২৮শে মে, ২০২০ ইং, বৃহস্পতিবার

 

করোনা বিপর্যয় : জনপ্রতিনিধিদের পাশে চান নগরবাসী

আপডেট: মার্চ ২৯, ২০২০

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

 

শফিক মুন্সি ::

বরিশাল নগরীর ২৪ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা সাবানা বেগম।বিভিন্ন বাসা-বাড়িতে করেন গৃহকর্মীর কাজ।

অটোচালক স্বামী সহ পাঁচজনের সংসার তাঁর। করোনা প্রাদুর্ভাব রুখতে প্রশাসন কর্তৃক সকল জনসমাগম নিষিদ্ধ ও যান চলাচলে স্বল্প মাত্রার নিষেধাজ্ঞা জারির খবরে মাথায় হাত পড়েছে তাদের। প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্তে কর্মহীন হয়ে পড়া স্বামীর জন্য এখন তাদের চুলার আগুন নেভার উপক্রম। করোনা সংক্রমণের খবরে সাবানার মতো নগরজুড়ে বাস করা নিম্নআয়ের মানুষদের জীবনে সৃষ্টি হয়েছে বিপর্যয়। নগরবাসীর বিপর্যয়ের সময়ে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সরব উপস্থিতি ও সহযোগিতা বৃদ্ধির কথা থাকলেও দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। বরিশাল নগরীর সিটি কর্পোরেশন (বিসিসি), সদর উপজেলা সহ বিভিন্ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিরা নগরবাসীর এমন সংকটে পালন করছেন অদ্ভুত নীরবতা।

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণে বিশ্বব্যাপী সকলের বেড়েছে স্বাস্থ্য ঝুঁকি। সচেতনতার অভাবে নগরজুড়ে বাড়ছে আক্রান্তের শংকা। এরই মধ্যে গত ২৪ ঘন্টায় দুজন সন্দেহভাজন করোনা সংক্রামিত রোগীর মৃত্যু হয়েছে শেরে বাংলা হাসপাতালে। এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর নগরের বাসিন্দাদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে ভীতি। সংক্রমণ রুখতে বাংলাদেশ সরকার কার্যত লকডাউন করে রেখেছে সবকিছু। পেশাজীবি কিংবা দিনমজুর সকলের আয়ের ওপর পড়তে শুরু করেছে লকডাউনের প্রভাব। নাগরিকদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি ও নিম্নআয়ের মানুষদের সহযোগিতা করার কথা চিন্তা করে মাঠে নামা উচিত ছিল নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের। কিন্তু তাদের কার্যক্রম সন্তোষজনক ছিল না বলে জানিয়েছেন নগরীর একাধিক বাসিন্দা।

নগরীর ১২ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা ও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী নাহিন রেজওয়ান। তিনি জানান, করোনা প্রতিরোধে সবচেয়ে বেশি দরকার নাগরিকদের সচেতনতা। এছাড়া যেহেতু সবাই ঘরে বসে আছে তাই নিম্নআয়ের মানুষের জীবিকা নির্বাহ বলতে গেলে বন্ধ রয়েছে।আমাদের জনপ্রতিনিধিরা যদি সচেতনতা বৃদ্ধি এবং গরীব – দুঃস্থ মানুষদের জন্য এসময় এগিয়ে আসতো তবে ভালো হতো। তাদের সাহায্য ছাড়া বর্তমান পরিস্থিতিতে সৃষ্ট সংকট মোকাবেলা সম্ভব নয়।তিনি আরো উল্লেখ করেন,বিপর্যয়ের এ সময়ে এখন পর্যন্ত কোনো জনপ্রতিনিধির সেবামূলক কার্যক্রম তাঁর চোখে পড়ে নি। জনপ্রতিনিধিদের নীরবতা ক্ষুব্ধ করেছে সাবানা বেগমকেও। তিনি বলেন, ” হ্যাগো (জনপ্রতিনিধিদের) ভোটের সময় আইলেই খালি আমাগো কতা মনে পড়ে । এহন যে আমাগো ভাত রান্দা বন্দ হেডার খবর নেয় না ক্যা?”

২৫ মার্চ থেকে সরকারি বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা জারি হলেও গত ১৭ মার্চের পর থেকে খোঁজ নেই বরিশাল সিটি কর্পোরেশন (বিসিসি) মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী অনুষ্ঠানের পর তাঁর কোনো ধরনের তৎপরতার খবর কেউ জানাতে পারেননি। তবে সিটি কর্পোরেশন সূত্রে জানা গেছে নগরীর রাস্তাগুলো জীবাণুনাশক করার প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া শহরের কয়েকটি স্থানে হাত ধোয়া কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। সদর উপজেলা চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান রিন্টুকে বারকয়েক মাস্ক ও লিফলেট বিলি করতে দেখা গেছে। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও সদর সাংসদ কর্ণেল (অবসরপ্রাপ্ত) জাহিদ ফারুক শামীম বরিশালে নেই দীর্ঘদিন। তবে তাঁর পক্ষ থেকে ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা সামগ্রী ও ছিন্নমূলদের খাবার সরবরাহ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

মুঠোফোনে মন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করলে জানা যায় তিনি ঢাকাতে আছেন। দ্রুতই বরিশালে আসবেন জানিয়ে তিনি বলেন, ” করোনা প্রতিরোধক কিছু সামগ্রী নগরবাসীদের দেওয়া হয়েছে৷ এ সপ্তাহের শেষ নাগাদ আমি নিজে বরিশালে এসে আরো সামগ্রী বিতরণ করবো”। তিনি আরো জানান, নিজ সংসদীয় আসনের নিম্নআয়ের মানুষদের জন্য কিছু পরিকল্পনা তাঁর আছে৷ যেগুলো আগামী সপ্তাহের শুরু থেকে বাস্তবায়ন শুরু হতে পারে৷

বিসিসি মেয়রকে কয়েকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি ধরেন নি৷ তবে মেয়রের নির্দেশে সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে কাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে জানান বিসিসির পানি বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ওমর ফারুক।তিনি বলেন, “শুক্রবার থেকে সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে জীবাণুনাশক ছিটানোর কার্যক্রম শুরু করা হয়। পরে তা পর্যায়ক্রমে বরিশাল নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ছিটানো হচ্ছে। এছাড়া নগরীর গুরুত্বপূর্ন সড়কের মোড়ে হাত ধোয়ার কার্যক্রম চালু রয়েছে। গোটা নগরী স্প্রে করার জন্য তাদের কর্মী ও গাড়িগুলো নিয়োজিত রয়েছে। চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন স্থানে এ জীবাণুনাশক স্প্রে করা হচ্ছে।”

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
Website Design and Developed By Engineer BD Network