১৬ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার

বরিশালের মানুষই সিদ্ধান্ত নেবেন, সঙ্গীত বিদ্যালয়টি থাকবে কি না-আলতাফ মাহমুদের কন্যার আক্ষেপ

আপডেট: ডিসেম্বর ২, ২০১৯

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

ভাষাসংগ্রামী, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা সুরকার আলতাফ মাহমুদ সঙ্গীত বিদ্যালয়ের সম্পত্তি দখলের চেষ্টা চলছে। বরিশাল জেলা প্রশাসন থেকে ১০ শতাংশ অর্পিত সম্পত্তি লিজ নিয়ে ১৯৭২ সাল থেকে বিদ্যালয়টি পরিচালনা করে আসছে পরিচালনা কমিটি। নগরীর হাসপাতাল সড়কে ৪৭ বছর আগের প্রতিষ্ঠিত এই সঙ্গীত বিদ্যালয়টি নিজের বলে দাবি করে দখলের চেষ্টা করছেন জনৈক শৈল দে। তিনি বরিশাল যুগ্ম জেলা জজ ও অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আদালতে মামলা করেছেন। এই প্রেক্ষাপটে শহীদ আলতাফ মাহমুদের কন্যা শাওন মাহমুদ আক্ষেপ করে ফেসবুকে লিখেছেন, বরিশালের মানুষই সিদ্ধান্ত নেবেন, সঙ্গীত বিদ্যালয়টি থাকবে কি না।

জানা গেছে, ১৯৯৯ সালে নগরীর রূপাতলী এলাকার বাসিন্দা রফিক উদ্দিন আহম্মেদ রফিজ ও তার পরিবারের সদস্যরা ওই জমি তাদের দাবি করে জিয়াউদ্দিন হাসান কবিরকে রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার দায়িত্ব দেন। কিন্তু ২০০৭ সালে ওই জমি অর্পিত সম্পত্তি হিসেবে সরকারি গেজেটভুক্ত হয়। ২০০৮ সালে রফিক উদ্দিন আহম্মেদ রফিজ ও তার পরিবারের সাত সদস্য ওই জমি শৈল দের কাছে ১৬ লক্ষ টাকায় বিক্রি করেন। ২০১২ সালে বিএস রেকর্ডেও সঙ্গীত বিদ্যালয়ের ওই জমি জেলা প্রশাসনে এক নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত হয়। এদিকে, ক্রেতা শৈল দে দখলে যেতে না পেরে ২০১৩ সালে বরিশালের যুগ্ম জেলা জজ ও অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আদালতে জেলা প্রশাসককে বিবাদী করে মামলা করেন। ওই মামলার বাদী শৈল দে দাবি করেন, তিনি ওই জলি দলিল মূলে কিনেছেন।

জেলা প্রশাসনের অর্পিত সম্পত্তি সেল থেকে আদালতে দেয়া বর্ণনায় বলা হয়েছে, জমিটিতে সরকার পক্ষে লিজ ছাড়া অন্য কারও স্বত্ব বা দখল নেই। এ জমি নগরের প্রাণকেন্দ্রে ও অধিক মূল্যবান হওয়ায় জালিয়াতির মাধ্যমে কাগজ সৃষ্টি করে মামলা করা হয়েছে। বরিশালের সামাজিক-সাংস্কৃতিক নেতাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সঙ্গীত বিদ্যালয়টি রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

বরিশাল সাংস্কৃতিক সংগঠন সমন্বয পরিষদের সভাপতি কাজল ঘোষ বলেন, শহীদ আলতাফ মাহমুদ বাঙালির জাতীয় সত্তার প্রতীক। তার স্মৃতি রক্ষা করা আমাদের কর্তব্য। তাই শহীদ আলতাফ মাহমুদের নামে প্রতিষ্ঠিত সঙ্গীত বিদ্যালয়টি যে স্থানে আছে সেখানেই রাখতে প্রয়োজনে বরিশালের সংস্কৃতি কর্মীরা আন্দোলনে নামবেন।
বরিশাল সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের সদস্য সচিব কাজী এনায়েত হোসেন বলেন, ১৯৭২ সালে বরিশাল নগরের বেশ কয়েকজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আলতাফ মাহমুদর নামে সঙ্গীত বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। পরে জমিটি সঙ্গীত বিদ্যালয়ের নামে লিজ দেয় জেলা প্রশাসন। তখন থেকেই হাসপাতাল সড়কের পুরোনো একতলা ভবনে শহীদ আলতাফ মাহমুদ সঙ্গীত বিদ্যালয়ের কার্যক্রম চলতে থাকে। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক অজিয়র রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, জমিটি রক্ষায় সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাবেন।

এ ব্যাপারে শহীদ আলতাফ মাহমুদের কন্যা শাওন মাহমুদ ফেইসবুকে বিদ্যালয়ের একটি ছবি দিয়ে আবেগঘন স্ট্যাটাসে লিখেন, ‘শহীদ আলতাফ মাহমুদ সঙ্গীত বিদ্যালয়। তিন বছর আগে একদিনের জন্য বরিশাল গিয়েছিলাম। বিদ্যালয়টির কথা অনেক শুনেছিলাম তাই লঞ্চ থেকে নেমেই কাক ডাকা ভোরে দেখতে গিয়েছিলাম। ঝরঝরে দেয়াল, ঘুণে খাওয়া দরজা নিয়ে বিদ্যালয়টি চুপ করে আমার সাথে দেখা করেছিল। খুব মন খারাপ করে চলে এসেছিলাম। সেদিন বিকেলে শুনেছিলাম, এটা দখলের চেষ্টা হচ্ছে। ভেবে নিয়েছিলাম, আমি যেহেতু সেই বিদ্যালয়ের সাথে জড়িত নই, যারা জড়িত তারা বিষয়টা সমাধান করবে। হয়তো তাদের সাধ্যে কুলায়নি আর। বরিশালবাসীর কাছে বিষয়টা ছেড়ে দিলাম। তারা সিদ্ধান্ত নিবে, শহীদ আলতাফ মাহমুদ সঙ্গীত বিদ্যালয়টি থাকবে, না থাকবে না!!!’

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন