২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, মঙ্গলবার

ঘর ভাড়ার টাকা চাওয়ায় খুঁটিতে বেঁধে নির্যাতন

আপডেট: নভেম্বর ৩, ২০১৯

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

শিবগঞ্জ উপজেলায় এক নারীকে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছে। এরই মধ্যে নির্যাতনের ঘটনার ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে।

স্থানীয় রাজমিস্ত্রি মো. রাফিকে (২৬) স্বামী দাবি করায় এমন নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন নির্যাতনের শিকার ওই নারী (৪০)। রোববার দুপুর পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়নি।

শিবগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, পুলিশের কাছে নির্যাতনের বিষয়ে কোনো অভিযোগ করেননি ওই নারী। তারপরও মামলা নেয়ার জন্য তাকে খোঁজা হচ্ছে।

গত শুক্রবার সকালে শিবগঞ্জ উপজেলার অনন্তবালা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। রোববার সকালে ওই নারীর ছবিসহ ভিডিও ভাইরাল হলে সবার মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঠেঙ্গামারা এলাকায় নির্মাণাধীন ভবনে কাজ করার সুবাদে শিবগঞ্জ উপজেলার রায়নগর ইউনিয়নের অনন্তবালা গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে রাজমিস্ত্রি মো. রাফির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক হয় ওই নারীর। ৮-৯ মাস আগে তারা বিয়ে করেন এবং ঠেঙ্গামারা এলাকায় ভাড়া বাড়িতে দম্পতি হিসেবে বসবাস করছিলেন।

নির্যাতিত নারীর অভিযোগ, স্বামী রাফি ১৫-২০ দিন ধরে তার খোঁজখবর না নেয়ায় শুক্রবার সকালে শিবগঞ্জের অনন্তবালা গ্রামে ঘর ভাড়ার টাকা নিতে রাফির বাড়িতে যান। তখন রাফি ও তার বাড়ির লোকজন জমি থেকে কপির গাছ উপড়ে তোলেন এবং তাকে চুরির অপবাদ দেন। এরপর তাকে জমিতে বাঁশের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন করেন।

রায়নগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম শফি বলেন, অনন্তবালা গ্রামে জমির কপি নষ্ট করায় গ্রামের লোকজন শুক্রবার সকালে এক নির্মাণ শ্রমিককে আটক করে মারধর করেছেন।

খবর পেয়ে গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে তাকে উদ্ধার করা হয়। ওই নারী অভিযোগ করেন, রাফি তাকে গোপনে বিয়ে করেছেন। খোঁজ না রাখায় তিনি স্বামীর কাছে এসেছিলেন। কিন্তু স্বামী ও তার লোকজন তাকে কপি চোর সাজিয়ে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রেখে নির্যাতন করেন। এরপর শিবগঞ্জ থানায় খবর দিয়ে ওই নারীকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হয়।

থানা পুলিশ ওই নারীকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ভ্রাম্যমাণ আদালতে নিয়ে যায়। কিন্তু ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আলমগীর হোসেন ওই নারীর কোনো অপরাধ পাননি। এ কারণে ওই নারীকে বাদী করে নারী নির্যাতন দমন আইনে মামলা নিতে পুলিশকে নির্দেশ দেন। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে পুলিশ মামলা নেয়নি।

শিবগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আলমগীর হোসেন বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজা দেয়ার মতো কোনো অপরাধ ছিল না ওই নারীর। এ কারণে তার ওপর নির্যাতনের ব্যাপারে তাকে বাদী করে নারী নির্যাতন দমন আইনে মামলা নেয়ার জন্য থানার ওসিকে নির্দেশ দেয়া হয়েছিল।

এলাকাবাসী জানায়, বগুড়া সদরের পলাশবাড়ি গ্রামের ওই নারী নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করেন। অনন্তবালা গ্রামের শহিদুলের ছেলে রাফি তাকে বিয়ে করেন। স্ত্রীর খোঁজখবর না নেয়ায় শুক্রবার সকালে অনন্তবালা গ্রামে রাফির বাড়িতে গেলে রাফি ও তার পরিবারের লোকজন ফুলকপি ক্ষেতের মধ্যে বাঁশের সঙ্গে দড়ি দিয়ে বেঁধে ওই নারীকে নির্যাতন করেন। এ সময় ক্ষেত নষ্ট করার অপরাধে তাকে অভিযুক্ত করা হয়। পরে গ্রাম পুলিশ দিয়ে তাকে থানায় পাঠানো হয়।

নির্যাতনের শিকার ওই নারী বলেন, আমি কোনো অপরাধ করিনি। পুলিশ আমার কোনো কথা শুনতে চায়নি। ওরা আমাকে নির্যাতন করলো। আমি কোনো বিচার পেলাম না। অনন্তবালা গ্রামের শহিদুলের ছেলে রাফি আমাকে বিয়ে করেছে। আমি তার স্ত্রী। কয়েকদিন ধরে আমার খোঁজখবর নেয় না রাফি। খবর নিতে গেলে উল্টো আমাকে বেঁধে মারধর করা হয়েছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।

শিবগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, ওই নারী আমাদেরকে নির্যাতনের কথা জানাননি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আলমগীর হোসেনের নির্দেশনা আমার জানা ছিল না। তবে এখন ওই নারীর খোঁজ করা হচ্ছে মামলা নেয়ার জন্য।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
   
Website Design and Developed By Engineer BD Network