৬ই এপ্রিল, ২০২০ ইং, সোমবার

কে জানে কে করোনা বহন করছে?

আপডেট: মার্চ ২৫, ২০২০

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সরকারি অফিস-আদালত ছুটির পর এবার গণপরিবহনও বন্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। ফলে বাস, ট্রেন, লঞ্চসহ অভ্যন্তরীণ রুটের বিমান চলাচল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

আগামী ৪ এপ্রিল পর্যন্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ থাকবে। এছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি ৯ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

আগামী ২ এপ্রিল পর্যন্ত সুপ্রিমকোর্টসহ দেশের সব আদালতে সাধারাণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এর আগে সোমবার করোনার সংক্রমণ রোধে সরকার ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানের দশ দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে।

ওই ঘোষণার পরপরই সাধারণ মানুষ ঘরে না থেকে গ্রামের বাড়ি যাওয়ার জন্য বাস, লঞ্চ ও ট্রেন স্টেশনগুলোতে হুমড়ি খেয়ে পড়েন, যা প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের সংক্রমণে সহায়ক।

এ অবস্থায় মঙ্গলবার বাস ট্রেন লঞ্চ ও বিমান চলাচল বন্ধের ঘোষণা দেয়া হয়। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো মঙ্গলবার আলাদাভাবে বন্ধের এ ঘোষণা দেয়। এর মধ্য দিয়ে সারা দেশে কার্যত যাতায়াত ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গেল।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়- এ ছুটি বেড়ানোর বা উৎসবের জন্য নয়, ঘরে থাকার জন্য সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

সড়কপথে ২৬ মার্চ বৃহস্পতিবার থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত বাসসহ যাত্রীবাহী গাড়ি চলাচলে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে। এছাড়া ট্রেন ও নৌপথে মঙ্গলবার থেকেই নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের ঘোষণা দেয়া হয়।

আজ বুধবার থেকে সিলেট ছাড়া বিমানের অভ্যন্তরীণ রুটের সব ফ্লাইট বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তবে পণ্য পরিবহন ও জরুরি সেবায় নিয়োজিত যানবাহন এ নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে। অর্থাৎ এসব যানবাহন চলাচল করতে পারবে।

এদিকে আইএসপিআর’র সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ২৫ মার্চ থেকে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সরকার দেশের সব জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’র আওতায় মঙ্গলবার দেশের সব বিভাগ ও জেলায় স্থানীয় প্রশাসনকে সহায়তার উদ্দেশ্যে সেনাবাহিনী প্রয়োজনীয় সমন্বয় করে।

সেনাবাহিনীর সদস্যরা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির তালিকা তৈরি এবং বিদেশ থেকে ফেরা ব্যক্তিদের কোয়ারেন্টিনে থাকা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসনের নেয়া পদক্ষেপগুলোয় সহায়তা ও সমন্বয় করবে।

এছাড়া বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে প্রয়োজনে মেডিকেল সহায়তা দেবে। সেনাবাহিনী কর্তৃক কোয়ারেন্টিন নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে যোগাযোগের জন্য এর আগে দেয়া সব নম্বরের পরিবর্তে শুধু ০১৭৬৯০৪৫৭৩৯ নম্বরে যোগাযোগের জন্য অনুরোধ করা হল।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউট (আইইডিসিআর) গণপরিবহন এড়াতে সাধারণ মানুষ অনুরোধ জানিয়ে আসছে। সোমবার সরকারের দেয়া ১০ নির্দেশনা গণপরিবহন সীমিত করার ঘোষণা দেয়া হয়।

সরেজমিন দেখা গেছে, ওই ঘোষণার পরই ঈদসহ বিভিন্ন উৎসবের মতো মানুষ ঢালাওভাবে বাড়ি ফেরা শুরু করেছে।

বাস, লঞ্চ ও ট্রেনের ছাদে গাদাগাদি করে তারা বাড়ি ফিরেছেন। মঙ্গলবার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে টিকিটের জন্য মানুষের দীর্ঘলাইন ছিল। ঢাকা নদীবন্দরে (সদরঘাট) দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে।

লঞ্চের ভেতরে জায়গা না পেয়ে অনেকেই ছাদে গিয়ে বসেন। গাবতলী, মহাখালী ও সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে একই অবস্থা দেখা গেছে। বাস টার্মিনালগুলোতে অনেকটা আকস্মিকভাবে যাত্রী বেড়ে যায়।

এমন পরিস্থিতিতি গণপরিবহন বন্ধের ঘোষণা দেয় সরকার।

সড়কপথ : সড়কপথে লকডাউনের ঘোষণা দেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। মঙ্গলবার দুপুরে মন্ত্রণালয় থেকে এক ভিডিও বার্তায় তিনি এ ঘোষণা দেন। এতে তিনি বলেন, করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার আগামী ২৬ মার্চ (বৃহস্পতিবার) থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সারা দেশে গণপরিবহন লকডাউন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তবে ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, ওষুধ, জরুরি সেবা, জ্বালানি, পচনশীল পণ্য পরিবহন- এ নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে। পণ্যবাহী যানবাহনে কোনো যাত্রী পরিবহন করা যাবে না।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর এ ঘোষণার পর গণপরিবহন বন্ধের সিদ্ধান্তের কথা জানায় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি। সমিতির সভাপতি মসিউর রহমান রাঙ্গা ও মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্লাহ এক বিবৃতিতে বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারের সিদ্ধান্তের সঙ্গে আমরা কেন্দ্রীয়ভাবে সম্পূর্ণ একমত পোষণ করছি।

সেই হিসাবে ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত গণপরিবহন বন্ধ রাখার জন্য দেশের সব পরিবহন মালিকদের তারা অনুরোধ করেন।

নৌপথ : মঙ্গলবার দুপুরে লঞ্চসহ যাত্রীবাহী নৌযান চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। এদিন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এক ভিডিওবার্তায় এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। এতে তিনি বলেন, করোনাভাইরাস মোকাবেলায় সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২৪ মার্চ থেকেই নৌচলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ।

পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত লঞ্চ চলাচল করবে না। যাত্রীবাহী নৌযান চলাচল করবে না। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য কার্গোর মাধ্যমে পরিবহন করবে। সীমিত আকারে ফেরি চলাচল করবে। ফেরিতে সাধারণ মানুষ পারাপারের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা থাকবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা করোনা ঝুঁকির মধ্যে আছি। সড়কপথে অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি যান চলাচলের প্রয়োজন হয়। সে কারণে ফেরি চলাচল সীমিত আকারে চালু রাখছি।

অ্যাম্বুলেন্স বা প্রয়োজনীয় যান পারাপারের জন্য ফেরি সীমিত আকারে চলাচল করবে। তিনি আরও বলেন, সেনাবাহিনী সার্বিক সামাজিক নিরাপত্তার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন; সেজন্যও আমাদের ফেরিগুলো চালু রাখা দরকার।

খালিদ মাহ্মুদ চৌধুরী বলেন, বিভিন্ন উৎসবে ফেরিতে সাধারণ মানুষ পারাপার করি। বর্তমান অবস্থায় ফেরিতে সাধারণ মানুষ পারাপারের ক্ষেত্রে নিষধাজ্ঞা রয়েছে। তিনি বলেন, সরকার যে ছুটি ঘোষণা করেছে; সেটি উৎসবের ছুটি নয়। করোনা ঝুঁকি মোকাবেলার জন্য ছুটি ঘোষণা করেছে। যে যেখানে আছি আমরা সেখানে অবস্থান করব। আমরা স্থানান্তর হবো না।

এ ঘোষণার পর মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকেই সদরঘাট থেকে লঞ্চ চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। ওই সময়ে সদরঘাটে হাজার হাজার মানুষ ভিড় জমান। একপর্যায়ে সদরঘাটে ঢোকার প্রবেশপথগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়। তখন যাত্রীরা নৌকাসহ বিভিন্ন মাধ্যমে কয়েকটি লঞ্চে উঠে পড়েন। সরকারের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে কয়েকটি লঞ্চ ছেড়ে গেলে সেগুলোকে আবার ঘাটে ফিরিয়ে এনে যাত্রী নামিয়ে দেয়া হয়।

ট্রেন : মঙ্গলবার থেকে ট্রেন চলাচলেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে রেলপথ মন্ত্রণালয়। সোমবার দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে রেলপথ মন্ত্রণালয় থেকে রেলওয়ে পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) বরাবর সব মেইল, লোকাল, কমিউটার ও ডেমু ট্রেন বন্ধ করতে নির্দেশনা দেয়া হয়।

নির্দেশনা অনুযায়ী মঙ্গলবার ভোর থেকে দুই অঞ্চলে ২৫৭টি মেইল, লোকাল, কমিউটার ও ডেমু ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। এ অবস্থায় মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটায় মন্ত্রণালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে রেলপথমন্ত্রী মো. নুরুল ইসলাম সুজন বলেন, দেশে মোট ৩৬৪টি যাত্রীবাহী ট্রেন আছে।

যার মধ্যে ৯৮টি আন্তঃনগর এক্সপ্রেস। সোমবার গভীর রাত থেকে সব আন্তঃনগর ট্রেনসহ ( ৯৮টি) আরও ৯টি মেইল ও কমিউটার ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। আর মঙ্গলবার ভোর থেকে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে ২৫৭টি ট্রেন। সরকারের পরবর্তী নির্দেশনা ছাড়া কোনো ট্রেনই চলাচল করবে না।

তবে সরকারের বিশেষ কাজে ট্রেন চলতে পারে। তবে সব মালবাহী ট্রেন চলাচল করবে। সংবাদ সম্মেলনে রেলপথমন্ত্রী আরও বলেন, কিছু আন্তঃনগর ট্রেন রয়েছে- যেগুলো পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চল থেকে মঙ্গলবার ভোরে এবং দুপুরের দিকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসছে।

এসব ট্রেন ঢাকায় এসে আবার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে রাতের মধ্যেই দুই অঞ্চলের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে। কারণ ট্রেনগুলো রাখার পর্যাপ্ত জায়গাও নেই। মূলত মঙ্গলবার থেকেই সব ট্রেন চলাচল বন্ধ। শুধু ট্রেন রাখার জায়গা না থাকার কারণে- কমলাপুর থেকে কিছু ট্রেন দুই অঞ্চলের স্ব স্ব গন্তব্যে ছেড়ে গেছে।

এদিকে মঙ্গলবারও আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করছে- এমনটা ভেবে বিশেষ করে কমলাপুর ও বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনে সাধারণ যাত্রীদের ভিড় জমে। দুপুরের পর থেকে মোহনগঞ্জসহ বেশ কয়েকটি আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রা বাতিল করে দেয়া হলে যাত্রীদের মধ্যে অসন্তোষ শুরু হয়।

যাত্রীরা জানিয়েছেন, সোমবার যদি গণমাধ্যমে জানিয়ে দেয়া হতো- মঙ্গলবার কোনো ট্রেন চলবে না, তাহলে হাজার হাজার যাত্রী স্টেশনে এসে ভিড় জমাত না। অনেকে টিকিট কেটেছেন। টিকিটের মূল্য কি করে ফেরত পাওয়া যাবে- তাও জানতে চান যাত্রীরা।

সিলেট ছাড়া বিমানের সব অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বন্ধ : এদিকে যাত্রী সংকটে আজ বুধবার থেকে সিলেট বাদে বিমানের সব অভ্যন্তরীণ রুটের ফ্লাইট অপারেশন বন্ধ করা হচ্ছে। আজ সকাল থেকে বন্ধ হচ্ছে বিমানের ঢাকা চট্টগ্রাম ও ঢাকা-কক্সাবজারের সব ফ্লাইট। ৩১ মার্চ পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে।

অপরদিকে কাল থেকে বন্ধ হচ্ছে ঢাকা-যশোর, ঢাকা-রাজশাহী এবং ঢাকা-সৈয়দপুরের সব ফ্লাইট। এই নিষেধাজ্ঞাও ৩১ মার্চ পর্যন্ত বলবত থাকবে। বিমানের এমডি মোকাব্বির হোসেন যুগান্তরকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ঢাকা-চট্টগ্রামের সব ফ্লাইটের পাশাপাশি আজ থেকে ঢাকা-সিলেটের বিজি ৬০১, ৬০২ এবং ২৯ মার্চের বিজি ৪০১, ৪০১ ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।

জানা গেছে, বিমানের ১৭টি আন্তর্জাতিক রুটের মধ্যে ১৫টি বন্ধ হয়ে গেছে। একমাত্র ঢাকা-লন্ডন ও ম্যানচেস্টার রুটে ফ্লাইট চলাচল অব্যাহত আছে। এই সুযোগে করোনা আক্রান্ত ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে যাত্রীরা লন্ডন হয়ে ঢাকা আসছেন। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বিজ্ঞপ্তি : এদিকে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৩ মার্চ সাধারণ ছুটিসহ ১০টি বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন। লক্ষ্য করা যাচ্ছে, করোনাভাইরাস থেকে মুক্ত থাকতে নিজ নিজ ঘরে আইসোলেশনের জন্য যে ছুটির ব্যবস্থা সরকার করেছে তার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের ব্যত্যয় ঘটিয়ে অনেকেই ছুটি কাটাতে গ্রামের বাড়ি বা আত্মীয়স্বজনের বাসায় বেড়াতে যাচ্ছেন বা বিভিন্ন উৎসবে যোগ দিচ্ছেন, যা মোটেও কাম্য নয়।

সুতরাং এই বিজ্ঞপ্তিতে সবার অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ছুটিকালীন গ্রামের বাড়িতে বা অন্য কোনো উৎসবে না গিয়ে বা বাড়ির বাইরে না গিয়ে নিজ নিজ অবস্থানে আইসোলেশনে থাকতে হবে। ঘোষণাটি গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানান স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি ৯ এপ্রিল পর্যন্ত : শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি আগামী ৯ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। করোনাভাইরাসের বিদ্যমান পরিস্থিতির কারণে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় যৌথভাবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে এই ছুটি আগামী ৩০ মে পর্যন্ত বাড়ানোর ঘোষণা আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

৯ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটি বাড়ানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব আকরাম-আল-হোসেন। সরকারের এই দুই সচিব আলাদাভাবে যুগান্তরকে জানান, পরিস্থিতি অনুযায়ী পরে হালনাগাদ সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

সব আদালতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা : সুপ্রিমকোর্টসহ দেশের সব আদালতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ২৯ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত এই ছুটি কার্যকর শুরু হবে। এ বিষয়ে মঙ্গলবার সুপ্রিমকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. আলী আকবরের স্বাক্ষরে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

সুপ্রিমকোর্টের মুখপাত্র ও হাইকোর্ট বিভাগের বিশেষ কর্মকর্তা মোহাম্মদ ব্যারিস্টার সাইফুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে যেহেতু সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। এটা বিবেচনায় নিয়ে প্রধান বিচারপতির নির্দেশে এই ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

ছুটির নোটিশে বলা হয়েছে, দেশব্যাপী করোনাভাইরাস রোগের (কোভিড-১৯) সংক্রমণ মোকাবেলা এবং এর বিস্তার রোধকল্পে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ২৯ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

এ প্রেক্ষাপটে আগামী ২৯ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত সুপ্রিমকোর্টের উভয় বিভাগ ও সব অধস্তন আদালতগুলোয় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হল। এর আগে করোনাভাইরাসের পরিপ্রেক্ষিতে দেশের সব জেলা ও দায়রা জজ, মহানগর দায়রা জজ, মুখ্য বিচারিক হাকিম ও মহানগর মুখ্য বিচারিক হাকিমদের উদ্দেশে ৪ এপ্রিল আয়োজিত প্রধান বিচারপতির অভিভাষণ অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়েছে।

এছাড়া বিচারক, আইনজীবী ও বিচার বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আদালতে আসা বিচারপ্রার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে সুপ্রিমকোর্ট ও নিম্ন আদালতগুলোতে বিচার কাজ সীমিত করা হয়েছে।

ওকে-এস আলম

ছুটি বাসায় থাকার জন্য, উৎসবের জন্য নয় -প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব : সরকারি নির্দেশ উপেক্ষা করে ছুটিতে যারা শহর ছেড়ে গ্রামে যাচ্ছেন ও বাসা থেকে বের হচ্ছেন, তাদের বাসায় থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস।

তিনি বলেছেন, এই ছুটি উৎসব করার জন্য নয়, করোনার সংক্রমণ থেকে বাঁচতে সতর্কতার অংশ হিসেবে বাসায় থাকার জন্য দেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে মঙ্গলবার তিনি এসব কথা বলেন।

সবাইকে বাসায় থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব বলেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে কিছু নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এ ছুটি করোনা প্রতিরোধ করার জন্য। করোনাভাইরাস প্রতিরোধের মূলমন্ত্র- ‘যার যার ঘরে থাকুন, করোনাভাইরাস প্রতিরোধ করুন।’

সে জন্য সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে আগামী ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত। সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে, এর মানে হচ্ছে- এই ছুটির মধ্যে কর্মকর্তা-কর্মচারী সবাই বাসায় থাকবেন।

বেসরকারি সংস্থাগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতিও একই আহ্বান জানান ড. আহমদ কায়কাউস। তিনি বলেন, অতীব প্রয়োজন ছাড়া কোনোভাবেই ঘরের বাইরে যাবেন না। জরুরি প্রয়োজনে যদি যেতে হয়, তাহলে স্যানিটাইজেশন ও সব ধরনের প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেই যাবেন। এই নির্দেশনা মানার জন্য সবাইকে অনুরোধ করছি।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে সারা বিশ্বের মতো সরকার এই নীতি অনুসরণ করছে বলে জানান তিনি।

সরকারের তরফ থেকে ট্রেন, বাস, লঞ্চ বন্ধ করা হয়েছে জানিয়ে আহমদ কায়কাউস বলেন, যে জায়গায় আছেন, আপনারা স্থান ত্যাগ করবেন না। যারা ইতোমধ্যে চলে গেছেন তাদের অনুরোধ করব, ঘরের বাইরে যাবেন না।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব বলেন, এটি এখন জাতীয়ভাবে সবাই একসঙ্গে মোকাবেলার সময় এসেছে। আপনারা দয়া করে এর ব্যত্যয় ঘটাবেন না। সবাইকে সামাজিক দূরত্বও বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।

জনজীবন যাতে ব্যাহত না হয় সেজন্য সরকার সব ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে জানিয়ে ড. আহমদ কায়কাউস বলেন, যারা নিম্ন আয়ের মানুষ, তাদের জন্য ওএমএস চালু আছে। সরকারের তরফ থেকে জেলা প্রশাসকদের কাছে নগদ টাকা এবং খাদ্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। যখনই প্রয়োজন হয় আমাদের প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই সহায়তা দেয়া হবে। যখনই কোনো প্রয়োজন হবে সরকারের লোকজন বাড়ি বাড়ি যাবে।

খুলনা : খুলনা থেকে চার রুটের পাঁচটি লোকাল ট্রেন বন্ধ করেছে রেলওয়ে। মঙ্গলবার থেকে খুলনা-গোয়ালন্দ রুটের নকশি কাঁথা এক্সপ্রেস, খুলনা-পার্বতীপুর রুটের রকেট মেইল, খুলনা-বেনাপোল রুটের বেতনা ও কমিউটার এক্সপ্রেস এবং খুলনা-চাঁপাইনবাবগঞ্জ রুটের মহানন্দা এক্সপ্রেস বন্ধ করা হয়েছে।

শিবচর (মাদারীপুর) : কাঁঠালবাড়ী-শিমুলিয়া নৌরুটে লঞ্চ, স্পিড বোটসহ সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করছে কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার বেলা ১২টা থেকে বন্ধ রয়েছে এ নৌরুট।

শিবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) : ভারতীয় মহদিপুর স্থলবন্দর এক্সপোর্ট ও ইমপোর্টার অ্যাসোসিয়েশন মঙ্গলবার থেকে ২৭ মার্চ পর্যন্ত টানা চারদিন সব ধরনের আমদানি-রফতানি কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেছে।

সোমবার বিকালে মহদিপুর স্থলবন্দর এক্সপোর্ট ও ইমপোর্টার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত একটি পত্রে সোনামসজিদ স্থলবন্দর আমদানি-রফতানিকারক গ্রুপকে জানিয়েছেন। এছাড়া সোনামসজিদ কাস্টমস, সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনকেও অনুরূপ পত্র দিয়েছে।

দেওয়ানগঞ্জ (জামালপুর) : দেওয়ানগঞ্জ বাহাদুরাবাদ ফুটানী বাজার ঘাট ও ওপারের গাইবান্ধা বালাসী ঘাটের মধ্যে নৌ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা পরিষদ। মঙ্গলবার ঘাট ইজারাদার রেজাউল করিম জানান, আন্তঃনগর তিস্তা ট্রেনের যাত্রীসহ আশপাশ জেলার নৌযাত্রীরা পারাপার হয়।

মনপুরা (ভোলা) : মনপুরায় ফার্মেসি, মুদি দোকান ও কাঁচা বাজারের দোকান ব্যতিত অনির্দিষ্টকালের জন্য দোকান-পাট বন্ধ রাখতে নির্দেশ দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার উপজেলা পরিষদের জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

বোয়ালমারী (ফরিদপুর) : স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশে উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন এলাকার হাট-বাজার বন্ধের নির্দেশনা মঙ্গলবার থেকে কার্যকর হয়েছে। ফের নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত ফার্মেসি, কাঁচামাল, মাছ-মাংসের দোকানসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির দোকান বাদে সব সাধারণ দোকান বন্ধ থাকবে।

কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) : কালীগঞ্জ উপজেলার সব সাপ্তাহিক হাট বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। মঙ্গলবার এ তথ্য নিশ্চিত করেন কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুবর্ণা রানী সাহা।

শরীয়তপুর : জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মঙ্গলবার সকাল থেকে জেলার ছয়টি উপজেলার সব দোকানপাট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। শুধু মুদি দোকান ও ওষুধের দোকান খোলা রয়েছে।

গৌরনদী (বরিশাল) : গৌরনদী উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার ও বাসস্ট্যান্ডের ওষুধ, হোটেল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান ছাড়া সব দোকানপাট বন্ধ করা হয়েছে। পাশের মাদারীপুর জেলা করোনাভাইরাস চিহ্নিত করার কারণে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সোমবার রাতে এ বিষয়ে মাইকিং করা হয়।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
Website Design and Developed By Engineer BD Network