন কি-না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তারিকুজ্জামান রাজীব। ২০১৪ সালে কাউন্সিলর হওয়ার পরই বদলে যেতে থাকে যুবলীগের এই থানা পর্যায়ের নেতার জীবনযাত্রা। আর মাত্র কয়েক বছরেই তিনি মালিক হয়েছেন কয়েক শ কোটি টাকার। প্রায় ছয় বছর আগে মোহাম্মদপুরের মোহাম্মদীয়া হাউজিং সোসাইটির একটি বাড়ির নিচতলার গ্যারেজের পাশেই ছোট্ট এক বাড়িতে সস্ত্রীক ভাড়া থাকতেন রাজীব। ভাড়া দিতেন ৬ হাজার টাকা। তবে ছয় বছর শেষে একই হাউজিং এলাকায় নিজের ডুপ্লেক্স বাড়িতে থাকেন। নামে-বেনামে তার অন্তত ৬টি বাড়ি রয়েছে মোহাম্মদপুরে। রয়েছে দেশ-বিদেশে সম্পত্তিও। ছয় বছর আগে একমাত্র বাহন অল্প দামি একটি মোটরসাইকেল থাকলেও ছয় বছর শেষে হয়েছে কোটি টাকা দামের বিলাসবহুল গাড়ি। কিছুদিন পরপরই তিনি পরিবর্তন করেন গাড়ির ব্র্যান্ড। যেখানেই যান, তার গাড়িবহরের সামনে-পেছনে থাকে শতাধিক সহযোগীর একটি দল। নিজের সংগ্রহে রয়েছে মার্সিডিস, বিএমডব্লিউ, ক্রাউন প্রাডো, ল্যান্ডক্রুজার ভি-৮, বিএমডব্লিউ স্পোর্টসসহ নামিদামি সব ব্র্যান্ডের গাড়ি।

সরকারি জায়গা দখল করে ভাড়া দেওয়া, বিভিন্ন অবৈধ ব্যবসা, জমি দখল, চাঁদাবাজিসহ নানা অপকর্ম করেই তিনি গড়ে তুলেছেন বিশাল সাম্রাজ্য। রাজীবের সব অপকর্মের সঙ্গী যুবলীগ নেতা শাহ আলম জীবন, সিএনজি কামাল, আশিকুজ্জামান রনি, ফারুক, রাজীবের স্ত্রীর বড় ভাই ইমতিহান হোসেন ইমতিসহ অর্ধশত ক্যাডার। অভিযোগ রয়েছে, রাজীবের নির্দেশেই যুবলীগ কর্মী তছিরকে হত্যা করে রাজীবের ঘনিষ্ঠরা।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
 
Website Design and Developed By Engineer BD Network