১৭ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, বৃহস্পতিবার

এমপি আসলামের কাছ থেকে ৫ একর জমি উদ্ধার

আপডেট: মার্চ ৪, ২০২০

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

বুড়িগঙ্গা ও তুরাগ নদের সংযোগস্থল চরওয়াশপুরে ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য আসলামুল হকের অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)।

এ সময় আসলামুল হকের প্রতিষ্ঠান মাইশা গ্রুপের এক কর্মকর্তাকেও গ্রেফতার করা হয়।

আসলামুল হকের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান মাইশা গ্রুপ চরওয়াশপুরে বুড়িগঙ্গা ও তুরাগ নদীর পাঁচ একর জমি অবৈধভাবে দখল করে মাইশা পাওয়ার প্লান্ট তৈরি করেন।

ওই প্লান্টের অবৈধ অংশটি গতকাল উচ্ছেদ করে বিআইডব্লিউটিএ জমিটি এমপির প্রতিষ্ঠানের দখল থেকে উদ্ধার করে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গতকাল ঢাকার চারপাশের নদ-নদী দখল ও দূষণমুক্ত করার অংশ হিসেবে গতকাল ১৮তম দিনের মতো বছিলা এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চালায় বিআইডব্লিউটিএ।

উচ্ছেদকারী বিআইডব্লিউটিএ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য আসলামুল হকের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান নদীর পাঁচ একর জায়গা অবৈধ দখল করে এক হাজার ফুট লম্বা এবং ৩০০ ফিট প্রশস্ত জায়গা পাওয়ার প্লান্ট প্রকল্পের ভিতরে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়।

এই অবৈধ স্থাপনা সরাতে নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযানের অংশ হিসেবে গতকাল তারা ওই স্থাপনা উচ্ছেদ করতে যান।

এ সময় উচ্ছেদ কাজে বাধা দিতে আসেন স্বয়ং এমপি আসলামসহ তার সহযোগীরা।

বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তাদের সঙ্গে আসলাম ও তার সহযোগীদের বাকবিতন্ডা হয়।

একপর্যায়ে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে বিআইডব্লিউটিএ কর্মকর্তারা এমপি আসলামের উপস্থিতিতেই মাইশা গ্রুপের কো-অর্ডিনেটরকে গ্রেফতার করেন।

অভিযান পরিচালনাকালে বিআইডব্লিউটিএর যুগ্ম পরিচালক এ কে এম আরিফ উদ্দিন বলেন, আদালতের আদেশ মেনে বৈষম্যহীনভাবে নদীর জায়গা ফিরিয়ে নিতে কাজ করা হচ্ছে।

মাইশা পাওয়ার প্লান্ট জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সঞ্চালনের মতো স্থাপনা।

তাই এখানে অভিযান পরিচালনার আগে আমরা যাবতীয় কাগজপত্র, নকশা পর্যালোচনা করে দেখেছি।

তিনি জানান, মুজিববর্ষে ঢাকার চারপাশের নদীকে দখলমুক্ত করতে নিয়মিত এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

অবশ্য সংসদ সদস্য আসলামুল হক দাবি করেছেন, অবৈধভাবে তার পাওয়ার প্লান্ট ভাঙা হয়েছে।

এদিকে গতকালের অভিযানে আরও তিনটি একতলা ভবন, ১০টি পাকা দেয়াল ও ১০টি অন্যান্য স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়।

অবমুক্ত করা হয় দখল হয়ে যাওয়া তিন একর তীরভূমি।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন