৮ই আগস্ট, ২০২০ ইং, শনিবার

 

তালতলীতে সাত বছরের শিশু কন্যাকে গাছের সাথে বেঁধে রেখে মাকে গণধর্ষণ

আপডেট: মে ১, ২০২০

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি।

সাত বছরের শিশু কন্যাকে গাছের সাথে বেঁধে  হত্যার ভয় দেখিয়ে মাকে গণধর্ষণ  করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ঘটনার এক সপ্তাহ পরে বৃহস্পতিবার রাতে এ ঘটনায় তালতলী থানায় ধর্ষণ চেষ্টার মামলা হয়েছে।

পুলিশ এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।

এ ঘটনাকে ধামাচাপা দেয়ার জন্য একটি মহল উঠেপড়ে লেগেছে।

ঘটনা ঘটেছে তালতলী উপজেলার শুভ সন্ধ্যা সমুদ্র সৈকতের গহীন জঙ্গলে গত ২২ এপিল (বুধবার)।

শুক্রবার ওই গৃহবধুর আমতলী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মোঃ শাকিব হোসেন  জবানবন্দি গ্রহন করেছেন।

জানাগেছে, পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলার শাপলেজা গ্রামের শ্বশুরবাড়ী থেকে গত ২২ এপ্রিল (বুধবার) এক গৃহবধূ তার সাত বছরের শিশুকন্যাকে নিয়ে পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর গ্রামে খালাবাড়ি যাচ্ছিল

। পথিমধ্যে পাথরঘাটা থেকে একটি মাছ ধরা নৌকায় পাড় হয়ে তালতলী শুভসন্ধ্যা ঘাটে পৌছায়।

ওইখান থেকে তেতুঁলবাড়িয়া এলাকার আলমগীর আকনের ছেলে জহিরুল আকনের ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেলে নিশানবাড়িয়া যাওয়ার জন্য ভাড়া করে।

ওই সময় মোটর সাইকেল চালক জহিরুল তাকে করোনা ভাইরাসের হুমকি দিয়ে সাথে থাকা এক হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায় এবং চালক জহিরুল ওই গৃহবধুকে নিশানবাড়িয়া না নিয়ে ভিন্ন পথে শুভ সন্ধ্যা পর্যটন কেন্দ্রের গহীন জঙ্গলে নিয়ে গাড়ি থামায়।

ওইখানে গাড়ি থামিয়ে পেট্রোল নেই বলে একই এলাকার সোহাগ নামের একজনকে মোবাইল ফোনে পেট্রোল নিয়ে যেতে বলে।

কিছুক্ষনের মধ্যেই পাচ জন যুবক গিয়ে তার মেয়ের গলায় ছুরি দিয়ে হত্যার হুমকি দিয়ে জিম্মী করে এবং শিশু কন্যাকে গাছের সাথে বেঁধে মাকে পালাক্রমে পাঁচ জন মিলে গণধর্ষণ করে ।

এই ঘটনার এক সপ্তাহ পরে বৃহস্পতিবার তালতলী থানা পুলিশ ধর্ষণ মামলা না নিয়ে ধর্ষণ চেষ্টার মামলা নিয়েছে।

এদিকে একটি প্রভাবশালী মহল এ ঘটনাকে ধামাচাপা নেয়ার জন্য উঠেপড়ে লেগেছেন।

তারা এ ঘটনাকে ভিন্নখাতে নেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন।

অপরদিকে  এ ঘটনার সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি দাবী করেছেন এলাকাবাসী।

এ ঘটনায় বৃহস্পবতিবার তালতলী থানা পাঁচজনকে আসামী করে মামলা হয়েছে।

শুক্রবার পুলিশ ওই গৃহবধুকে ২২ ধারায় জবানবন্দির জন্য আমতলী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠিয়েছেন।

আদালতের বিচারক মোঃ শাকিব হোসেন ওই গৃহবধুর জবানবন্ধি নিয়েছেন।

এ ঘটনার ৯ দিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ এখনো কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।

এ ঘটনার জানাজানি হয়ে গেলে ঘটনার সাথে জড়িত জহিরুল,এমাদুল, নজরুল,সোহাগ ও সাইদুল এলাকা থেকে গা-ঢাকা দিয়েছে।

ওই গৃহবধূ বলেন, ২২ এপ্রিল (বুধবার) স্বামীর নির্যাতন সইতে না পেরে সকাল ৮ টার দিকে শশুর বাড়ি থেকে রওনা দিয়ে পাথরঘাটা পৌছায়।

পাথরঘাটা থেকে একটি মাছ ধরা নৌকা পাড় হয়ে তালতলী উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের শুভসন্ধ্যা ঘাটে নামি।

তারপর এক মোটরসাইকেল চালকের সাথে নিশানবাড়ীয়া খেয়াঘাট যাওয়ার চুক্তি করি।

মোটরসাইকেল চালক আমাকে নিশানবাড়ীয়া খেয়াঘাট না নিয়ে শুভ সন্ধ্যার গহীন জঙ্গলে নিয়ে যায়।

ওইখানে নিয়ে ওই মোটর সাইকেল চালক আরেক মোটরসাইকেল চালককে মোবাইলে ডেকে আনে।

ও তার সঙ্গে থাকা আরও পাঁচজন লোক আমার মেয়েকে গাছের সাথে ওড়না দিয়ে বেঁধে গলায় চাকু ধরে।

মেয়েকে মেরে ফেলার ভয় দেখিয়ে সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত পালাক্রমে আমাকে ধর্ষণ করে। তিনি আরও বলেন, তারা আমাকে অজ্ঞান অবস্থায় ফেলে রেখে চলে যায়।

আমার জ্ঞান ফেরার পরে ওই জায়গা থেকে একবাড়িতে এসে একটু পানি খেতে চাইলে গ্রামবাসী কেউ আমাকে একটু পানি পর্যন্ত দেয়নি।

তারপর ওই এলাকার কয়েকজন লোক পাশেই ট্রলার মেরামত করতেছিল তারা আমাকে একটি মোটরসাইকেল ভাড়া করে দেয় আমি আমার খালা বাড়ি চলে আসি।

তিনি আরো বলেন, করোনা ভাইরাসের ভয় দেখিয়ে ওরা  আমার কাছে থাকা এক হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে।

আমি এ ঘটনার সুবিচার চাই।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বলেন, ওইগৃহবধু তার মেয়েসহ তেতুলবাড়িয়া আসার পর জহিরুলের ভাড়ায় চালিত মোটর সাইকেলে ওঠার পর পিছু নেয় একই এলাকার সোহাগ, এমাদুল, সাইদুল ও নজরুল।

এরপর তারা জঙ্গলে নিয়ে ধর্ষন করেছে ওই গৃহবধুকে।

তারা আরও জানায়, শুভ সন্ধ্যা পর্যটন কেন্দ্রে এর আগেও একাধীকবার জহিরুল, এমাদুল, সোহাগ,সাইদুল ও তার দলবল ধর্ষন করেছে পর্যটকদের।

স্থানীয় গ্রাম পুলিশ সেলিম, দুলাল হোসেন, লিটন, জসিম, মোটরসাইকেল চালক হাবিব ও ব্যাবসায়ী কবির  বলেন, শুনেছি একজন মহিলা তার মেয়েকে নিয়ে শুভ সন্ধ্যা থেকে নিশানবাড়িয়া খেয়াঘাট যাবে, কিন্তু মোটরসাইকেল চালক জহিরুল নিশানবাড়ীয়া না-নিয়ে শুভ সন্ধ্যার গভীর জঙ্গলে নিয়ে তার সহযোগী এমাদুল, সোহাগ, নজরুল ও সাইদুল গণধর্ষণ করেছে।

নিশানবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ দুলাল ফরাজী এ ঘটনার বিচার চেয়ে বলেন, যারা এ কাজটি করেছে তারা এলাকায় চিহিৃত অপরাধী।

তিনি আরো বলেন, এ ঘটনায় গতকাল থাকায় মামলা হয়েছে।

তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি কামরুজ্জামান বলেন, ভিক্টিম নিজেই থানায় এসেছিল, তার কথিত মতে থানায় মামলা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, এ ঘটনার সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি দেয়া হবে।

বরগুনা পুলিশ সুপার মোঃ মারুফ হোসেন পিপিএম বিপিএম বলেন, অপরাধী যেউ হোক তাকে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি দেয়া হবে।

কোন মতেই অপরাধী পাড় পাবে না।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
Website Design and Developed By Engineer BD Network