৭ই মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, রবিবার

 

কলসকাঠী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী মোখলেস দলে অনুপ্রবেশকারী!

আপডেট: নভেম্বর ১২, ২০১৯

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক
একসময়ের জামায়াত-শিবিরের নেতা পরে ভোল পাল্টে সুযোগ সন্ধানী হিসেবে আওয়ামী লীগ নেতা বনে যান। এখানেই শেষ নয় নিজের নানা অন্যায় অপকর্ম থেকে রক্ষা পেতে কৌশলে অনুপ্রবেশ করেন ক্ষমতাসীন দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে। এলাকায় নানান অপকর্ম ও প্রভাব বিস্তার করতেই রাজনীতির নানা রঙ ধারণ করেন তিনি। তিনি আর কেউ নন তিনি হলেন বাকেরগঞ্জ উপজেলার কলসকাঠী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক মোখলেসুর রহমান। আগামী ১৩ নভেম্বর বুধবার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে তিনি সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ১৯৮০ সালের দিকে তিনি কলসকাঠী ইউনিয়ন ছাত্র শিবিরের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন৷ ওই সময় তিনি ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের নিয়ে কলসকাঠী শহীদ মিনার চত্বরে একটি সমাবেশের আয়োজন করেন। স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের তাড়া খেলে সমাবেশ পন্ড হয়ে যায়। কলসকাঠী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আব্দুল মজিদ খানের বড় ভাই প্রবাসী একে খান তার ফেসবুক আইডিতে মন্তব্য করে এর সত্যতা তুলে ধরেন। তিনি তখন আওয়ামীলীগের তোপের মুখে এলাকা ছেড়ে ঢাকায় গিয়ে ধোলাইখালে ন্যাশনাল মার্কেটিং নামের একটি প্রতিষ্ঠানে সেলসম্যানের চাকুরি নেন। পরবর্তীতে ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে প্রেক্ষাপট পরিবর্তন হলে এলাকায় আসতে শুরু করেন। এলাকায় আসার সুবাদে সুযোগসন্ধানী মোখলেসুর রহমান ওই সময় আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশ করেন।
২০১২ সালে আওয়ামী লীগের কলসকাঠী ইউনিয়ন শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক পদ বাগিয়ে নিতে সক্ষম হন হাইব্রিড নেতা মোখলেসুর রহমান। অথচ এর আগে তিনি কখনো আওয়ামী লীগের সদস্য পদেও ছিলেন না। এমনকি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কার্যক্রম ও দলের কোনো সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডেও তাকে দেখা যায়নি। আওয়ামীলীগে অনুপ্রবেশকারী হাইব্রিড নেতা মোখলেসুর রহমান এবছর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে দলের সাধারণ সম্পাদক পদের প্রার্থী। অপরদিকে আওয়ামী লীগের রাজনীতির ত্যাগী ও নিবেদিতরা বলছেন জননেত্রী শেখ হাসিনা দলে অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে হার্ডলাইনে রয়েছেন।
এরকম ব্যক্তিরা যাতে ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে না করতে পারে কিন্তু দলে কোন পদ পদবী পেতে না পারেন, সেজন্য দলের হাই কমান্ড জোড়েসোড়ে কাজ করে যাচ্ছেন। দলের তৃণমূল নেতাদের অভিযোগ, মোখলেসুর রহমানের মত অনুপ্রবেশকারীদের কারণে দলের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতারা আজ অবমূল্যায়নের শিকার হচ্ছেন। পাশাপাশি এসব অনুপ্রবেশকারীদের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কঠোর অবস্থানের ভুসি প্রশংসা করেছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের ত্যাগী ও নিবেদিতরা। তৃণমূল নেতাকর্মীরা আশা প্রকাশ করেন উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতারাও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এ ঘ সাথে একমত পোষণ করবেন। অভিযুক্ত মোখলেসুর রহমানের কাছে বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
 
Website Design and Developed By Engineer BD Network