২৭শে নভেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার

আমতলীতে বদলি বানিজ্য :: টাকার বিনিময়ে গ্রামের শিক্ষকরা শহরে

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২০

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি

বরগুনার আমতলী উপজেলা প্রাথমিক শিÿক বদলিতে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে প্রত্যান্ত গ্রামাঞ্চলের বিদ্যালয়ের কোঠা কেটে শহরের বিদ্যালয়ে বদলি হয়েছেন। এতে প্রত্যান্ত গ্রামাঞ্চলের শিÿা ব্যবস্থা ধংস হয়ে যাচ্ছে এমন অভিযোগ এনে অভিভাবক মোঃ হাসান মৃধা শিÿা সংশিøষ্ট দপ্তরসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেছেন।

জানাগেছে, বরগুনার আমতলী উপজেলায় ১৫২ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। ওই বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে আমতলী পৌর শহরে ৯ টি বিদ্যালয়। ওই সকল বিদ্যালয়ে শিÿকের পদ রয়েছে ৯’শ ১০ টি। বর্তমানে কর্মরত আছে ৭’শ ৮৫ জন।

১’শ২৫ জন শিÿকের পদ শুন্য রয়েছে। এদিকে এ বছর জানুয়ারী মাসে শিÿক বদলি কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

এই কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকেই শুরু হয়েছে শিÿক বদলি বানিজ্য। মোটা অংকের টাকা বিনিময়ে গ্রামাঞ্চলের শিÿকরা কোঠা কর্তন করে আমতলী পৌর শহরের বিদ্যালয় বদলি হয়ে আসছেন। এতে গ্রামাঞ্চলের বিদ্যালয়গুলোর শিÿা কার্যক্রম ধংসের মুখে পরেছে।

শিÿা ব্যবস্থার এমন করুন দশার অবস্থা জানিয়ে শিÿানুরাগী মোঃ হাসান মৃধা শিÿা সংশিøষ্ট বিভিন্ন দপ্তরসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেছেন।

খোজ নিয়ে জানাগেছে, আমতলী পৌর শহরের আমতলী মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিÿার্থী অনুপাতে শিÿকের পদ রয়েছে ১৩ টি কিন্তু ওই বিদ্যালয়ে বর্তমানে শিÿক কর্মরত রয়েছেন ২১ জন। আমতলী একে সংলগ্ন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পদ রয়েছে ১৪ টি কিন্তু শিÿক কর্তরত আছেন ১৮ জন। ছুরিকাটা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পদ রয়েছে ৬ টি কিন্তু শিÿক কর্মরত রয়েছেন ৯ জন।

গ্রামের বিদ্যালয়গুলো থেকে কোঠা কর্তন করে শিÿকরা পৌর শহরের বিদ্যালয়ে কোঠা সৃষ্টি করে বদলি হয়ে এসেছেন। এতে গ্রামের শিÿা ব্যবস্থা ধংসের মুখে পরেছে। দ্রæত শহরের বিদ্যালয়গুলো থেকে শিÿক পদ কর্তন করে গ্রামের বিদ্যালয়গুলোতে শিÿক সমন্বয় করার দাবী জানিয়েছেন অভিভাবকরা।

কুকুয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিÿার্থী রয়েছে ৫’শ৫০ জন। ওই বিদ্যালয়ে শিÿার্থী অনুপাতে শিÿক থাকার কথা ১৪ জন কিন্তু শিÿক কর্মরত রয়েছে মাত্র ৮ জন। গ্রামের অনেক বিদ্যালয়ে ৪ জন শিÿকের পদ থাকলেও ওই সকল বিদ্যালয়ে শিÿক কর্মরত রয়েছেন মাত্র ২ জন।

গ্রামের ৮০ ভাগ বিদ্যালয়ে শিÿক সংঙ্কট রয়েছে। এদিকে ২০১৬ সালে আমতলী পৌর শহরের বিদ্যালয়গুলোতে যোগদানকৃত শিÿকরা কোন বিধিতে বদলি হয়ে আমতলী পৌর শহরের বিদ্যালয়গুলোতে এসেছেন এমন কোন তথ্য আমতলী উপজেলা প্রাথমিক শিÿা অফিসে নেই। অভিযোগ রয়েছে রাজনৈতিক নেতাদের প্রভাব খাটিয়ে উপজেলা শিÿা কমিটির অনুমোদন ছাড়াই তারা পৌর শহরের বিদ্যালয়ে বদলি হয়ে এসেছেন।

আমতলী পৌর শহরের কলেজ রোডের বাসিন্দা অভিভাবক মোঃ হাসান মৃধা বলেন, গ্রামের বিদ্যালয়গুলো থেকে শিÿকরা প্রাথমিক শিÿা অফিস ও রাজনৈতিক নেতাদের ম্যানেজ করে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে সুবিধামত কোঠা কর্তন করে পৌর শহরের বিদ্যালয়ে কোঠা সৃষ্টি করে বদলি হয়ে এসেছেন। এতে গ্রামের শিÿা ব্যবস্থা ধংসের মুখে পরেছে। দ্রæত সময়ের মধ্যে গ্রামাঞ্চল ও পৌর শহরের বিদ্যালয়গুলোতে শিÿক সমন্বয়ের দাবী জানাই।

আমতলী বন্দর মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিÿক জাকির হোসেন বলেন, অনেক শিÿক গ্রামের বিদ্যালয়ের কোঠা কর্তন করে আমার বিদ্যালয়ে কোঠা সৃষ্টি করে বদলি হয়ে এসেছেন। এখানে আমার কোন দায় নেই। তিনি আরো বলেন এগুলো করেছে উপজেলা শিÿা কমিটি।

আমতলী উপজেলা শিÿা অফিসার মোঃ মজিবুর রহমান বলেন, এ অনিয়মগুলো একদিনে হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে হয়ে আসছে। দ্রæত সময়ের মধ্যে ছাত্র অনুপাতে শিÿক সমন্বয় করা হবে।

বরগুনা জেলা প্রাথমকি শিÿা অফিসার এম মিজানুর রহমান বলেন, গ্রামের বিদ্যালয়গুলো থেকে শিÿকরা পৌর শহরের বিদ্যালয়ে এসে জড়ো হয়েছে। দ্রæত সময়ের মধ্যে শিÿার্থী অনুপাতে সকল বিদ্যালয়ের শিÿক সমন্বয় করা হবে।

আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিরা পারভীন বলেন, এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মোঃ মো¯Íাইন বিলøাহ জেলা প্রাথমিক শিÿা অফিসারকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দিয়েছেন। তদন্ত সাপেÿে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আমতলী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব গোলাম সরোয়ার ফোরকান বলেন, গ্রামাঞ্চলের বিদ্যালয়ের শিÿা ব্যবস্থাকে সুগম করতে শহরের অবৈধভাবে সৃষ্ট কোঠা বন্ধ করে সকল বিদ্যালয়ে শিÿক সমন্বয় করা হবে।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
   
Website Design and Developed By Engineer BD Network