১১ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার

অমানবিক র‌্যাগিং: শিক্ষার্থীদের রক্ষায় কঠোর হোন

আপডেট: অক্টোবর ২৮, ২০১৯

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

নিজের সিনিয়রদের হাতে র‌্যাগিংয়ের শিকার হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে বরিশালের ইন্সটিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি- আইএইচটির এক নারী শিক্ষার্থীকে।

জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটির দ্বিতীয় বর্ষের ওই শিক্ষার্থী জুনিয়রদের ওপর সিনিয়রদের নির্যাতন-নিপীড়ন নিয়ে পোস্ট দেয়ার কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে তৃতীয় বর্ষের কয়েকজন নারী শিক্ষার্থী ড্রয়িং রুমে ডেকে নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে।

এতে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে ওই শিক্ষার্থী রুমে গিয়ে নাপাসহ একাধিক ওষুধ খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) ভর্তি করা হয়।

এদিকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এক ভর্তি পরীক্ষার্থীকে র‌্যাগিংয়ের নামে মানসিক নিপীড়ন করেছেন একই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সাবজেক্টের প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রলীগের তিন কর্মী।

আসাদুজ্জামান নামের ওই ভর্তি পরীক্ষার্থী ক্যাম্পাস ঘুরে দেখতে বের হলে পরিবহন পুল এলাকায় ছাত্রলীগ কর্মীরা তাকে চায়ের দোকানে ডেকে নিয়ে শার্ট খুলতে ও নামতা পড়তে বলে। এ সময় নামতা মনে নেই বলতেই তাদের অসৌজন্যমূলক আচরণ শুরু হয়।

ভাগ্য ভালো, ওই সময় প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্যরা বিষয়টি বুঝতে পেরে ছাত্রলীগ কর্মীদের পুলিশে সোপর্দ করে। প্রক্টরিয়াল টিম এভাবে সতর্ক হলে উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অনেক অঘটন, নির্যাতন-নিপীড়ন রোধ করা সম্ভব।

র‌্যাগিংয়ের নামে জুনিয়র ছাত্রদের সিনিয়রদের হাতে নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হওয়া নতুন কিছু নয়। এছাড়া রাজনৈতিক কারণে নির্যাতন ও হত্যার ঘটনাও ঘটছে প্রতিনিয়ত। সর্বশেষ বুয়েটের শিক্ষার্থী আবরার হত্যা যার জ্বলন্ত প্রমাণ।

লোমহর্ষক ওই হত্যাকাণ্ডের পর বুয়েটেও র‌্যাগিংয়ের নামে শিক্ষার্থীদের নির্যাতনের অনেক খবর বেরিয়ে এসেছে। অথচ র‌্যাগিংয়ের নামে হয়রানি ও যে কোনো ধরনের নির্যাতন-নিপীড়নমুক্ত উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিশ্চিত করার নির্দেশনা রয়েছে সরকার ও আদালতের পক্ষ থেকে।

দুর্ভাগ্যের বিষয়, পরিবার-পরিজন ছেড়ে পড়তে আসা শিক্ষার্থীরা যেখানে সিনিয়রদের কাছ থেকে ছোট ভাইয়ের আদর ভালোবাসা পাওয়ার কথা, সেখানে তাদের হিংসাত্মক বিকৃত আনন্দের বলি হয়ে তাদের মানসিক ও শারীরিক ট্রমায় পড়তে হচ্ছে। উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অমানবিক কর্মকাণ্ড কঠোর হস্তে দমন করার বিকল্প নেই।

বরিশালে আহত শিক্ষার্থীর বিষয়ে মহিলা হোস্টেলের উপ-তত্ত্বাবধায়ক বলেছেন, তাকে নানা কথা বলা হয়েছে শুনেছি; কিন্তু র‌্যাগিংয়ের কোনো কিছু শুনিনি।

এর অর্থ কি এই যে সিনিয়র শিক্ষার্থীরা চাইলে জুনিয়রদের বকাঝকা করতে পারে! দায়িত্বশীল জায়গা থেকে এ ধরনের হাস্যকর কথা না বলে দ্রুত ওই ছাত্রীকে শারীরিক ও মানসিক নিপীড়নকারীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় র‌্যাগিং নামক নিপীড়ন বন্ধ করা সম্ভব হবে না।

বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ রয়েছে। আছে হল ও হোস্টেলসহ ছাত্রাবাস কর্তৃপক্ষও। তারপরও কীভাবে কিছু শিক্ষার্থী অন্য শিক্ষার্থীর হাতে লাঞ্ছনার শিকার হয়, তা আমাদের বোধগম্য নয়।

এর পেছনে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের দায়িত্বে অবহেলা, রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্টতা ও নানা অনিয়ম যে রয়েছে তা বলাই বাহুল্য। বুয়েটে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি ত্বরিত পদক্ষেপ নিত তবে আবরারকে প্রাণ দিতে হতো না।

অন্যদিকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রক্টরিয়াল টিম তৎপর না হলে র‌্যাগিংয়ের শিকার ভর্তি পরীক্ষার্থীর বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারত। এ থেকে যে বিষয়টি স্পষ্ট তা হল কর্তৃপক্ষ আন্তরিক হলে সবকিছুই স্বাভাবিক নিয়মে চলতে পারে।

বরিশাল ও চট্টগ্রামের ঘটনায় অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি যে কোনো ধরনের নির্যাতন, র‌্যাগিং ও অন্যান্য অপরাধমুক্ত শিক্ষাঙ্গন নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
   
Website Design and Developed By Engineer BD Network