৫ই আগস্ট, ২০২০ ইং, বুধবার

 

প্রধানমন্ত্রীর ২৫শ টাকার বিশেষ সহায়তা নিয়ে অর্থ বানিজ্য

আপডেট: জুলাই ৫, ২০২০

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

সৈয়দ নূর-ই আলম,বেতাগী(বরগুনা)প্রতিনিধি:
বরগুনার বেতাগীতে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহায়তা বরাদ্দ ২৫০০’শ টাকার তালিকা পুনঃ যাচাইয়ের ক্ষেত্রে মোবাইলের সিম বিক্রিকে কেন্দ্র করে অর্থ বানিজ্যের অভিযোগ পাওয়া গেছে। জানা যায়, মোবাইল সিম কোম্পানির বিক্রেতাদের সাথে ইউনিয়ন পরিষদের সচিব সহ ইউপি সদস্যদের চুক্তিতে সাধারন জনগনের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে এ অর্থ। সিম বিক্রির জন্য নির্ধারিত অর্থের ব্যাপারে বেতাগী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঘোষনা দিয়ে থাকলেও সেই ঘোষনা কোন কাজেই আসছে না। অপরদিকে করোনার ভয়াবহ পরিস্থিতিতে সামাজিক দূরত্ব বজায় না রেখেই শত শত লোকের সমাগম মোবাইল সিমের রেজিষ্ট্রেশন করা হচ্ছে।
বেতাগী উপজেলায় হতদরিদ্রের তালিকায় ৭ হাজার ২০০ জন তালিকাভূক্ত করা হয়। এর মধ্যে বিবিচিনি ইউনিয়নে ১ হাজার ৩ জন, বেতাগী সদর ইউনিয়নে ৯১৬, হোসনাবাদ ইউনিয়নে ৯৮৮, মোকামিয়ায় ৮৩৩, বুড়ামজুমদার ইউনিয়নে ৮৮৫, কাজিরাবাদ ইউনিয়নে ৮০৮ , সড়িষামুড়ি ইউনিয়নে ৯২৮ জন এবং পৌরসভায় ৮৮০ জন, , তালিকাভুক্ত করা হয়।
জানা যায়, নতুন করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয় থেকে তালিকাভুক্ত ৭ হাজার ২০০ জনের মধ্যে ৪ হাজার ৭৬৫ জনের তালিকা পুনঃযাচাই করে দেওয়ার নিদের্শনা দেওয়া হয়েছে। এরই ভিত্তিতে নতুন করে মোবাইল সিমে ব্যাক্তির নিজের এনআইডি দিয়ে রেজিষ্ট্রেশন করা হচ্ছে।
উপজেলার হোসনাবাদ ইউনিয়নের এ সহায়তা বরাদ্দে ৯৮৮ জন অসহায় লোকদের নাম তালিকাভূক্ত করা হলেও এর মধ্যে ৬২৫ জনের নাম আসেনি । জানা যায় তাদের নামের সাথে মোবাইল নম্বরের রেজিষ্ট্রেশন ঠিক ছিলো না যার ফলে তাদের এনআইডি কার্ড দিয়ে পূনরায় রেজিষ্ট্রেশন করে সিম ক্রয়ের কথা বলা হয়েছে। তবে একাধিক ইউপি সদস্য তাদের সিম ক্রয়ের জন্য ১৫০টাকা সহ অন্যান্য খরচ দেখিয়ে আরো ৫০-১০০ টাকা সহ ২০০-২৫০ টাকা জনপ্রতি করে অতিরিক্ত উত্তলন করেছে। এমন অবস্থায় অসহায় শতাধিক লোক ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং বলেন, নাম দেয়ার সময় ঘুষ দিয়েছি, আবার এখন দিচ্ছি, টাকা পাবো পঁচিশ’শ, কবে পাবো তাও জানিনা।
এমন অভিযোগের ব্যাপারে ইউনিয়ন পরিষদের সচিব শৈলান চন্দ্রের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, আমরা মিটিং করে সিদ্ধান্ত নিয়েছি ১৫০ টাকা করে নিবো তবে ইউপি সদস্যরা বেশি নিয়েছে কিনা আমার জানা নাই তবে আমি শুনেছি। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ খলিলুর রহমান খানকে এ ব্যাপারে জানতে মুঠোফোনে কল দিলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন কথা বলা সম্ভব হয়নি ।
সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য মো. কামাল হোসেন বলেন, উক্ত পরিষদের (৪,৫,৬) নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য মোসা. মুক্তা আক্তার প্রথমে ২০০ টাকা করে উত্তলন করেছিলেন পরে ১৫০ টাকা করে উত্তলন করেন। এছাড়াও নাম না প্রকাশের শর্তে একাধিক ব্যাক্তি বলেন, ইউপি সদস্য আলতাফ হোসেন জনপ্রতি আরো পঞ্চাশ টাকা বেশি উত্তলন করেছেন তবে জানতে চাইলে আলতাফ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি তাদের কাছ থেকে ভাড়া টাকা নিয়েছি। একইসাথে মহিলা ইউপি সদস্য মুক্তা আক্তার বলেন, আমি অতিরিক্ত কোন টাকা নেইনি। সংশ্লিষ্ট এলাকার একাধিক বাসিন্দা বলেন, বাজারে মোবাইলের সিম দোকান থেকে ক্রয় করলে সর্বোচ্চ ৮০ টাকা লাগে কিন্তু, ইউনিয়ন পরিষদে কিছু কোম্পানীর লোক এনে তাদের সাথে চুক্তি করে এমন অর্থ বানিজ্য করা হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ রাজীব আহসান বলেন, মোবাইল সিমের দামের ব্যাপারে ১০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে টাকা বেশি নেয়ার ব্যাপারে আমি অভিযোগ পেয়েছি এবং সাথে সাথে সচিবকে অতিরিক্ত টাকা ফেরৎ দেয়ার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তারপরও সত্যতা পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
Website Design and Developed By Engineer BD Network