২২শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, শুক্রবার

শিরোনাম
পিরোজপুরে স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যার পরে মেয়েকে নিয়ে থানায় স্বামী ধাক্কা দিলো সা্ইকেল : চাপা দিলো প্রাইভেটকার বানারীপাড়ায় কিশোরীকে এক মাস আটকে রেখে ধর্ষণ : মামলা গৌরনদীতে মুক্তিযোদ্ধা সেজে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার ভাতা উত্তোলণের অভিযোগ ফেসবুক লাইভে স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যায় স্বামীর মৃত্যুদণ্ড সরকারি চাকরির নামে টাকা হাতিয়ে নেওয়া চক্রের মূলহোতাসহ আটক ২ জন কুমিল্লার পূজামণ্ডপে কুরআন রাখা ব্যক্তিকে শনাক্ত সম্পর্কে যা বলল পুলিশ কেন সাহিনুদ্দিন হত্যার ভিডিও সাম্প্রদায়িক হামলা বলে প্রচার? সম্প্রতি বিনষ্ট’র প্রতিবাদে বরিশালে সাংস্কৃতিক কর্মীদের মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ

সেবা দিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নাম্বার দিয়ে দিচ্ছেন চিকিৎসকরা

আপডেট: মার্চ ২৩, ২০২০

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

অতিথি প্রতিবেদক: কোভিড-১৯ করোনা ভাইরাস গোটা বিশ্বে একটি মহামারির নাম। যা চীনের হুবেই প্রদেশর উহান থেকে বিশ্বের ১৮৯ দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। বিশ্ব
স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেবে এ পর্যন্ত ১৮ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে এই করোনা ভাইরাসে।বাংলাদেশেও এ ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ধরা
পড়েছে, এবং ২ জনের মৃত্যুর খবরও নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

করোনা প্রতিরোধে দেশে সরকারিভাবে নানান উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। যারমধ্যে জনসমাগম এড়াতে সাধারণ মানুষকে বাড়িতে থাকার পরামর্শ দেয়া, হাত ধোয়া ও
নিয়মিত পরিষ্কার থাকার পাশাপাশি বিদেশ ফেরত নাগরিকদের হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে স্বাস্থ্য বিভাগ ও প্রশাসন থেকে। সরকার ও
স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে এ ভাইরাসে আক্রান্তের লক্ষন সুস্পষ্ট করা হলেও ভিত-সন্ত্রস্ত হয়ে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্তিতে পরছেন অনেক সময়। জ্বর বা গলা ব্যাথা হলেই করোনা আতঙ্ক শুরু হয়ে যায় তাদের মাঝে।

আর এ সমস্যার সমাধানে কিছু চিকিৎসক ও পাবলিক হেলথ এক্সপার্টের স্ব-উদ্যোগে বিনা পারিশ্রমিকে এগিয়ে এসেছেন। যে সকল চিকিৎসকরা তাদের ব্যক্তিগত ফোন নম্বর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দিয়ে দিয়েছেন এবং জানিয়েছেন জ্বর, সর্দি, কাশি, গলা ব্যাথা হলে তাদের সাথে যোগাযোগের জন্য।  আবার কেউ কেউ তো একত্রিত হয়ে টিম ওয়ার্ক শুরু করে দিয়েছেন সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতের লক্ষে পরামর্শ দিতে । এরমধ্যে সাধারণ মানুষের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ৫ চিকিৎসক ও পাবলিক হেলথ এক্সপার্টদের
উদ্যোগে শুরু হওয়া “24/7 We for people By NSU Public Health Department” ফেসবুক গ্রুপটি, যা #nonstop247 নামেও পরিচিতো।

গ্রুপের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্যদের মধ্যে অন্যতম বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডেন্টাল অনুষদের সাবেক ছাত্র ডাঃ মাহবুবুর রহমান রাজিব জানান, মাত্র ৪ দিন ধরে শুরু করা এ গ্রুপের যাত্রাটা কয়েকজেনের হাত ধরে হলেও এখন ৮০ জনের মতো চিকিৎসক ও পাবলিক হেলথ এক্সপার্ট রয়েছেন। যারা
সর্বোশেষ ৪৮ টি মোবাইল নাম্বার দিয়ে হটলাইনে সাধারণ মানুষদের সেবা দিচ্ছে। যেখানে তিনদিনে ৩ হাজারের ওপর মানুষের ফোনকল রিসিভ করা হয়েছে এবং চেষ্টা করা হয়েছে ভয় ও আতঙ্ক দূর করে সরকার এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দিক নির্দেশনা অনুযায়ী পরামর্শ দেয়ার।

তিনি বলেন, পাবলিক হেলথ এর আমাদের সিনিয়র এক আপু অলিয়া মাহজাবিনের উদ্যোগেই মূলত চিকিৎসকদের এ গ্রুপটি খোলা। যেখান শুরুতে আপুর সাথে আমিসহ ডাঃ রেহান আখতার, ডাঃ নিলয় প্রসাদ চক্রবর্তী, আসাদুজ্জামান শুভ ছিলো। এরপর যখন সাহস করে গ্রুপটির যাত্রা শুরু করাই, মাত্র তিনদিনে যেমন সেচ্ছাসেবী চিকিৎসকদের সংখ্যা বেড়েছে, তেমনি সাধারণ মানুষের ফোনকলের পরিমানও বেড়েছে। এসব ফোন কলের মধ্যে সবথেকে বেশি সমস্যা হচ্ছে মানুষ জ্বর কিংবা গলা ব্যাথা হলেই ভয় পাচ্ছেন। যা সমাজের উচ্চশিক্ষিত কিংবা উচ্চ বিত্ত থেকে নিম্ব বিত্ত আয়ের সকল মানুষের মাঝেই বিরাজ করছে। আমাদের তারা
ফোন দিলে চেষ্টা করছি সমস্যা বোঝার এবং সঠিক পরামর্শ দিয়ে সঠিক চিকিৎসক কিংবা স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য বলছি।

বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কলেজের সাবেক ছাত্র ডাঃ রেহান আখতার জানান, শুরু থেকেই আমরা বলেছি কোন ওষুধ দিবো না। আমরা শুধু পরামর্শ দিবো। কারণ সঠিক পরামর্শের অভাবে বেশিরভাগ মানুষ বিভ্রান্তিতে পড়ে। আমাদের কাছে এখন পর্যন্ত রিক্সাওয়ালা থেকে ধনী পর্যায়ের অনেক ব্যক্তিই ফোন দিয়েছেন। যাদের চেষ্টা করেছি সঠিক পরামর্শ দেয়ার জন্য। যেমন কারো জ্বর হয়েছে তাকে বলেছি স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে গিয়ে সাধারণ ওষুধ ক্ষেতে। আবার কারো গলাব্যাথা ও খুসখুসের কাশির সমস্যা হয়েছে অ্যান্টিবায়োটিক ক্ষেতে চাচ্ছে, তাকে বারণ করেছি।  কারণ সমস্যাটা শুনে আমাদের কাছে স্বাভাবিক মনে হয়েছে, তাই তাকে গরম পানি দিয়ে গড়গড়া করা ও আদা খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছি এবং তিনদিন পরে আবার যোগাযোগ করতে বলেছি।

আবার কারো জ্বর, গলাব্যাথাসহ যদি আরো কিছু সমস্যা একত্রে দেখাদেয়, তাদের অবস্থান বুঝে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা হাসপাতালের চিকিৎসকের
পরামর্শ, নয়তো আইইডিসিআর এর হেল্পলাইনের নাম্বার দিয়ে কল দিতে বলেছি। এককথায় স্বাস্থ্য বিভাগের নির্ধারিত পরামর্শগুলোর মধ্যে থেকেই আমরা সেবাটা দেয়ার চেষ্টা করছি এবং করোনা ভাইরাসের সাথে সাথে ডেঙ্গু জ্বরের বিষয়েও সাধারণ মানুষকে পরামর্শ দিচ্ছি।

এদিকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও হাসপাতালের নাক-কান গলা বিভাগের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ডাঃ এস এম সরোয়ার তার ফোন নম্বরটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দিয়ে দিয়েছেন। সেখানে তিনি নাম্বার দিয়ে লিখেছেন, জ্বর-সর্দি-কাশি-গলা ব্যাথা হলে সরাসরি কোন চিকিৎসকের কাছে যাবেন না। আমাকে বা যেকোন ডাক্তারকে ফোন করুন।

একই হাসপাতালের মেডিসিন বহিঃবিভাগের মেডিকেল অফিসার ডাঃ মোস্তফা কামাল তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে বলেছেন, জ্বর-সর্দি-কাশি-গলা ব্যাথা হলে হাসপাতালে
যাওয়ার প্রয়োজন নেই, বাসায় থাকনে হাইজেন মেন্টেইন করেন, আর প্রয়োজন হলে দিনে তিন বেলা নাপা ট্যাবেলট ও রাতে একটি করে রুপা ১০ মিলিগ্রামের একটি ট্যাবলেট খাওয়ার পরামর্শ দেন। আর প্রয়োজনে তার নাম্বার দিয়ে যোগাযোগ করার
পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি জানান, হাসপাতালে রোগী দেখি প্রতিদিন, তার বাহিরে যদি একটা উদ্যোগ আরো মানুষের কাজে লাগে তবে সেটা করতে সমস্যা কোথায়? আর মানুষের সেবায় মানুষকেই তো এগিয়ে আসতে হবে।

একইভাবে বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেডিকেল অফিসার ডাঃ নাহিদ হাসান তার ফোন নম্বরটিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দিয়ে দিয়েছেন এবং তিনিও জ্বর-সর্দি-কাশি-গলা ব্যাথা হলে সরাসরি কোন চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে তাকে বা অন্য কোন চিকিৎসককে ফোন দেয়ার জন্য বলেছেন।

যে পোষ্টদুটো নিয়ে এরিয়ে মধ্যে হইচই পরে গেছে ডাক্তার পাড়ায়। তাদের দুজনকে সাধারণ মানুষের সেবায় এভাবে এগিয়ে আসার জন্য গর্ববোধ করার
পাশাপাশি ধন্যবাদ জানিয়েছেন অনেকেই।

এছাড়া শেবাচিম হাসপাতালের সাবেক শিক্ষার্থী ও প্রগতিশীল চিকিৎসক ফোরামের ডাঃ মনীষা চক্রবর্তীর নেতৃত্বে একটি মেডিকেল টিম সাধারণ মানুষের সেবায়
কাজ শুরু করেছে। যারা একটি হেল্পলাইনও চালু করেছেন।  ডাঃ মনীষা চক্রবর্তী জানিয়েছেন, হেল্পলাইনে পরামর্শ দেয়ার পাশাপাশি সরাসরিও রোগী দেখা শুরু
করেছেন তিনি। বেশ সারাও পরেছে এ কাজটিতেও। প্রতিদিন প্রচুর মানুষ সেবা নিচ্ছেন তাদের মাধ্যমে।

সার্বিক বিষয়ে বরিশাল বিভগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডাঃ বাসুদেব কুমার দাস বলেন, এটি একটি সত্যিই ভালো ও মহৎ উদ্যোগ। এরফলে মানুষ সঠিক সিদ্ধান্তটা বাসায় বসে চিকিৎসকের সাথে কথা বলেই নিতে পারছে। অযথা সুস্থ রোগীকে ঝুকি নিয়ে হাসপাতালে আসতে হবে না। ফলে হাসপাতালগুলোতে জনসমাগমও কমছে।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
   
Website Design and Developed By Engineer BD Network