৩০শে নভেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, মঙ্গলবার

বরিশালে ২ লাখ শিশুর ঝুঁকির মুখে শিক্ষা গ্রহণ

আপডেট: নভেম্বর ৮, ২০১৯

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

সাঈদ পান্থ \ বরিশালে দুই লÿাধিক কেমলমতি শিশু জীবন ঝঁকি নিয়ে শিÿা গ্রহন করছেন। বছরের পর বছর জেলার দুই শতাধিক ঝুঁকিপূর্ণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তারা এই শিÿা গ্রহন করছেন। যার কারণে প্রায়ই এ সব বিদ্যালয়ের শ্রেণিকÿের প্লাস্টার এবং ঢালাইয়ের বড় বড় খন্ড খসে পড়ে শিÿার্থী আহত হওয়ার ঘটনা ঘটছে। এর মধ্যে যে সব স্কুলের শ্রেণিকÿে ক্লাস করা একেবারেই সম্ভব না, সে সব বিদ্যালয়ের শিÿার্থীদের লেখাপড়া চলছে খোলা আকাশের নিচে। বৃষ্টির দিনগুলোতে এসব বিদ্যালয়ের শিÿার্থীরা পড়ে বিপাকে। বিদ্যালয়গুলোর শিÿক এবং ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যরা বলছেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপÿকে বিষয়টি বারবার জানানো হলেও ভবনগুলো সংস্কার বা নতুন ভবন নির্মাণে কোনও উদ্যোগ গ্রহন করা হচ্ছে না।
জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলার ২২নং চর দাড়িয়াল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টির বয়স ৩৫ বছরের বেশি। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চার রুমের জরাজীর্ণ বিদ্যালয় ভবনের পিলারগুলো থেকে ঢালাই খসে রড খুলে পড়ার উপক্রম হয়েছে। বিদ্যালয়ের ছাদ যে কোনও সময় ধসে পড়ার অবস্থায় রয়েছে। প্রতিনিয়ত এ ছাদ থেকে প্লাস্টার ও ঢালাইয়ের বড় বড় খন্ড শিÿার্থীদের শরীরে পড়ছে। এতে অনেক শিÿার্থী আহত হয়েছেন। যে কোনও সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। তবু এ অবস্থার মধ্যেই চলছে শিশু শ্রেণি থেকে শুরু করে পঞ্চম শ্রেণির ২৬৩ জন শিÿার্থীর লেখাপড়া।
বিদ্যালয়টির শিÿকরা জানান, শিশু শিÿার্থী ধরে রাখতে বিদ্যালয় ভবনটির সংস্কারের জন্য সংশিøষ্ট একাধিক দফতরে বারবার আবেদন-নিবেদন করেও কোনও সাড়া মেলেনি। একই উপজেলার ৪নং দুধল ইউনিয়নের ৩৮নং পিলখানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিÿক কÿে ছাদের প্লাস্টার খসে পড়েছে। এতে অল্পের জন্য রÿা পান শিÿকরা। বিদ্যালয়ের শিÿকরা বলেন, ১৯৯৮ সালে স্কুল ভবনটি নির্মাণ করা হলেও ভবনটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। প্রতিনিয়ত প্লাস্টার ও ঢালাই খসে পড়ছে। যে কোনও সময় ঘটে যেতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। বিদ্যালয় ভবনের সংস্কারের বিষয়টি শিÿা কর্মকর্তাদের বারবার অবহিত করা হলেও তাতে সাড়া মেলেনি বলে জানান তারা।
উপজেলা প্রাথমিক শিÿা অফিস সুত্রে জানা গেছে, বাকেরগঞ্জ উপজেলার ২৮০ টি সরকারি প্রাথমিক আছে। এর মধ্যে ১০১টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঝুঁকিপূর্ণ। কাঁকরধা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পশ্চিম জিরাইল আদর্শ (নব) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পশ্চিম চরাদী সকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দÿিণ ভরপাশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সুন্দারকাঠী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শ্যামপুর কাদেরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রাজাপুর সরাকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চর সমাদি বালিগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এই ৮ টি বিদ্যালয়ের ভবনের অবস্থা একেবারেই বেহাল। এর পরেও ঝুঁকি নিয়ে চালাতে হয় পাঠদান। উপজেলার হেলিপ্যাড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণীর ছাত্রী সানজিদা আক্তারের অভিভাবক খাদিজা বেগম অভিযোগ করেন, বিদ্যালয়ের ভবন ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কÿে ফাটল ধরছে যে কোন সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে শিশুদের বিদ্যালয়ে পাঠাতেও এখন ভয় করে। সংশিøষ্টি বিদ্যালয়ের একাধিক ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিরা বলেন, বার বার ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে তালিকা করে পাঠিও কোনো কাজের কাজ হচ্ছে না। দিন দিন ভবন গুলো ব্যবহারে অনুপযোগী হয়ে পড়ছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিÿা কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন বলেন, উপজেলার ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয়ের ভবন নিয়ে জেলা শিÿা অফিসের মিটিংয়ে আলোচনা হয়েছে। কর্তৃপÿ বিষয় টি সর্ম্পকে অবগত হয়েছে। শিঘ্রই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো নির্মাণে পদÿেপ নেওয়া হবে। তবে যে সকল বিদ্যালয়ের ভবন গুলো বেশি ঝুঁকিপূর্ণ সেগুলোতে পাঠদান থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাধবী রায় জানান, বাকেরগঞ্জ উপজেলার ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয়ের ভবনের তালিকা করে সংশিøষ্ট দপ্তরে পাঠিয়েছি। ইতি মধ্যে কয়েকটি বিদ্যালয়ের ভবনের কাজ শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বাকি বিদ্যালয়ের ভবনের কাজ শুরু হবে।
জেলার আগৈলঝাড়া উপজেলার গৈলা ইউনিয়নের ২নং দÿিণ শিহিপাশা (দাসেরহাট) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবস্থা আরও খারাপ। বিদ্যালয়টির প্রধান শিÿক ফরিদা ইয়াসমিন জানান, ১৯৪০ সালে তিন কÿের টিনশেড বিদ্যালয়টি যাত্রা শুরু করে। পরে দুটি কÿে টিন ও একটি কÿে ছাদ ঢালাই হলেও বর্তমানে টিনগুলো মরিচা পড়ে প্রায় শেষ, আর সেই ছাদ ভেঙে এখন একাকার। ৭৯ বছরের পুরাতন ভবনের দেয়াল ধসে পড়ার পরও ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয় ভবনটিতেই চলছে শিশু শিÿার্থীদের লেখাপড়া। তিনি আরও জানান, বর্ষায় ওই ভবনের ছাদ দিয়ে পানি পড়ায় শিÿার্থীরা ক্লাস করতে পারেনি। আগামী বর্ষায় ভবনটি সম্পূর্ণ ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে একটি শ্রেণিকÿে শিÿার্থীদের লেখাপড়া চলছে। শ্রেণিকÿ সংকটের কারণে সকালে প্রথম, দ্বিতীয় ও পঞ্চম এবং দুপুরে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির শিÿার্থীদের ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ১৩৩ জন শিÿার্থী ও ৫ জন শিÿক রয়েছেন। প্রায় একই অবস্থা উপজেলার দÿিণ শিহিপাশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। শিÿা কর্মকর্তা মো. সিরাজুল হক তালুকদার জানান, উত্তর শিহিপাশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পুর্ব সুজনকাঠী, সেরাল, পূর্বসুজনকাঠী আইডিয়াল, পশ্চিম সুজনকাঠী, নাঘিরপাড়, দাসপট্টি, রাংতা, পূর্ব আস্কর, বাগধা, পয়সা, পশ্চিম আমবৌলা, ফেনাবাড়ি, চক্রবাড়ি ও তালতারমাঠ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ১৫টি বিদ্যালয় অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ও ১৩টি বিদ্যালয় ঝুঁকিপূর্ণসহ মোট ২৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। বিদ্যালয়গুলো চিহ্নিত করে উপজেলা প্রাথমিক শিÿা ও উপজেলা প্রকৌশল বিভাগ থেকে জেলা দফতরকে অবহিত করা হয়েছে।
একাধিক অভিভাবক জানান, ভবন ধসে যে কোনও সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকায় অনেকেই নিজ সন্তানদের ঠিকমতো বিদ্যালয়ে পাঠাচ্ছেন না। আবার অনেকে সন্তানকে নিয়ে এসে ক্লাস শেষে আবার বাড়ি নিয়ে যাচ্ছেন। বিদ্যালয়গুলোর একাধিক শিÿকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, যেদিন ছুটির সময় পার হওয়ার পরও ক্লাস চলে, সেদিন অভিভাবকরা ফোন করে কোনও দুর্ঘটনা ঘটেছে কিনা তা জানতে চান। সন্তানকে বিদ্যালয়ে পাঠিয়ে সবাই এক ধরনের আতঙ্কের মধ্যে থাকেন। আবার শিÿক-শিÿার্থীরাও প্রাণহানির শঙ্কার মধ্যে লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছেন, যা শিÿার সুষ্ঠু পরিবেশ ব্যাহত করছে। এব্যাপারে বরিশাল বিভাগীয় প্রাথমিক শিÿা অধিদফতরের উপ-পরিচালক এসএম ফারুক জানান, ‘জেলা ও উপজেলা শিÿা অফিস থেকে জরাজীর্ণ বিদ্যালয় ভবনের তথ্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। ঢাকা থেকে বরাদ্দ পাওয়া গেলে সংস্কার কাজ শুরু করা হবে।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
   
Website Design and Developed By Engineer BD Network