২৪শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার

বরিশালে আওয়ামী লীগে শুদ্ধি অভিযান : দুই নেতা বহিষ্কার

আপডেট: অক্টোবর ২৮, ২০১৯

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

কাউন্সিলকে কেন্দ্র করে বরিশাল জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগে শুদ্ধি অভিযান চলছে। রোববার এ সংক্রান্ত কেন্দ্রের একটি কড়া চিঠিও এসে পৌঁছেছে। দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে অনুপ্রবেশকারী, সুবিধাবাদীদের কাউন্সিলে না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বরিশাল জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের দুই সাধারণ সম্পাদক এ তথ্যের সত্যতা স্বীকার করে বলেছেন, শুদ্ধি অভিযানের অংশ হিসেবে এরই মধ্যে একজন উপজেলা চেয়ারম্যানসহ সম্পাদকীয় পদের দুই নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। অনুপ্রবেশে অভিযোগের তালিকায় থাকা একাধিক নেতা কাউন্সিলেই ঝরে পড়তে যাচ্ছে।
বরিশাল মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগের কাউন্সিল আগামী ৭ ও ৮ ডিসেম্বর। কাউন্সিলকে ঘিরে নগরীর ৯ ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সম্মেলন শেষ করা হয়েছে। বিভিন্ন উপজেলায়ও বর্ধিত সভা, ইউনিয়ন সভা চলছে। এদিকে ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা কিংবা মূল দলে এ সুযোগে ঢুকে পড়ার জন্য তৎপর হয়ে উঠেছে সুবিধাবাদী, অনুপ্রবেশকারীরা। তারা নানাভাবে প্রচার চালিয়ে নিজেকে আওয়ামী লীগ ঘরানার জাহিরের পাশাপাশি নেতাদের কাছেও ধর্না দিচ্ছে। তবে এ সুযোগের পথ বন্ধ করতে উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্র। দলে শুদ্ধি অভিযানের অংশ হিসেবে রোববার বরিশাল জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগকে পৃথক চিঠি দিয়েছে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ।
এ ব্যাপারে বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট একেএম জাহাঙ্গীর বলেন, তিনি কেন্দ্রের চিঠি পেয়েছেন। দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাক্ষরিত ওই চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে যে, আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা মহানগরের মেয়াদ উত্তীর্ণ কমিটি আগামী ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। চিঠিতে নতুন কমিটিতে অনুপ্রবেশকারী, সুবিধাবাদী যাতে না থাকতে পারে সে বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। অনতিবিলম্বে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নগর আওয়ামী লীগ এক্ষেত্রে কী উদ্যোগ নিয়েছে এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ সম্পাদক জাহাঙ্গীর বলেন, এরই মধ্যে ৯ ওয়ার্ডের কাউন্সিল সম্পন্ন করা হয়েছে। ওয়ার্ডের কাউন্সিলে বলা হয়েছে, সুবিধাবাদী, অনুপ্রবেশকারী দলে নেতৃত্ব দিতে পারবে না। যারা তৃণমূলে ছাত্র রাজনীতিতে ছিল তাদের আনা হবে নতুন নেতৃত্বে। ৬টি কমিটির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তও হয়েছে। যে কেউ দলে ঢুকতে আবেদন করতেই পারে। তার কাছেও অনেকেই এসেছেন দলীয় ফরম সংগ্রহ করবেন কি না জানতে। তারা আসতেই পারেন, কিন্তু যাচাই বাছাই করে অনুপ্রবেশকারীদের বাদ দেওয়া হচ্ছে। এটি শুদ্ধি অভিযানের অংশ। উদাহরণ হিসেবে আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর বলেন, যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদককেও রেহাই দিইনি। তাকে নগর আওয়ামী লীগ থেকে সম্প্রতি শৃংখলা ভঙ্গের কারণে বর্ধিত সভায় বহিষ্কার করা হয়েছে। এভাবেই দলে শুদ্ধি অভিযান চলবে।
মহানগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি অ্যাড. আফজালুল করিম বলেন, তারা প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছেন যে, যারা আওয়ামী লীগে ছিল না তাদের নেতৃত্বে আনা হবে না। নগর আওয়ামী লীগ কাউন্সিলরের মাধ্যমে শুদ্ধি অভিযান চালাচ্ছে। হাইব্রিড, অনুপ্রবেশকারীরা প্রার্থী হতে চাচ্ছে। নানাভাবে তারা ঢুকতে চায় দলে। তবে শুদ্ধি অভিযানের অংশ হিসেবে কাউন্সিলে অনেকেই বাদ পড়তে যাচ্ছে।
বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগেও কাউন্সিলকে ঘিরে শুদ্ধি অভিযান চলছে। বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও বানারীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি গোলাম ফারুককে দল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। জেলা আওয়ামী লীগের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গোলাম ফারুক অনৈতিক কাজে লিপ্ত থেকে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করার অভিযোগে তাকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। এক তরুণীকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলার পর তার বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নিল দল।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
   
Website Design and Developed By Engineer BD Network