১৪ই অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, বৃহস্পতিবার

মেয়র প্রার্থীদের কার কত সম্পদ?

আপডেট: জানুয়ারি ২, ২০২০

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থীরা রিটার্নিং অফিসারদের কাছে মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দাখিল করা হলফনামায় সম্পদ ও দায়দেনার বিবরণী দিয়েছেন। এখানে কার কত সম্পদ দেখে নেওয়া যাক।

দক্ষিণের প্রার্থী:

শেখ ফজলে নূর তাপস : দক্ষিণে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসের সম্পদ অন্য প্রার্থীদের চেয়ে বেশি। তিনি আইন পেশায় নিয়োজিত। তাঁর বার্ষিক আয় ১১ কোটি ৯৭ লাখ দুই হাজার ৪৩৮ টাকা। হলফনামায় এই প্রার্থীর আয়ের উৎস উল্লেখ করা হয়েছে, কৃষি খাত, বাড়িভাড়া, ব্যবসা, শেয়ার, সঞ্চয়পত্র/ব্যাংক আমানত, শিক্ষকতা, আইন, পরামর্শক।

হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, তাপসের নিজের নামে ২৬ কোটি তিন লাখ তিন হাজার ৫৫৭ টাকা এবং স্ত্রীর নামে ৯৭ লাখ ২০৬ টাকার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। তাঁর কাছে বৈদেশিক মুদ্রা রয়েছে তিন হাজার ৭৫০ মার্কিন (ইউএস) ডলার। তাঁর স্ত্রীর আছে আট হাজার ৭০০ ইউএস ডলার। তাপসের ব্যাংক ও আর্থিক জমা আছে এক কোটি ৫৩ লাখ ৭৭ হাজার ২০৭ টাকা। তাঁর স্ত্রীর রয়েছে দুই কোটি ৫৭ লাখ ৩১ হাজার ২৩৫ টাকা। বন্ড ও পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত নয়, এমন কম্পানিতে তাঁর বিনিয়োগ রয়েছে ৪৩ কোটি ২৭ লাখ ৫৫ হাজার ৪০৪ টাকা এবং স্ত্রীর রয়েছে ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এ ছাড়া তাপসের নিজের ও স্ত্রীর অস্থাবর সম্পদ রয়েছে ৩২ কোটি ৯৫ লাখ ৯ হাজার ৩৮ টাকার। এ ছাড়া নিজের নামে এক কোটি টাকার সোনা ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতু ও পাথর নির্মিত অলংকার রয়েছে তাপসের। তাঁর স্ত্রীর নামে রয়েছে ৫০ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার। আওয়ামী লীগের এ প্রার্থী ও তাঁর স্ত্রীর ১০ লাখ টাকার ইলেকট্রনিক সামগ্রী রয়েছে। পরিবারের ১৭ লাখ টাকার আসবাবের কথা উল্লেখ করা হয়েছে হলফনামায়। তাপসের নিজের ও স্ত্রীর নামে অস্থাবর মোট সম্পত্তির পরিমাণ ১১৮ কোটি ৭৬ লাখ ২২ হাজার ৩২০ টাকা। এ দম্পতির স্থাবর সম্পদের মূল্য ছয় কোটি ৬৩ লাখ ৫৭ হাজার ৬২০ টাকা।

এ সম্পদের মধ্যে রয়েছে স্ত্রীর নামে ১১২ শতাংশ কৃষিজমি আর তাঁর নামে রয়েছে ১০ দশমিক ৫০ কাঠা। এ ছাড়া তাপসের নামে রয়েছে ৩৮ লাখ ১৯ হাজার ৫০ টাকার অকৃষি জমি এবং তাঁর স্ত্রীর নামে পাঁচ কোটি ৪০ লাখ ২৪০ হাজার টাকার অকৃষি জমি রয়েছে। তাঁর নিজের নামে আট কোটি ৩৭ লাখ ২০ হাজার ৩১৩ টাকার দালান ও আবাসিক ভবন রয়েছে। স্ত্রী ও নিজের নামে চার কোটি ৯৪ লাখ ৬২ হাজার ৩২৫ টাকা দামের বাড়ি/অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে। মোট স্থাবর সম্পদের পরিমাণ ২৫ কোটি ৭৩ লাখ ৯৯ হাজার ৫৪৮ টাকা। কেউ টাকা পাওনা না থাকলেও বাড়িভাড়া বাবদ অগ্রিম নেওয়া চার কোটি ৬৭ লাখ ৯৬ হাজার ২৫০ টাকা ভাড়াটিয়াদের কাছে দেনা রয়েছেন। এই প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় দুটি মামলা থাকলেও হাইকোর্ট বিভাগ তাঁকে অব্যাহতি দিয়েছেন।

ইশরাক হোসেন : বিএনপির প্রার্থী ইশরাক হোসেনের শিক্ষাগত যোগ্যতা এমএসসি, ইঞ্জিনিয়ারিং। তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়ের করা একটি মামলা বিচারাধীন। বিভিন্ন খাত থেকে তাঁর বার্ষিক আয় ৯ কোটি ১৫ লাখ আট হাজার ৫০৯ টাকা। তাঁর আয়ের উৎসগুলোর মধ্যে রয়েছে বাড়ি ও অ্যাপার্টমেন্ট, ব্যবসা, শেয়ার, সঞ্চয়পত্র ইত্যাদি। তাঁর অস্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে নগদ ৩৩ হাজার ১০৯ টাকা। তাঁর কোনো বৈদেশিক মুদ্রা নেই। ব্যাংক ও আর্থিক খাতে তাঁর জমাকৃত টাকার পরিমাণ এক কোটি ৩৭ লাখ ১৮ হাজার ৬৩ টাকা। শেয়ারবাজারে দুই কোটি ৯৬ লাখ টাকা, পোস্টাল, সেভিংস সার্টিফিকেটসহ ৪১ লাখ ১৩ হাজার ৫০০ টাকার বিনিয়োগ রয়েছে। এক লাখ টাকার ইলেকট্রনিক সামগ্রী এবং এক লাখ ৩১ হাজার ৪০০ টাকার আসবাবের মালিক তিনি। ইশরাকের আরো ২০ লাখ ২৪ হাজার টাকার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে।

হলফনামায় উল্লেখ করা তাঁর অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ চার কোটি ৯৮ লাখ ২০ হাজার ৭২ টাকা। ইশরাক হোসেনের স্থাবর সম্পদ রয়েছে ৩০ লাখ ২৫ হাজার ৬৫০ টাকা মূল্যের ৩৪.৫০ শতাংশ কৃষিজমি, ৩২ লাখ ৫৬ হাজার ৮০০ টাকা মূল্যের ২৯.০৯ শতাংশ অকৃষি জমি, আবাসিক ও বাণিজ্যিক এবং অ্যাপার্টমেন্ট মিলিয়ে ১৫ লাখ ৬৯ হাজার ৭৪ টাকা। হলফনামায় উল্লিখিত হিসাব অনুযায়ী ইশরাকের ক্রেডিট কার্ড, স্বল্পমেয়াদি ঋণ মিলিয়ে দেনার পরিমাণ ৬৫ লাখ ৪৬ হাজার ৭৪৩ টাকা।

মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন (মিলন) : জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন স্বশিক্ষিত। তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ধরনের মামলা নেই। তাঁর বার্ষিক আয় এক কোটি ৩৬ লাখ তিন হাজার ৪৩ টাকা। আয়ের উৎস বাড়িভাড়া, অ্যাপার্টমেন্ট, দোকানভাড়া, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। তাঁর মোট অস্থাবর সম্পদ রয়েছে এক কোটি ৪৬ লাখ ৯৬ হাজার ৯৮৯ টাকার। স্থাবর কোনো সম্পদের উল্লেখ হলফনামার বিবরণীতে নেই। তবে ব্যাংকে তাঁর দুই কোটি ৭৭ লাখ সাত হাজার ৬০১ টাকার ঋণ রয়েছে। স্ত্রীর নামে রয়েছে দুই কোটি টাকার ঋণ।

অন্যান্য : ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মো. আব্দুর রহমানও স্বশিক্ষিত। তাঁর বার্ষিক আয় আট লাখ ২৩ হাজার টাকা। আয়ের উৎস হচ্ছে কৃষি, বাড়ি, দোকানভাড়া ও ব্যবসা। তাঁর কাছে নগদ টাকা রয়েছে ৫৮ লাখ ৫২ হাজার ৯২। স্থাবর সম্পদের মধ্যে ৮৮২.৮৫ শতাংশ কৃষিজমি এবং চারতলা একটি বাড়ি রয়েছে। বাংলাদেশ কংগ্রেসের মেয়র প্রার্থী আকতারুজ্জামান ওরফে আয়াতুল্লাহর শিক্ষাগত যোগ্যতা বিএ পাস। পেশায় তিনি একজন লেখক। নেই কোনো বার্ষিক আয়। নিজের ও স্ত্রীর নামে রয়েছে ১১ লাখ ৬২ হাজার ৬০০ টাকার অস্থাবর সম্পদ। গণফ্রন্টের প্রার্থী আব্দুস সামাদ সুজন এইচএসসি পাস।

এই প্রার্থীর বার্ষিক আয় দুই লাখ ৪০ হাজার টাকা। আয়ের উৎস হচ্ছে কৃষি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। তাঁর নিজের ও স্ত্রীর অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ এক লাখ ৫০ হাজার টাকার। স্থাবর সম্পদের মধ্যে নিজের নামে তিন বিঘা জমি, যার মূল্য ৩০ হাজার টাকা এবং শাহজাহানপুরে এক কাঠা জমির ওপর চারতলা একটি ভবনের অর্ধেক তাঁর নিজের নামে। ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) প্রার্থী বাহরানে সুলতান বাহার স্বশিক্ষিত। তাঁর বিরুদ্ধে দুটি মামলা বিচারাধীন। তাঁর বার্ষিক আয় দুই লাখ ২০ হাজার টাকা।

উত্তরের প্রার্থী:

আতিকুল ইসলাম : গত বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি উত্তর সিটির উপনির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের আতিকুল ইসলাম। সেই সময়ে তাঁর গৃহঋণ ছিল এক কোটি ১০ লাখ ৭৫ হাজার টাকার। এবার তাঁর নামে আইএফআইসি ব্যাংকে ৯৮ লাখ ৮৯ হাজার টাকা ঋণ রয়েছে। সেই সময়ের মতো নিজের নামে বাড়ি থাকার বিষয়টি হলফনামায় উল্লেখ করেছেন। তবে এবার তাঁর গাড়ি নেই। আওয়ামী লীগের এ প্রার্থী পেশায় একজন ব্যবসায়ী। তাঁর ১৬টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে।

বিকম ডিগ্রিধারী আতিকুল ইসলামের নামে বর্তমানে বা অতীতে মামলা হয়নি। তাঁর বার্ষিক আয় এক কোটি ২৯ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। আয়ের উৎস হচ্ছে—কৃষি খাত, ব্যবসা, বাড়িভাড়া, মৎস্য চাষ ও ব্যাংক সুদ। আতিকুল ইসলামের অস্থাবর সম্পদ চার কোটি ৮৬ লাখ ৬৯ হাজার টাকা ও স্থাবর সম্পদের মূল্যমান ১৩ কোটি ৯৭ লাখ ৯২ হাজার টাকা। তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নামে বিভিন্ন ব্যাংকে ৫৯১ কোটি ছয় লাখ টাকা ঋণ রয়েছে।

তাবিথ আউয়াল : পেশায় ব্যবসায়ী বিএনপির মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়ালের অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৪৫ কোটি ৬০ লাখ আট হাজার টাকা। এর বাইরে স্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে ৪ দশমিক ২৪ একর কৃষিজমি, ১৬ দশমিক ৪৮ একর অকৃষি জমি, দশমিক ৫৬ একর অন্যান্য জমি রয়েছে। এ ছাড়া রয়েছে ৯২৪ ও এক হাজার ৪৩ বর্গফুট আয়তনের দুটি অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে তাঁর। বিভিন্ন ব্যাংক থেকে তাঁর প্রতিষ্ঠানগুলোর নামে ঋণ নেওয়া হয়েছে ৩০২ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। তিনি ৩৭টি প্রতিষ্ঠানের মালিকানায় রয়েছেন। শিক্ষাগত যোগ্যতা এমএসসি। তাঁর বার্ষিক আয় চার কোটি ১২ লাখ ৭৩ হাজার টাকা। বর্তমানে তাঁর নামে কোনো মামলা নেই, অতীতেও ছিল না।

জি এম কামরুল : জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থী সাবেক সেনা কর্মকর্তা জি এম কামরুল ইসলাম এমফিল ডিগ্রিধারী। পেশায় তিনি ব্যবসায়ী। তাঁর বার্ষিক আয় প্রায় ২১ লাখ টাকা। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে ব্যাংকে রয়েছে ২০ লাখ টাকা। রয়েছে এক কোটি ১২ লাখ টাকার মূল্যমানের যানবাহন। স্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে আট বিঘা কৃষিজমি, সাত কাঠা অকৃষি জমি এবং সাত কোটি টাকা মূল্যমানের ভবন। তাঁর কোনো দায়দেনা নেই।

অন্যান্য : বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী আহাম্মদ সাজেদুল হক পেশায় একজন দন্ত চিকিৎসক। এ পেশা থেকে তাঁর বার্ষিক আয় তিন লাখ ছয় হাজার টাকা। প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দলের (পিডিপি) মেয়র প্রার্থী শাহীন খান স্বশিক্ষিত। তাঁর নিজের কোনো আয় নেই। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা নগদ, ব্যাংকে তিন লাখ, একটি গাড়ি ও তিন ভরি স্বর্ণ রয়েছে। স্থাবর কোনো সম্পদ নেই।

ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) একাংশের মেয়র প্রার্থী মো. আনিসুর রহমান দেওয়ান বিএসসি পাস। পেশায় রাজনীতিক ও ব্যবসায়ী। বার্ষিক আয় দুই লাখ ৭৩ হাজার ৫০০ টাকা। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে প্রায় চার লাখ টাকা নগদ। তাঁর স্ত্রীর নামে একটি ফ্ল্যাট রয়েছে।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
   
Website Design and Developed By Engineer BD Network