৭ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, শুক্রবার

 

করোনা সন্দেহে উদ্বিগ্ন না হয়ে, নমুনা পরীক্ষার নির্দেশ

আপডেট: মার্চ ১৩, ২০২০

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

দেশে তিনজনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর থেকে যে কারো জ্বর, সর্দি, কাশি, গলা ব্যথা হলেই সন্দেহে উদ্বিগ্ন হয়ে উঠছে নিজে ও পরিবারের অন্যরা। সেই সঙ্গে সন্দেহ দূর করতে খোঁজখবর নিতে শুরু করছে নমুনা পরীক্ষার।

কেবল ঢাকায়ই নয়, সারা দেশেই দ্রুত বাড়ছে এমন প্রবণতা। সরকারের হটলাইন থেকে শুরু করে যার যার কাছের হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, চিকিৎসক কিংবা স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীদের কাছেও ছুটছে অনেকে। এমনকি গণমাধ্যম দপ্তরগুলোতেও আসছে ফোন।

আগে থেকেই এমন পরিস্থিতির আশঙ্কা মাথায় রেখে বিভিন্ন পরিকল্পনা করে রেখেছে সরকার। পাশাপাশি এসব নিয়ে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে চলছে আলাপ, আলোচনাসভা ও বৈঠক।

এসব থেকে উঠে আসা পরামর্শ ও সিদ্ধান্ত অনুসারে কোনোভাবেই যাতে মানুষ অপ্রয়োজনে পরীক্ষার জন্য ছোটাছুটি না করে, বেসরকারি পর্যায়ে পরীক্ষার নামে যাতে কোনো রকম বাণিজ্য বা হয়রানির সুযোগ না থাকে সেদিকে কঠোর নজর রাখতে চায় সরকার।

সরকারের সর্বশেষ অবস্থান হচ্ছে, কভিড-১৯ বা নভেল করোনাভাইরাস শনাক্তকরণ পরীক্ষা শুধুই সরকারের হাতে থাকবে।

আর আপাতত তা কেবলই হবে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) ল্যাবে, যা সিডিসি আটলান্টার সঙ্গে যুক্ত।

সমমানের আরেকটি ল্যাবরেটরি থাকায় আন্তর্জাতিক উদরাময় রোগ গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশকে (আইসিডিডিআর,বি) প্রস্তুত রাখা হয়েছে প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য।

তবে কোনো কোনো বিশেষজ্ঞ এখন থেকেই আইইডিসিআরের পাশাপাশি আরো একাধিক প্রতিষ্ঠানে এই পরীক্ষার সুযোগ দেওয়ার অভিমত দিয়েছে।

তাঁদের মতে যে প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রস্তুত করা হয়েছে পরীক্ষার জন্য তারা এখন থেকেই পরীক্ষা শুরু করলে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ও প্রশ্ন কমে যাবে। এ ক্ষেত্রে আইইডিসিআর ওই প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ন্ত্রণ করবে।

জানতে চাইলে আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, ‘আমরা খুবই পরিষ্কারভাবে সবাইকে জানাতে চাই, করোনাভাইরাস নিয়ে পরীক্ষার জন্য যেখানে-সেখানে ছোটাছুটির কোনো দরকার নেই।

জ্বর, সর্দি, হাঁচি, কাশি হলেও সবার পরীক্ষা করাতে হবে না। কেবল যদি কেউ চিহ্নিত ৬০টি দেশ থেকে ফেরত কারো কিংবা আক্রান্ত কারো সংস্পর্শে যাওয়ার পর ওই উপসর্গ দেখা দেয় তবেই পরীক্ষা করা জরুরি।

এ ক্ষেত্রে পরবর্তী কোনো সিদ্ধান্ত না নেওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশে একমাত্র আইইডিসিআরের ল্যাবেই করোনাভাইরাসের পরীক্ষা হবে। আর কোথাও এটি করা যাবে না। এ জন্য সন্দেহজনক রোগীদের আইইডিসিআরে আসাও লাগবে না।

হটলাইন বা স্থানীয় যেকোনো সরকারি স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বা কর্মীর সঙ্গে যোগাযোগ করলেই দ্রুত সময়ের মধ্যে সাড়া মিলবে। প্রয়োজনে আইইডিসিআরের টেকনোলজিস্টরা নমুনা সংগ্রহ করবেন ওই ব্যক্তির বাড়ি গিয়ে।

তাই সরকারি নির্দেশ ছাড়া এবং এই ল্যাব ছাড়া অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে এ পরীক্ষা করলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না।

আইইডিসিআর পরিচালক বলেন, এখন পর্যন্ত যে পরিস্থিতি আছে তাতে আইইডিসিআরের পুরোপুরি সক্ষমতা আছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদন করা পর্যাপ্ত কিটস বা রসদ আছে, যা দিয়ে অনেক দিন চালানো যাবে।

তার পরও যদি প্রয়োজন হয় তখন আইসিডিডিআর,বির সহায়তা নেওয়ার জন্য আগাম প্রস্তুতি নেওয়া আছে। এ ছাড়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে সরকারের আরো দুটি ল্যাবরেটরি রয়েছে যেখানে এই ভাইরাস পরীক্ষা করানো সক্ষম।

ড. সেব্রিনা জানান, এই পরীক্ষা অনেক ব্যয়বহুল। প্রতিটি টেস্টের জন্য পাঁচ-ছয় হাজার টাকা খরচ পড়ে। সরকার যে টেস্ট করছে, সেটা বিনা মূল্যে করা হচ্ছে। সন্দেহজনক ব্যক্তিদের কোনো ফি দিতে হচ্ছে না। কিন্তু যদি বেসরকারি হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে এই সুযোগ দেওয়া হয় তবে এটি নিয়ে বাণিজ্য, বিশৃঙ্খলা ও মানুষের হয়রানির আশঙ্কা রয়েছে। সরকার এই ভাইরাস ঘিরে এমন কোনো বাণিজ্য বা বিশৃঙ্খলা তৈরির পথ উন্মুক্ত করতে চায় না।

এদিকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, দ্রুত সময়ের মধ্যে ঢাকার বাইরেও পরীক্ষার ক্ষেত্র তৈরি করা হবে। বিশেষ করে দেশের পুরনো কমপক্ষে আটটি সরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ল্যাবরেটরিতে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

একাধিক সাহায্য সংস্থার কাছ থেকে এ ক্ষেত্রে সহায়তা পাওয়া যাবে। ফলে এখন যেমন ঢাকার বাইরের কারো নমুনা সংগ্রহ করে তা ঢাকায় পাঠাতে হয়, তখন সেটা লাগবে না।

আইইডিসিআরের পরিচালক বলেন, ‘পরিস্থিতি যা-ই হোক ঢাকায় ল্যাব টেস্ট নিয়ে কখনোই কোনো সমস্যা হবে না। তবে পরিস্থিতি খারাপ হলে তখন হয়তো ঢাকার বাইরে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।

এখন ঢাকার বাইরে যেখানেই আমরা খবর পাই নমুনা সংগ্রহ করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আইইডিসিআরের ল্যাবে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করে থাকি।

এ কাজের জন্য সারা দেশেই আমাদের নেটওয়ার্ক ও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষিত টেকনোলজিস্ট রয়েছে। ফলে এখনো সমস্যা হচ্ছে না।’

আইইডিসিআর সূত্র জানায়, বুধবার পর্যন্ত ১৪৭টি পরীক্ষা হয়েছে আইইডিসিআরের ল্যাবে। এর মধ্যে কেবল তিনজনের নমুনায় কভিড-১৯ পাওয়া গেছে, যাঁরা এখন হাসপাতালে আছেন। তাঁদের মধ্যে দুজনই সুস্থ হয়ে গেছেন।

তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাপক ডা. বে-নজীর আহমেদ বলেন, আইইডিসিআরকে শুধু রেফারেল ল্যাব হিসেবে রাখা প্রয়োজন, তারা সব কিছু মনিটরিং করবে। পাশাপাশি অন্য যে প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা ও উপযুক্ত মানের প্রযুক্তি আছে সেই ল্যাবগুলোকে এখন থেকেই কাজে লাগানো যায়।

নয়তো মানুষ এখানে সেখানে পরীক্ষার জন্য ছুটবে। মানুষের উদ্বেগ কাটানোর জন্য পরীক্ষাটি এককেন্দ্রিক না রেখে সংখ্যা আরো বাড়ানো ভালো হবে।

সেই সঙ্গে পরীক্ষার আরো কিছু পদ্ধতি, নমূনা সংগ্রহ ও তথ্য আদান-প্রদানেও আরো কিছু ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে, যেগুলো অন্যান্য দেশে করা হচ্ছে। তাহলে মানুষ স্বস্তি পাবে বেশি, আতঙ্ক কেটে যাবে।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
 
Website Design and Developed By Engineer BD Network