২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, শুক্রবার

 

অভিনেত্রী হতে না পেরে যে পথ বেছে নেন পূবাইলের তানিয়া

আপডেট: ডিসেম্বর ২৩, ২০১৯

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

পূবাইল থানার তালটিয়া এলাকায় প্রতারণার সময় এবার জনতার হাতে আটক হলেন সেই তানিয়া সিকদার (২৮)। তানিয়ার সঙ্গে আটক অন্যরা হলেন- হালিমা আক্তার দুলালী (২৭), গাড়িচালক আলমগীর হোসেন (৩৮)।

পূবাইল থানা ওসি নাজমুল হক ভুইয়া যুগান্তরকে জানান, এই তানিয়ার নামে পুলিশ রেকর্ড অনুযায়ী ঢাকা-গাজীপুর মিলিয়ে প্রায় ২৭টি প্রতারণা মামলা রয়েছে। এবার পূবাইল থানায় একটি মাদক মামলাসহ একটি প্রতারণা মামলা হল। তিনি জানান, তানিয়ার কাছ থেকে জব্দ করা হয়েছে প্রতারণায় ব্যবহার করা একটি সাদা প্রাইভেটকার, নগদ ৪৬ হাজার টাকা,৭৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, তিনটি মোবাইল, কিছু ইমিটেশনের গহনা।

একাধিক মামলায় রিমান্ডে চুরির ঘটনা স্বীকার করা সত্ত্বেও প্রতিবারই আদালত থেকে জামিনে ছাড়া পেয়ে আবারও শুরু করেন অভিনব কৌশলে প্রতারণা। ঢাকার পর এবার গাজীপুর মহানগরীর পূবাইল থানার ৪২ নম্বর ওয়ার্ডের তালটিয়ার পূর্বপাড়া এলাকায় শুক্রবার মনিরুল ইসলামের বাড়িতে প্রতারণা করতে গিয়ে ধরা পড়েন ওই রূপবতী প্রতারক।

তানিয়ার এক একটি প্রতারণার কাহিনী নাটক কিংবা সিনেমার গল্পকেও হার মানায়। নিপুণ কৌশলে প্রতারণাকে তিনি নিয়ে গেছেন শিল্পের পর্যায়ে। পার্শ্ব নায়িকায় কাজ করার অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে দীর্ঘদিন বুনেছেন প্রতারণার ফাঁদ। সেই ফাঁদে পা দিয়েছেন অনেক প্রবাসী পরিবারের সন্তানরা।

প্রবাসে অবস্থান করছেন এমন ব্যক্তির দেশে বসবাসরত স্বজনরাই তার টার্গেট। তাদের কাছ থেকে অভিনব কৌশলে হাতিয়ে নিয়েছেন লাখ লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকার। চুরির পথ বেছে নেয়ার কারণ প্রসঙ্গে তানিয়া সিকদার বলেন, সাধ ছিল নায়িকা হওয়ার। সেটা হতে গিয়ে বিভিন্ন জনের কাছে প্রতারিত হয়েছি। একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে প্রতারণা ও চুরিকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছি।

তানিয়া জানিয়েছেন, তিনি সোশ্যাল মিডিয়াসহ বিভিন্ন সূত্রে বিত্তশালী লোকজনের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলতেন। বিভিন্ন লোকজনের সঙ্গে কথা বলে তাদের স্বজনদের তথ্য সংগ্রহ করেন। সুযোগ বুঝে তাদের কাছের লোক কিংবা স্বজন পরিচয় দিয়ে বাসায় যান। ডলার ভাঙানোর বা জমা রাখার ফাঁদ ব্যবহার করে কখনও পানি খাওয়ার বাহানা, কখনও অন্য কোনো বাহানায় অর্থকড়ি নিয়ে সটকে পড়েন। চুরি করে নিয়ে যাওয়া স্বর্ণালংকার প্রতারণা চক্রের সদস্যেদের মাধ্যমে বিভিন্ন জুয়েলার্সে বিক্রি করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তানিয়ার গ্রেফতার হওয়া বা জেলখাটা এবারই প্রথম নয়। এর আগে তিন দফায় প্রথমে পাঁচ মাস, পরে তিন মাস এবং সবশেষে পাঁচ মাস জেল খেটেছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, এর আগে আরও আটবার জেল খেটেছেন এ নারী। কখনও সাবিয়া সানি, ডালিয়া, সাদিয়া আক্তার, তানি, নদী, নওশীন, সুমি। নিজেকে কখনও ডাক্তার,কখনও আইনজীবী, কখনও মডেল, কখনও নায়িকা পরিচয় দিয়ে বেশ কয়েক বছর ধরেই তার মোহনীয় চেহারার আড়ালে চলছে রমরমা দেহ ব্যবসা, চলছে চুরি।

তানিয়ার বিরুদ্ধে রাজধানীর আদাবর, দারুস সালাম, তেজগাঁও, নিউ মার্কেট, দক্ষিণখান, মোহাম্মদপুর, বিমানবন্দর, উত্তরা, মিরপুর, কাফরুল, শাহজাহানপুরসহ বিভিন্ন থানায় দেড় ডজনেরও বেশি প্রতারণার মামলা রয়েছে। তানিয়া শুধু ঢাকা শহরেই ২০টির বেশি চুরির ঘটনা ঘটিয়েছে। গাজীপুরে এবার প্রথমবারের মতো ধরা পড়েছে সে জনতার হাতে।

তানিয়া জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত ৬০টিরও বেশি প্রতারণা করেছেন তিনি। রূপ-যৌবনকে পুঁজি করে অভিনব কায়দায় ফাঁদে ফেলে বাসা-বাড়ি হতে অর্থ ও স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নেয়াই তার কাজ। পূবাইল থানার এসআই সাইফুল ইসলাম শুক্রবার রাত ৮টার দিকে প্রতারণার অভিযোগে তাদের গ্রেফতার করেন। পুলিশ জানায়, মনিরুলের বাসা থেকে লুট হওয়া সোনা-গয়না ও নগদ টাকা প্রতারক তানিয়ার কাছ থেকে উদ্ধারের পর পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে এ সব হস্তান্তর করা হবে।

পূবাইল থানার মামলার বাদী ও মামলা সূত্রে জানা যায়, পূবাইলের ৪২নং ওয়ার্ডের তালটিয়া পূর্বপাড়ায় মনিরুল ইসলামের বাড়ির দু’তলার দরজায় শুক্রবার বেলা দুইটার দিকে কড়া নাড়ে প্রতারক তানিয়া। মনিরুলের স্ত্রী কুহিনুর বেগম দরজা খুলতেই ওই নারী নিজের নাম লাকী জানিয়ে ঘরে ঢুকে প্রতারণা করে লুটে নেয় সোনা-গয়না ও নগদ টাকা

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
 
Website Design and Developed By Engineer BD Network