২৬শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, মঙ্গলবার

শিরোনাম
অসুস্থ ক্যাসিনো সম্রাট পর্যটন স্পট বারেকের টিলায় ভারতীয় গবাদি পশুর চালান আটক অনলাইন সমাবেশ: সাম্প্রদায়িক আক্রমণের প্রতিবাদে ১৫টি দেশের দুই শতাধিক অভিবাসী স্বাক্ষরিত ঘোষণা ভোলায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে নদীতে নামার প্রস্ততি নিচ্ছে জেলেরা ওবায়দুল কাদেরের স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগে দিনাজপুর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সোহাগ ​জেল হাজতে নিসংষভাবে স্বামীকে কুপিয়ে হত্যা করলো স্ত্রী ট্রান্সফ্যাট নিয়ন্ত্রণ প্রবিধানমালা প্রণয়নের কাজ শেষ: অপেক্ষা প্রকাশের স্বপ্নের ‘পায়রা সেতু’ উন্মুক্ত : উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী ফেসবুকে স্ট্যাটাস লিখে বিজিবি সদস্যের আত্মহত্যা

দখলদারদের কুদৃষ্টি পড়েছে চন্দ্রকান্ত চার্চের উপর

আপডেট: ডিসেম্বর ২০, ২০১৯

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

নিরাপত্তাহীনতায় যাজকরা

সাইদুর রহমান পান্থ, বরিশাল ব্যুরো
দখলদারদের কুদৃষ্টি পড়েছে ৪৫ বছরের পুরাতন বরিশালের উজিরপুরের চন্দ্রকান্ত মেমোরিয়াল চার্চের (গির্জা বাড়ী) উপর। ওই চক্র চার্চের জমি দখল করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। যার কারণে চার্চের সদস্যদের উপর হামলা করছে। এখানকার ধর্ম প্রচারকদের তাড়িয়ে গির্জাবাড়ীর দখল নিতে তারা বেছে নিয়েছে নির্যাতনের পথ। ধর্ম প্রচারকদের ওপর প্রতিনিয়ত হামলা ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছে ওই চক্রটি। এমকি চার্চের সীমানার তারকাটা কেটে ফেলেছে এই চক্রটি। এসব কারণে চার্চের যাজক হ্যানসন দানিয়েল হাঁসদা উজিরপুর থানায় দুইটি সাধারণ ডায়েরি করেও কোন সুফল পাচ্ছেনা। তবে ওই চক্রের অগ্রভাগে রয়েছে খ্রিস্ট ধর্মেরই কিছু ‘পথভ্রষ্ট’ মানুষ। এই চক্রের হোতাদের মধ্যে রয়েছে অসিম সমদ্দার কুডু, লিটন সমদ্দার, সৈকত সমদ্দার, মিল্টন সমদ্দার, তিমন সমদ্দার, দ্বিজেন সমদ্দার গং। প্রতিষ্ঠাতার বংশধর, তবে তারা এই চার্চের নিয়ম-কানুন মানেনা। এছাড়া কেউ কেউ অন্য চার্চভুক্ত।

জানা গেছে, স্বর্গীয় হৃদয় রঞ্জন সমদ্দার ১৯৭৪ সালে বরিশালের উজিরপুর উপজেলার গুঠিয়া ইউনিয়নের বৈরকাঠি গ্রামে এ অঞ্চলের ধর্ম প্রচারকদের জন্য ‘অল-ওয়ান-ইন-ক্রাইস্টচার্চ ফেলোশিপ’ চন্দ্রকান্ত মেমোরিয়াল চার্চটি প্রতিষ্ঠা করেন। তখন থেকে এই অঞ্চলে খ্রিস্ট ধর্ম প্রচারে এই চার্চের নিবাসীরা কাজ করে আসছেন। ধর্ম প্রচারকরা বিভিন্ন স্থান থেকে এসে এখানে রাতযাপন ও আহার গ্রহণ করেন। যার অর্থের সংস্থান হয় মানুষের দানের টাকায়।

১৯৭৩ সালে চার্চ প্রতিষ্ঠার সময় এবং পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠাতা নিজে ও বিভিন্ন জনের কাছ থেকে চার্চের জন্য ২ একর ৯৭ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। যার ওপর প্রতিষ্ঠা করেন এই চন্দ্রকান্ত মেমোরিয়াল চার্চ। এই চার্চের বিশেষত্ব হচ্ছে, এখানে শুধু তারাই থাকতে পারবে, যে ধর্ম প্রচারক, বিয়ে-সংসার থেকে দূরে থেকে ‘একমাত্র যিশুর প্রেমে সহভাগিতা মন্ডলী সম্পূর্ণ পৈরিতিক ও ভাববাদিক শিক্ষার ভিত্তিমূলে’ চলবে। এখন এই বিশ্বাস ও শিক্ষা থেকে বেরিয়ে ভ্রান্ত পথে চলে যাওয়া একটি চক্র এই পবিত্র চার্চকে অপবিত্র করার চেষ্টা চালাচ্ছে। এই চার্চটি রক্ষায় প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এখানকার বাসিন্দা ধর্ম প্রচারকরা।

জানা গেছে, গত ২০১৬ সালের ৭ মে ও পরের বছর ৪ মে দুই জনের মৃত দেহ গির্জাবাড়ি উপাসনালয়ের গৃহে জোর পূর্ব প্রবেশ করানো হয়। যা এই চার্চের নিয়ন-নীতি বহি:ভুত। এই দুইটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই চার্চের যাজক ও সদস্যদের মারধর করা হয়। এমনকি এই চার্চের প্রতিষ্ঠাতার প্র-পিতামহ চন্দ্রকান্ত সমদ্দার এর সমাধি সৌধ ভাংচুর করে। পাশাপাশি ২৪ ঘন্টার মধ্যে যাজদের চার্চ ছেড়ে চলে যেতে হুমকী-দামকী প্রদান করে। নতুবা প্রানে মেরে ফেলা হবে বলেও হুশিয়ারী দেন।
২০১৮ সালের ৪ মে চার্চের একজন যাজক তপন কুমার সমদ্দার এর স্মৃতি বার্ষিকী সভার আয়োজন করা হয়। কিন্তু লিটন-মিল্টনরা এই অনুষ্ঠান করতে দেয়নি। তারা ৩ মে এসে সভার সব কাজ বিনষ্ট করে দেয়। এদিকে চার্চ ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকী-দামকী পরও চার্চ না ছাড়ার অপরাধে ওই বছর ২৫ জুন চার্চের যাজক হ্যানসন দানিয়েল হাঁসদা এবং প্রবীন সদস্য আন্দ্রিয় বাড়ৈকে বেধরক মারধর করে লিটন সমদ্দার ও তিমন সমদ্দার।

এ ঘটনায় ওই দিনই উজিরপুর থানায় যাজক হ্যানসন দানিয়েল হাঁসদা সাধারণ ডায়রী করলেও কোন সুফল বা দোষীদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। অদৃশ্য কারণে পুলিশ প্রশাসন এমন আচরন করছেন। এদিকে যাজক হ্যানসন দানিয়েল হাঁসদা গুম হয়েছে বলে হাঁসদার বাবা-মাকে রাজশাহী থেকে প্রভাবিত করে এনে চার্চের অন্যান্যদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করানো হয়। যদিও পরে দানিয়েল হাঁসদা আদালতে স্ব-শরীরে হাজির হয়ে বলেছেন আমি গুম হইনি। পরে মামলা খারিজ হয়ে যায়।
পরে ২২ নভেম্বর চার্চের জমি দখল করার জন্য জমির পিলার তুলে ফেলা হয়। এমনকি তারকাটাও ফেলে দেয়।

চার্চের সাইনবোর্ড ফেলে দিয়ে নতুন করে লিটন-মিল্টন-সৈকতরা ওই জমির মালিকানা দাবী করে সাইনবোর্ড সেটে দেন। এ ঘটনায় বাঁধা দিতে গেলে যাজক প্রেমানন্দ সরকারকে লোহার পাইপ দিয়ে মেরে গুরুতর জখম করে। সর্বশেষ চলতি বছরের ১৫ আগস্ট চার্চের যাজক কম্পাউন্ডে বসে সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটানো হয়। মিল্টন সমাদ্দার, লিটন সমাদ্দার, অসীম সমাদ্দারসহ চক্রের সদস্যরা চার্চের পবিত্রতা নষ্ট করে চার্চের তারকাটার বেড়া কেটে লোকার গেট স্থাপন করেছে। যে ঘটনায় ২২ আগস্ট চার্চের যাজক হ্যানসন দারিয়েল হাঁসদা উজিরপুর থানায় আরো একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। কিন্তু অসাধু চক্রটি এরপরও নানাভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে ও যাজকদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে।
প্রচলিত বিশ্বাস ও শিক্ষা থেকে বেরিয়ে ভ্রান্ত পথে পরিচালিত হয়ে এই পবিত্র চার্চকে এবং চার্চের নিয়মনীতি ও অস্তিত্ব বিলুপ্ত করে দখলের চেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে। ‘চক্রটি বিভিন্ন সময়ে অহেতুক মিথ্যা ধর্মকর্ম করার নামে যখন তখন যাজকদেরউপর চড়াও হচ্ছে, শারীরিক ও মানসিক ভাবে নির্যাতন করছে এবং প্রাণ নাশের হুমকি দিয়ে চার্চ থেকে যাজকদের উৎখাতের চেষ্টা করছে। তারা বিভিন্ন সময়ে কম্পাউন্ডে ঢুকে হট্টগোল ও অরজকতা তৈরী করছে এবং কম্পাউন্ডের বাইরেও যাজকদের শারীরিক ও মানসিক ভাবে লাঞ্ছিত করছে।

এসময় ঘটনায় চার্চে ধর্মীয় কার্যক্রম সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার দাবিতে গত ৪ ডিসেম্বর বরিশালে সংবাদ সম্মেলন করেছে। সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন চন্দ্রকান্ত মেমোরিয়াল চার্চের (ফেলোশিপ চার্চ) যাজক রাজু পাড়ৈ।
এ বিষয়ে চার্চের যাজক প্রেমানন্দ সরকার বলেন, আমরা প্রতিনিয়ত প্রান নিয়ে শংকায় রয়েছি। যে কোন সময় ওই দুষ্টু চক্র হামলা চালাতে পারে এই চার্চে ও যাজকদের উপরে। লুট করে নিতে পারে চার্চের সম্পত্তি। নিরাপত্তার চেয়ে তিনি সরকারের প্রতি আবেদন জানিয়েছেন। তবে অসিম সমদ্দার কুডু, সৈকত সমদ্দার, মিল্টন সমদ্দার ও তিমন সমদ্দারের মধ্যে লিটন সমদ্দারের মন্তব্য নিতে গেলে তিনি উল্টো জানান, ‘আমার উপর হামলা করেছে। আমার গাড়ি ভাংচুর করেছে।’

তিনি বলেন, ‘আমি প্রতিষ্ঠাতার ভাইয়ের ছেলে। আমাদেরকে গির্জায় ঢুকতে দেয়া হয় না। আমার বাবাকেও ঢুকতে দেয়া হয় না। এছাড়া আমাদের বাড়ির পাশ থেকে এই গেট ছিল। যেটাকে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ওনাদের মধ্যে একজন মাত্র যাজক। বাকিরা যাজক পরিচয় দিয়ে চলছে। ওনাদের সব অভিযোগ মিথ্যা। মুলত আমার বাপ-চাচাদের দান করা চার্চের জমি দখল করতে এরা এসব করছে।’ ##

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
   
Website Design and Developed By Engineer BD Network