৩০শে নভেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, মঙ্গলবার

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থীকে ছাত্রলীগের নির্যাতন

আপডেট: জানুয়ারি ২২, ২০২০

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদের মতো নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে প্রাচ্যের অক্সফোর্ডখ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে।

জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলে চার শিক্ষার্থীকে রড, লাঠি ও স্ট্যাম্প দিয়ে রাতভর নির্যাতন করেছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

মঙ্গলবার রাতে এ ঘটনা ঘটে।

আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শুধু তাই নয় তার মোবাইলের কললিস্টে আরও তিন বন্ধুর নাম থাকায় তাদেরও ডেকে গেস্টরুমে আনা হয়।

তারা হলেন- রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সানওয়ার হোসেন, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মিনহাজ উদ্দীন ও একই বর্ষের আরবি বিভাগের শিক্ষার্থী আফসার উদ্দীন।

এ সময় হল শাখা ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির সহসভাপতি আনোয়ার হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমির হামজা, হল সংসদের সহ-সভাপতি সাইফুল্লাহ আব্বাসী অনন্তসহ বেশ কয়েকজন ছাত্রলীগের নেতারা রড, লাঠি ও স্ট্যাম্প দিয়ে ওই চার শিক্ষার্থীকে বেধড়ক পেটাতে শুরু করেন।

নির্যাতন সইতে না পেরে তারা মেঝেতে শুয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে তারা অচেতন হয়ে পড়েন।

এভাবে রাত ২টা পর্যন্ত তাদের ওপর নির্যাতন চালায় ছাত্রলীগ নেতারা।

পরে রাত ২টার পর তাদের প্রক্টরিয়াল টিমের মাধ্যমে শাহবাগ থানায় হস্তান্তর করা হয়।

সেখান থেকে তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায় পুলিশ।

তবে ছাত্রলীগের অন্য একটি সূত্র বলছে, শিবির সন্দেহের কারণে নয়, হলের গেস্টরুমের মিটিংয়ে না আসাকে কেন্দ্র ওই চার শিক্ষার্থীকে পেটানো হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে হলশাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সোহানুর রহমান বলেন, ঘটনার সময় আমি হলে ছিলাম না। এ বিষয়ে কিছু জানি না।

তবে ঘটনাটি যেহেতু হলের ভেতর ঘটেছে, তাই বিষয়টি হল প্রশাসন দেখবে বলে মনে করেন তিনি।

নির্যাতনের বিষয়ে ঢাবি প্রক্টর গোলাম রব্বানীকে ফোন দেয়া হলে তিনি রিসিভ করেননি।

প্রসঙ্গত ভারতের সঙ্গে গ্যাস, পানি, বিদ্যুতের চুক্তির বিরোধিতা করে গত বছরের ৫ অক্টোবর বিকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদ।

এর জের ধরে পরদনি রাতে শেরেবাংলা হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে ডেকে নিয়ে তাকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করেন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা।

পরে তার লাশ সিঁড়িতে ফেলে রাখা হয়।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
   
Website Design and Developed By Engineer BD Network