২৩শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, শুক্রবার

“জীবনতরী”এবার আলো ছড়াবে বাবুগঞ্জে : মানবতার সেবায় ২১ বছর

আপডেট: মার্চ ১০, ২০২০

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
  • সাইফুল ইসলাম, বাবুগঞ্জ(বরিশাল)প্রতিনিধি

”সুন্দর ভূবণে নেই যার চোখের আলো,সুখে দুঃখে আঁখি ছল ছল,মনেরই আশা চোখেরই জলে বরষার মত ঝড়ে যায়” মর্মস্পর্ষী এ গানের কথার মতই স্বপ্নীল পৃথীবির সৌন্দর্য অবলোকন করার সাধ্য নেই দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের। তাদের মনের আশা গুলো নিরাশাই থেকে যায় পৃথীবির বুকে! আর তাদের দুঃখ দূর করতেই অন্ধের জীবনের আলো ফিরিয়ে আনতে পরিহার যোগ্য প্রতিবন্ধীতা প্রতিরোধের লÿে মানবতার সেবায় কাজ করে ২১ বছর ধরে কাজ করে যাচ্ছেন ‘জীবনতরী’ নামের ভাসমান হাসপাতাল।

বর্তমানে এ হাসপাতালটি সাধারণ মানুষের চোখের আলো ফিরিয়ে আনতে,তাদের সেবা দিতে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর’র জন্মভূমি বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার মীরগঞ্জ এলাকায় আড়িয়াল খাঁ নদীর ঘাটে ভিড়েছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, গত ৮ মার্চ বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার মীরগঞ্জ এলাকায় আড়িয়াল খাঁ নদীতে দুইতলা বিশিষ্ট ‘জীবনতরী’ হাসপাতালটি ভিড়েছে। অন্যান্য হাসপাতালের মতো ভাসমান এ হাসপাতালেও রয়েছে রিসিপশন, ডাক্তার চেম্বার, দুটি অত্যাধুনিক অপারেশন থিয়েটার, রোগীদের বেড, অফিস কক্ষসহ সবকিছু।

এছাড়া জরুরি রোগী আনা-নেওয়ার জন্য ভাসমান এ হাসপাতালে বাঁধা রয়েছে ২টি স্পিডবোড, নদীর পাড়ে একটি অ্যাম্বুলেন্সও রাখা হয়েছে। রোগীদের চাহিদা অনুযায়ী আগামী ৩ থেকে ৬ মাস এখানে অবস্থান করে সাধারণ গরীব রোগিদের চিকিৎস্যা কার্যক্রম চালিয়ে যাবেন বলে জানাগেছে।

ভাসমান হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৯ সাল থেকে জীবনতরী নামে বেসরকারি সংস্থা ইমপ্যাক্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের পরিচালনায় হাসপাতালটি কার্যক্রম শুরু হয় করে। এ হাসপাতালটি ১২ বেডের অনুমোদিত।

এখানে নাক, কান ও গলা অভিজ্ঞ একজন, চোখের একজন এবং একজন অর্থোপেডিকস্ চিকিৎসক রয়েছেন। এছাড়া ৪ জন নার্স, ২ জন কর্মকর্তাসহ ৩৫ জন জনবল রোগীদের সেবার নিয়োজিত রয়েছেন।

‘জীবনতরী’ নামে এ হাসপাতালে স্বল্পমূল্যে ভারতীয় ও আমেরিকান লেন্স সংযোজনের মাধ্যমে চোখের ছানির অপারেশন করা হয়। এছাড়া স্বল্পমূল্যে বিশেষজ্ঞ সার্জন দ্বারা নাক, কান, গলা, ঠোঁটকাটা, তালুকাটা রোগীর প্লাস্টিক সার্জারিসহ আপারেশন করা হয়। বিকলাঙ্গ ও পঙ্গু রোগীর সহায়ক সামগ্রী নাম মাত্র মূল্যে দেওয়া হয় এ হাসপাতালে।

হাসপাতালের প্রশাসক মোহাম্মদ আলাউদ্দিন কালের কন্ঠকে জানান গত ৮ মার্চ বাবুগঞ্জে অবস্থান করা হয়েছে, ১১ মার্চ থেকে চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে রোগীদের চাহিদা অনুযায়ী আগামী ৩ থেকে ৬ মাস এখানে অবস্থান করে সাধারণ গরীব রোগিদের চিকিৎস্যা কার্যক্রম চালিয়ে যাবেন।

এছাড়াও বেসরকারী সংস্থা ইমপ্যাক্ট ফাউন্ডশেন অব বাংলাদশেরে পরিচালনাধীন ইম্প্যাক্ট জীবন তরী ভাসমান হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রচলিত নেতিবাচক ধ্যানধারণার বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে স্থানীয় মসজিদের ইমাম, স্বাস্থ্যকর্মী, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ধাত্রীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করেছে।

এ বিষয় জানতে চাইলে হাসপাতালের প্রশাসক মোহাম্মদ আলাউদ্দিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এনজিও বিষয়ক ব্যুরো’র সহযোগিতায় ইংল্যান্ড ও হংকংয়ের অর্থ সহায়তায় পরিচালিত ভাসমান হাসপাতালটিতে চক্ষুরোগ, ইএনটি, অর্থোপেডিক ও ঠোঁটকাটা রোগের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

ভাসমান এই হাসপাতালে সরকারি ছুটি ও শুক্রবার ছাড়া প্রতিদিন সকাল নয়টা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়। ভাসমান এ হাসপাতালে জটিল রোগী আনা-নেওয়ার জন্য সার্বÿণিক নৌপথে স্পীড বোট ও সড়ক পথে অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

তিনি জানান, পরিহার যোগ্য প্রতিবন্ধীতা প্রতিরোধের লÿে মানবতার সেবায় কাজ করাই তাদের মূল লÿ্য।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
   
Website Design and Developed By Engineer BD Network