১১ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, মঙ্গলবার

শিরোনাম
ঈদের আগেই শ্রমিকদের বেতন বোনাস পরিশোধ করে শ্রমিকদের সাথে সহনশীল আচরণ করুন – পীর সাহেব চরমোনাই কুয়াকাটার সৈকতে ভেসে এসেছে বিশাল এক মৃত ডলফিন গ্রাম পুলিশ হত্যাকান্ডের পর অসহায় পরিবারের পাশে নেই প্রশাসন পাল্টে যাচেছ চরফ্যাশনের গ্রামীণ জনপদ : সন্ধ্যা নামলেই সৌর বাতি সুগন্ধা নদীর ভাঙ্গন প্রতিরোধে চলমান প্রকল্প পরিদর্শন করলেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বরিশালে দেড় হাজার কর্মহীনদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা সামগ্রী বিতরণ আমতলীর বারী মুগডাল-৬ জাপানে রপ্তানী বন্ধ কুয়াকাটার ধুলাসার ইউপি চেয়ারম্যান : মসজিদের টাকায় পারিবারিক কবরস্থান নির্মাণ ডিআরইউ’র সদস্যদের জন্য স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী প্রদান স্বেচ্ছাসেবক লীগের

কীর্তণখোলা নদীতে প্রতিদিন পড়ছে ৬ মন ময়লা-আবর্জনা

আপডেট: জানুয়ারি ৫, ২০২০

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

সাঈদ পান্থ
ব্যাপক দূষণের কবলে পরেছে বরিশালের কীর্তণখোলা নদী। বরিশালের প্রান হিসেবে খ্যাত এই নদীতে দেদারছে ফেলা হচ্ছে ময়লা-আবর্জণা। যাতে করে নদীর তলদেশে ময়লার স্তূপ জমে যাওয়ার আশংকা করছেন পরিবেশবিদরা।
জানা গেছে, প্রতিদিন বরিশাল থেকে ঢাকা নৌ রুটে প্রায় ২০টি লঞ্চ চলাচল করে। এতে যাত্রী সংখ্যাও থাকে স্বাভাবিক প্রায় ৫০ হাজারের অধিক। লঞ্চ বরিশাল নদী বন্দরে ফেরার পর লঞ্চে থাকা ময়লা আবর্জনা পরিচ্ছন্ন কর্মীরা কীর্তণখোলা নদীতে ফেলে। যাতে করে দূষণ বৃদ্ধি পাচ্ছে এই নদীতে। প্রতি যাত্রী গড়ে ৫ গ্রাম করে চিপস, বিস্কুট, চকলেট, বিভিন্ন পন্যের প্যাকেট, পলিথিন, পানির বোতল, কোমল পানীয়র বোতল, চা-কফির কাপ ফেলছে। যা হিসেব করলে ২৫০ কেজি হয়। সেক্ষেত্রে ৬ মনের বেশি ময়লা আর্বজনা নদীতে ফেলা হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, নদীর আশ পাশে থাকা বাজারগুলো থেকে প্রতিনিয়ত বর্জ্য ও ময়লা-আবর্জনা ফেলা হয় কীর্তণখোলা নদীতে। যে বিষয়টা সম্পর্কে নিষেধাজ্ঞা করা হলেও তা কেউ মানছে না বলে জানিয়েছেন অনেকে।
তবে বরিশাল জেলা প্রশাসক বলছেন পূর্বের থেকে এই নদীতে দূষণের মাত্রা অনেক কমেছে।
লঞ্চের স্টাফরা জানিয়েছেন, ময়লাগুলো নদীতেই ফেলা হয়। তারা পূর্বে থেকেই এই ভাবেই লঞ্চ পরিষ্কার করে থাকেন বলে দাবী করেছেন।
নদী-খাল বাঁচাও আন্দোলন কমিটির সদস্য সচিব এনায়েত হোসেন শিবলু জানান, আগামী প্রজন্ম কীর্তণখোলা নদীকে বুড়িগঙ্গার মত দেখবে। নদীর প্রতি অবিচার করছি আমরা। কীর্তণখোলা নদীটি ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য। এই নদী বরিশালের জীবন। প্রশস্তে এক কিলোমিটার থাকলেও এর আয়তন কমে যাচ্ছে। আগে যেভাবে লঞ্চ স্টিমার স্বাভাবিক ভাবে আসতো বা যেতো কিন্তু এখন সেটা পারছে না। প্রতিদিন বিশাল আকৃতির জাহাজগুলোর কর্মকর্তারা দায়িত্ব ঠিক ভাবে পালন করে না। ১০ গুন যাত্রী বহন করে। এতে করে যে মানুষ আসা যাওয়া করে তাদের ফেলানো ময়লা আবর্জনা সব নদীতে ফেলা হয়। আমার ধারণা আবর্জনার স্তূপ হঠাৎ করে নদীর মধ্যে জেগে উঠতে পারে। ঢাকা-বরিশাল এবং ভায়ার লঞ্চগুলোতে প্রচুর যাত্রী যাতায়াত করে। আমরা দেখছি খালে পানি যাচ্ছে না। আবর্জনার কারণে মৎস্য সম্পদ নষ্ট হচ্ছে। এখানে অনেক জেলে একটা সময় মাছ ধরতো কিন্তু এখন তাদের দেখা যায় না। নিচের স্তুর উচু হয়ে যাওয়ায় নদী ভাঙনও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
পরিবেশবাদী সংগঠন বেলা’র বরিশাল আঞ্চলিক সমন্বয়ক লিংকন বায়েন বলেন, প্রতিদিনই লঞ্চের যত ময়লা আবর্জনা সহ নদীর পাশে যে বাজারগুলো রয়েছে সেখান থেকেও কীর্তণখোলায় বর্জ্য ফেলা হয়। শুধু তাই নয় খালগুলো থেকে আবর্জণা নদীতে আসে। এছাড়াও নৌ যান ডুবলেও নদী দূষণের মাত্রা বেরে যায়। এই দূষণ রোধে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন, জেলা প্রশাসন বা পরিবেশ অধিদপ্তর কার্যকরী কোনো ভূমিকা রাখতে পারে না। সিটি কর্পোরেশনের ডাম্পিং এলাকা রয়েছে, বর্ষা কালে বিশেষ করে এই ময়লাগুলো সাপানিয়া খাল হয়ে কীর্তণখোলায় এসে পৌছায়। এই ময়লা প্রসেসিং করার কোনো সিস্টেম বরিশালে নেই। অনেক সময় অনেক নেতা নানা বুলি জনগনের কাছে বলে। কিন্তু আমরা হতাশ। মূলত বরিশালের এই প্রান রক্ষায় কারোই কোনো ভূমিকা নেই।
বরিশাল জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান জানান, লঞ্চগুলোতে ডাস্টবিন থাকে। ময়লা আবর্জনা ডাস্টবিনে ফেলা হয়। পূর্বের থেকে দূষণ অনেক কমেছে। আরো কমবে বলে আশাবাদী।##

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
 
Website Design and Developed By Engineer BD Network