৩রা মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার

 

শহীদ আলতাফ মাহমুদ পদক পেলেন এসএম ইকবাল

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২০

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
  • নিজস্ব প্রতিবেদক

‘শহীদ আলতাফ মাহমুদ স্মৃতি পদক’ পেলেন বরিশালের অন্যতম সাংবাদিক, সাহিত্যপ্রেমী এ্যাড. এসএম ইকবাল। বরিশাল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বরিশাল সাংস্কৃতিক সংগঠন সমন্বয় পরিষদের আয়োজনে ৫ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার শেষ দিনে এ পদক প্রদান করা হয়। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপার্চায প্রফেসর ড. ছাদেকুল আরিফিন ও বরিশাল সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুলøাহ গুনীজনের হাতে পদক তুলে দেন। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন সমন্বয় পরিষদের সভাপতি কাজল ঘোষ।

এসএম ইকবাল ১৯৪৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার লবনসারা গ্রামে ধর্মপ্রান সৈয়দ পরিবারে জন্ম গ্রহন করেন। তার পিতার নাম সৈয়দ শামসুল হুদা এবং মাতা ফরিদা বেগম। প্রারম্ভিক শিক্ষা জীবনে অন্য শিক্ষার্থীদের থেকে একটু ভিন্ন রকমের এ মানুষটি ৩য় শ্রেণীতে বরিশাল জিলা স্কুলে ভর্তি হন। ১৯৬০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ম্যাট্রিকুলেশন পাশ করেন।

১৯৬৪ সালে বরিশালের সরকারি ব্রজমোহন কলেজ থেকে বিএ পাস করেন এসএম ইকবাল। স্বাধীনতা যুদ্ধের পর সংস্কৃত সাহিত্যে কাব্যতীর্থ এব আইনে স্নাতক ডিগ্রী গ্রহন করেন।

বরিশাল জিলা স্কুলের সবুজ পাতার প্রকাশনার লেখক হিসেবে তার লেখালেখিতে যাত্রা শুরু। ব্রজমোহন কলেজে পড়াশোনা কালে রুচিশীল ও আনুষ্ঠানিক চিন্তার স্বপ্ন পূরনে যোগ দেন তৎকালিন সময়ের শক্তিমান চলচিত্র নির্মাতা বরিশালের আরেক কৃতি সন্তান সাদেক খান এর চলচিত্র নির্মাণ সংস্থা ‘লুব্ধক ফিল্ম’ এ।

প্রেডাকশন কন্ট্রোলার হিসেবে কারওঁয়া, নদী ও নারী, আকাশের রং নীল ও ক্যায়সে কাহু নামক বেশ কয়েকটি চলচিত্রে তিনি কাজ করেছেন। পরে কর্মনিষ্ঠা ও দক্ষতার কারনে সে সময়ের এফডিসির খ্যাতিমান নির্মাতা আবদুর রহমান আদরের সাথে সহকারী হিসেবে কাজ করার সুযোগ পান।

কিন্তু ধর্মপ্রান পরিবারের সন্তান হওয়ায় বাবা ও চাচার নিদের্শে তাকে বরিশালে ফিরে আসতে হয়। পরে তার স্কুল কলেজের সফল সংগঠকদের নিয়ে নিজের সাংগঠনিক প্রজ্ঞাকে পূজি করে গড়ে তোলেন সামাজিক সংগঠন বরিশাল যুব সংঘ। যুব সংঘের মাধ্যেমে নাটক রচনা, মঞ্চয়ন, আবৃত্তি, খেলাধুলাসহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ড পরিচালনা করা হতো।

স্বাধীনতার পর যুব সংঘ প্রকাশ করে বাংলাদেশ নামে একটি পত্রিকা। সাহিত্যেও এসএম ইকবালকে খুঁজে পাওয়া যায় জীবনানন্দ গবেষনায়। ১৯৭২ সালে কলকাতার সাহিত্য গবেষক দিলীপ কুমার দাসের সাথে যৌথভাবে সম্পাদন করেন জীবনানন্দ দাস এর রূপসী বাংলা। পরে একের পর এক সম্পাদন করেন বনলতা সেন, সুরঞ্জনা, ধূসর পান্ডুলিপি ইত্যাদি।

সুকান্তের ঘুম নেইও সম্পাদনা করেন। এছাড়া মৌলিক গ্রন্থ হিসেবে ছোটদের নজরুল, ছোটদের রবীন্দ্রনাথ, ছোটদের শরৎ চন্দ্রসহ প্রায় অর্ধশত গ্রন্থ। এসএম ইকবাল জনসমর্থনে ১৯৭৩ ও ১৯৭৭ সালে ২ বার বরিশাল পৌরসভার ১৭ নং ওয়ার্ড কমিশনার নির্বাচিত হন।

এ সময়ে দুই বার দায়িত্ব পালন করেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে। ১৯৮৫ সালে বানারীপাড়া উপজেলার প্রথম উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এসএম ইকবাল। ১৯৮৫ সালে গড়ে তোলেন বাইশারী গার্লস স্কুল। ১৯৮৬ সালে সাবেক চীফ হুইপ শহীদুল হক জামালকে সাথে নিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন বাইশারী সৈয়দ বজলুল হক কলেজ। সাংবাদিক হিসেবে এসএম ইকবাল সত্যের পক্ষে থেকে সাধারন মানুষের কথা তুলে ধরেছেন।

তিনি ঐতিহ্যবাহি বরিশাল প্রেসক্লাবের ২বার সাধারন সম্পাদক ও ৮ সভাপতি নির্বাচিত হয়েছে। এসময় কালে তিনি বাংলাদেশ, জনপথ, বাংলাদেশ টামস্, দৈনিক দেশ, নিজের সম্পাদনায় কথা, বরিশাল থেকে প্রকাশিত দৈনিক আজকের বার্তার বার্তা সম্পাদক ও সম্পাদক মন্ডলির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পরে তিনি দৈনিক দক্ষিনাঞ্চলের সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি ২ বার বরিশাল সাংস্কৃতিক সংগঠন সমন্বয় পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হন। বর্তমানে তরুণ প্রযন্মের কাছে এসএম ইকবাল এক জীবন্ত কিংবদন্তি। ##

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
 
Website Design and Developed By Engineer BD Network