৮ই আগস্ট, ২০২০ ইং, শনিবার

 

স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে বরিশালের লাখো মানুষ

আপডেট: জুলাই ১২, ২০২০

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
  • চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মীদের ব্যবহৃত

    মাস্ক গ্লোবস আর পিপিই উন্মুক্ত স্থানে।

  • মান্ধাতা আমলের ইনসেনেটর নিয়ে বিপাকে

    হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, অতঃপর বিকল।

সাইদুর রহমান পান্থ, বরিশাল ব্যুরো
দেশে ভয়াবহভাবে ছড়িয়ে পড়ছে করোনা সংক্রমন। তবে বরিশাল তথা দক্ষিণাঞ্চলের ১১ জেলার ভরশাস্থল শের-ই বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালে নানান অব্যবস্থাপনায় সুরক্ষা সমাগ্রী ফেলে রাখায় ঝুকিঁর মুখে পড়েছে লাখ লাখ মানুষ। এখানে ক্লিনিক্যাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বলতে কিছুই নেই। ক্লিনিক্যাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা মানে মাটি খুড়ে ফেলে রাখা হয় বলে বললেও বাস্তবে মেলে ভিন্নি চিত্র। চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্য কর্মীদের ব্যবহৃত মাস্ক গেøাবস আর পিপিই উন্মুক্ত স্থানে ফেলে দেয়ায় বাড়ছে সংক্রমনের শংকা। হাসপাতালে মান্ধাতার আমলের ইনসেনটর নিয়ে বিপাকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। আর ব্যবহার না করতে করতে বিকল সেটিও। এমন অব্যবস্থাপনায় চলছে শেবাচিম হাসপাতাল।

শেবাচিম হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, কাগজে কলমে ১ হাজার বেড থাকলেও বাস্তবে ইনডোর-আউটডোর মিলিয়ে প্রতিদিন প্রায় সাড়ে ৫ হাজার মানুষ চিকিৎসা পায় এই সরকারি হাসপাতালে। এরসাথে শেবাচিমে যোগ হয়েছে নতুন ১৫০টি করোনা বেড। বিপুল সংখ্যক এই মানুষের চিকিৎসা প্রশ্নে প্রতিদিন উৎপন্ন হয় কয়েক টন বর্জ্য। কিন্তু এসব বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কোন সঠিক পদ্ধতি নেই। শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ডা. বাকির হোসেন বলেন, ‘করোনা ওয়ার্ডের বর্জ্য তাৎক্ষনিকভাবে পুড়িয়ে ফেলি আমরা। এছাড়া হাসপাতালের পেছনে গর্ত করে ফেলা হয় অন্যান্য ক্লিনিক্যাল বর্জ্য।’

পরিচালকের দাবী অনুযায়ী, প্রতিদিন বর্জ্য ফেলার পর সেখানে বিøচিং পাউডার এবং সোডা দেয়া হয়। কিন্তু সরেজমিনে গিয়ে গর্তে বর্জ্য দেখা গেলেও বিøচিং পাউডার কিংবা সোডা দেয়ার কোন প্রমান মেলেনি। সেখানে চোখে পড়ে উন্মুক্তভাবে মাস্ক গেøাবস্ আর পিপিই পড়ে থাকার দৃশ্য। করোনা ইউনিট লাগোয়া ভবনটির দক্ষিণপাশে মূল সড়কের পাশেই ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখা হচ্ছে এসব সুরক্ষা সামগ্রী। যার মধ্যে পথশিশুরা ফেলে দেয়া প্লাস্টিকের বোতলসহ অন্যান্য জিনিসপত্র সেখান থেকে সংগ্রহ করে ভাঙ্গারীর দোকানে বিক্রি করছে।

জানা গেছে, ২০০৩ সালে সদর হাসপাতালের জন্য বরাদ্ধ হয় একটি ইনসেনেটর। নগরীর একেবারে কেন্দ্রে হওয়ায় সেখানে সেটি বসানো প্রশ্নে আপত্তি তোলে পরিবেশ অধিদপ্তর।

বহু চিঠি চালাচালির পর ২০০৯ সালে তা বসানো হয় শেবাচিম হাসপাতালে। হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ বাকির হোসেন বলেন, ‘ঘন্টায় ২৫ লিটার কেরোসিন লাগতো সেটি চালাতে। বর্জ্য পোড়ানো যেত ২০ থেকে ৩০ কেজি। যেখানে কেবল শেবাচিম হাপাতালেরই বর্জ্য হয় দৈনিক কয়েক টন সেখানে এই মেশিন কোন কাজে আসছিলনা। তারউপর কেরোসিনের ব্যায় নিয়ে প্রশ্ন তোলে ঢাকা। ফলে সেটি বন্ধ রাখতে বাধ্য হয় তৎকালীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বন্ধ থাকতে থাকতে একসময় নষ্ট হয়ে যায় ইনসেনেটর।’

পরিচয় গোপন রাখার শর্তে হাসপাতালের একটি সূত্র জানায়, ‘মান্ধাতা আমলের ইনসেনেটর হওয়ার কারনেই সৃষ্টি হয় জটিলতার। অথচ সেটি নাকি প্রায় ২ কোটি টাকায় কেনা হয়েছিল।

ডাঃ বাকির হোসেন বলেন, ‘বহু বছর ধরে হাসপাতালের জন্য ইনসেনেটর এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার যন্ত্র চেয়ে আসছি আমরা। কিন্তু আজ পর্যন্ত তা পাওয়া যায়নি।’

বরিশালের পরিবেশ ফেলো মুরাদ আহম্মেদ বলেন, ‘বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বলতে তুলে এনে ফেলা রাখা নয়। নিয়মানুযায়ী সব পুড়িয়ে ফেলতে হয়। প্রথমে বর্জ্যকে ৩ ভাগে ভাগ করতে হবে। সংক্রামক বা অতি বিপদজনক, সাধারন বিপদজনক এবং সাধারন। এরপর ক্যাটাগরি অনুযায়ী সেগুলোক নিয়ম ও সময় মেনে পুড়িয়ে ফেলবে ইনসেনেটর। কিন্তু এই ইনসেনেটর একটিও নেই বরিশালে। পুড়ে না ফেলে কেবল ফেলে দেয়ার কারণে নগরীর কাউনিয়ায় ডাম্পিং জোন’র আশেপাশের বাসীন্দারা এখন বসবাস করছে মৃত্যুর সাথে। শ্বাস কষ্টসহ নানা চর্ম ও পেটের পীড়ায় ভুগছে তারা। বরিশালে ইটিপি কিংবা বর্জ্য ব্যবস্থাপণার অন্য কোন উপকরনও নেই। অথচ নিয়ম মেনে সঠিক পদ্ধতিতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করা গেলে এসব সমস্যা হতনা।’ শেবাচিমের দুই চিকিৎসক অভিযোগ করে বলেন, ‘গত আড়াই মাসের-ও বেশী সময় ধরে হাসপাতালের বর্জ্য নিচ্ছেনা সিটি কর্পোরেশন। ফলে গর্ত করে ফেলতে হচ্ছে বর্জ্য।’

এব্যাপারে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের কর্ঞ্জাভেন্সী কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, ‘নিয়মানুযায়ী হাসপাতাল কিংবা ক্লিনিকের নিজস্ব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা থাকবে। মেডিকেল বর্জ্যরে মতো ঝুকিপূর্ন আবর্জনা নেয়ার কোন বিধান আমাদের নেই। তাছাড়া আমরা ওই বর্জ্য নিয়ে ফেলবো কোথায় ? যেখানেই ফেলবো সেখানেই তো ঝুঁকির মুখে পড়বে মানুষ।’ ##

সূত্র : যুগান্তর

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
Website Design and Developed By Engineer BD Network