২০শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, রবিবার

করোনা ভাইরাসে জনশূন্য উহানের রাস্তাঘাট, আতঙ্কে বিশ্ব

আপডেট: জানুয়ারি ২৪, ২০২০

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

চীনে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৮ জনে দাঁড়িয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে সাড়ে ৮শ’তে। সংক্রমণ ঠেকাতে হুবেইসহ পাঁচটির বেশি প্রদেশের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে চীন সরকার। হংকং, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ভিয়েতনাম এবং সিঙ্গাপুরে করোনা ভাইরাস আক্রান্ত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হয়েছে।

১ কোটির বেশি মানুষের শহর উহানের রাস্তাঘাট এখন একরকম জনশূন্য বলা চলে। প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস আতঙ্কে প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না কেউই। নতুন এ ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে বৃহস্পতিবার হুবেই প্রদেশের বিমান, ট্রেনসহ সব ধরনের যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। এছাড়া মানুষের চলাফেরা এবং একে অপরের সংস্পর্শে আসতে না দেয়ার ব্যাপারে কড়াকড়ি আরোপ করেছে স্থানীয় সরকার। আগাম টিকিট নিয়ে রাখা পর্যটক ছাড়া অন্য কোনো ফ্লাইটের বিমান ছেড়ে যায়নি প্রদেশটি থেকে।

মহামারি ঠেকাতে হুবেই প্রদেশ জুড়ে একের পর এক শহরে গণপরিবহন বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে। চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত উহান ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে শহরের মিউনিসিপাল গভর্নমেন্ট। ভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে হুবেই প্রদেশের পাশাপাশি হুয়াংগ্যাং, এঝু, সিয়ানতাও, চিবিসহ আরো বেশ কয়েকটি প্রদেশে যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছে চীন সরকার।

চীনজুড়ে পশু থেকে ছড়িয়ে পড়া এ ভাইরাস আতঙ্কের মধ্যেই দেশটির বিশেষ অঞ্চল হংকংয়ে প্রাথমিকভাবে দু’জনের দেহে করোনা ভাইরাস শনাক্ত করা হয়েছে।

এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ায় করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির রোগ নিয়ন্ত্রণ দফতর। করোনার উপসর্গ দেখা দেয়া ২১ ব্যক্তি ভাইরাসমুক্ত বলেও নিশ্চিত করে দক্ষিণ কোরিয়া।

ভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে জাপান। বৃহস্পতিবার উহান থেকে দুটি বিমান এসে পৌঁছানোর পর চীন ভ্রমণে সতর্কতা জারি করেছে দেশটি। তাইপেই থেকে আসা বিমানের যাত্রীদের স্ক্রিনিং পরীক্ষার পরই কেবল প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে ফিলিপিন্সের বাসিন্দাদের।

উহান থেকে আসা সবশেষ ফ্লাইটটির যাত্রীদের পরীক্ষা নিরীক্ষার পর ইতালি কর্তৃপক্ষ জানায়, এখন পর্যন্ত কোন যাত্রীর মাঝে করোনার উপসর্গ লক্ষ্য করা যায়নি। উহানের ফ্লাইটের যাত্রীদের স্ক্রিনিং টেস্টের পর একইকথা জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়া কর্তৃপক্ষ।

এদিকে চীন সফরের পর করোনা ভাইরাসের লক্ষণ দেখা এক ব্যক্তিকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছে যুক্তরাজ্য। হাঁচিকাশির মাধ্যমে সংক্রমিত শ্বাসযন্ত্রে অসুখ সৃষ্টিকারী এ ভাইরাস প্রতিরোধে যুক্তরাজ্যের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্সসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে।

তবে বিশ্বব্যাপী জরুরি স্বাস্থ্য সতর্কতা জারির মতো পরিস্থিতি এখনো সৃষ্টি হয়নি বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
   
Website Design and Developed By Engineer BD Network