১৮ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, শুক্রবার

আলতাফ মাহমুদ সংগীত বিদ্যালয় রক্ষায় বরিশালবাসীর খোলা চিঠি

আপডেট: ডিসেম্বর ১, ২০১৯

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

’৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধে পাক হানাদার বাহিনীর নির্মম অত্যাচারে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আলতাফ মাহমুদ বাঙ্গালী জাতির অহংকারের পাশাপাশি বরিশালের গর্ব। ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারী…।’ এই গানের অমর সুরকার ও একুশে পদকপ্রাপ্ত এই সংস্কৃতি ব্যক্তিত্ব স্বাধীনতা পূর্ব বরিশাল সহ সারাদেশে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ও মুক্তিসংগ্রামে নিবেদিত ছিলেন। স্বাধীনতা পরবর্তী ১৯৭২ সনে শহীদ আলতাফ মাহমুদ সংগীত বিদ্যালয় বরিশালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ১৯৮০ সন থেকে জেলা প্রশাসনের সহায়তায় নগরের হাসপাতাল রোডস্থ বর্তমান ভবনটিতে কার্যক্রম শুরু করে। ১৯৮৫ ও ১৯৮৬ সনে দু-দফায় জেলা প্রশাসন একতলা ভবন ও জমি বরাদ্দ দেয় এবং ২০১২ সনে শহীদ আলতাফ মাহমুদ সংগীত বিদ্যালয়, বাংলাদেশ সরকার গেজেটের ২৯০নং তালিকাভূক্ত করে (অতিরিক্ত, এপ্রিল ৩০,২০১২ তারিখ বরিশাল নগরের অর্পিত সম্পত্তি)। ৫০নং বগুড়া-আলেকান্দা মৌজার এসএ খতিয়ান-১৩৪ হাল দাগ-৩১৪৮এর বর্তমানে ডিপি নং ১/১ নং খাস খতিয়ান ৪৫০১/১ এর হালদাগ-৪৬২৫ এর জমি ০৯৪৬ পরিমান অন্তর্ভূক্ত হয়েছে। ভূমিদস্যূরা ক-তালিকাভূক্ত এই ভিপি ভূমি দখলে আদালতে মূল মালিক অক্ষয় কুমার ও তার ওয়ারিশগনের অনুপুস্থিতে নানা জাল-জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছে। মূলতঃ এই ভূমি দখলের প্রক্রিয়া শুরু হয় জনৈক লুৎফন্নেছা দখলদার মালিকানার? ওয়ারিশ রফিক উদ্দিন আহম্মদ রফিজ গংদের নিকট থেকে ২০০৮ সনে আম মোক্তার দলিলের হাসপাতাল রোডেস্থ শৈল দে জং-শ্রী বিজয় কৃষ্ণ দে কর্তৃক ক্রয় পরবর্তী থেকে। শহীদ আলতাফ মাহমুদ সংগীত বিদ্যালয়টি দখলের পাঁয়তারার অংশ হিসেবে বিভিন্ন সময়ে প্রশাসনের অসৎ ব্যক্তি ও বিদ্যালয়ের কাউকে কাউকে নানা প্রলবনে একাট্টা করে বর্তমানে এই অবস্থার সৃষ্টি করেছে। সহজভাবে প্রশ্ন দাঁড়িয়েছে সরকার কর্তৃক বরাদ্দকৃত এই ভবনে ১৯৮০ সন থেকে শহীদ আলতাফ মাহামুদ সংগীত বিদ্যালয়টি নিয়মিত পরিচালিত হলেও সমাজে সাদামনের? মানুষ হিসেবে পরিচিত বিজয় কৃষ্ণ দে তার স্ত্রীর নামে এই ভবনটি ক্রয়ের সাহস কোথায় পেলেন। সরকারের ‘ক’ তফসিল তালিকাভূক্ত অর্পিত সম্পত্তি যেখানে হস্তান্তর আইনের অযোগ্য সেখানে কার দায়ে আজ শহীদ আলতাফ মাহামুদ সংগীত বিদ্যালয়টি এই হুমকির মূখোমুখি। সরকারের এত সহায়তা সত্বেও সংগ্রাম আন্দোলনের প্রতিক শহীদ আলতাফ মাহমুদ সংগীত বিদ্যালয়টি বিকশিত না হবার পিছনে শস্যের মধ্যে ভূতের ন্যায় বিদ্যালয়ে ঘাপটি মেরে থাকা সদস্যদের দায়ও কম নয়।

দেশ আজ সাম্প্রদায়িকতা ও মৌলবাদ বিরোধী কঠিন সংগ্রামে রত এবং এর বিরুদ্ধে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলন দেশময় বিকাশ করা অত্যন্ত জরুরী। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশ গড়ার লক্ষ্যে সাংস্কৃতিক পরিমন্ডলকে বিস্তৃত করার আহ্বান তুলেছেন। এমতাবস্থায় শহীদ আলতাফ মাহামুদ সংগীত বিদ্যালয়টি রক্ষা করা সহ স্থায়ী বন্দোবস্ত একান্ত জরুরী। বরিশালের সংগ্রামী জনতা এই দখলদার অপশক্তির বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ।

আশাকরি সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে এই সকল ভূমিদস্যু ও অপশক্তি নির্মূল হবে এবং শহীদ আলতাফ মাহমুদ সংগীত বিদ্যালয়টি বরিশালে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বিশেষ অবদান রাখার সুযোগ পাবে।

আসুন, মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের সকলে এগিয়ে আসি।

——————————————————————–

শহীদ আলতাফ মাহমুদ সংগীত বিদ্যালয় রক্ষায় বরিশালবাসী।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
   
Website Design and Developed By Engineer BD Network