৫ই আগস্ট, ২০২০ ইং, বুধবার

 

বাকেরগঞ্জে সড়ক নির্মাণে নয়ছয় : এলাকাবাসীর বাধা

আপডেট: জুলাই ২৫, ২০২০

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

নিজেস্ব প্রতিবেদক

স্থানীয়দের বাধার মুখে কয়েকদফা নির্মান কাজ বন্ধ থাকলেও রহস্যজন কারণে নির্মাণ কাজ চিলিয়ে যাচ্ছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের শ্যামপুর-বাকেরগঞ্জ সড়কের পাকাকরণ কাজে নিম্নমানের ইট ও পাথরের লাল খোয়া ব্যবহারের অভিযোগ উঠছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। এছাড়াও নির্মাণ কাজে ধীরগতি হওয়ায় চরম দুর্ভোগের শিকার দুই উপজেলার কয়েক হাজার পথচারীর।

জানা গেছে, ২০১৯-২০ অর্থবছরে উপজেলার বাকরেগঞ্জ-শ্যামপুর সড়কের পাকারমাথা থেকে শ্যামপুর বাজার পর্যন্ত ১৪৫০ মিটার ও আজিজ মেকারের বাড়ি থেকে শাখা সড়ক ৭০০ মিটার পাকাকরণ এবং ৫ টি বক্স কালভার্ট ও একটি ব্রিজ নির্মাণের জন্য দরপত্র প্রদান করা হয়। বিজিপি প্রকল্পের আওতায় কাজের জন্য বরাদ্দ দেয়া ২ কোটি ১০ লক্ষ ১৬ হাজার ৬শ ৮৬ টাকা। দরপত্রের মাধ্যমে মেসার্স সিফিত এন্টারপ্রাইজ ২০১৯ নভেম্বরে কাজ শুরু করে, ২০২০ এর জুলাই মাসেও ৪০ শতাংশ কাজ শেষে করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে ৭৫ শতাংশ কাজ সম্পূর্ণ দেখিয়ে তৃতীয় দফায় ১ কোটি ১০ লক্ষ টাকা তুলে নিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। কাজের শুরু থেকেই নি¤œমানের মালামাল ব্যবহার অভিযোগ ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের বাধার মুখে কয়েক দফা কাজ বন্ধ থাকলেও রহস্যজনক কারণে সেই নিম্নমানের সামুগ্রী দিয়েই নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। নাম না প্রকাশ করার শর্তে এক স্থানীয় জানান, মাটি মিশানো সিলেট চান বালু, লাল পাথরের খোয়া ব্যবহার করে ব্রিজ ঢালাই দিয়েছে। জানতে চাইলে স্থানীয় এক ঠিকাদার জানান, লাল পাথের খোয় ব্যবহার করার কোনো সুযোগ নেই। ওই সড়কে যে কাজ হয়েছে তাতে ৫০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়নি। এর মধ্যে ৭৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে বিল পরিশোধ কার ঠিক হয়নি। এর সাথে সংশ্লিষ্ট দপ্তর জড়িত আছে। লাল পাথর দিয়ে সরকারি কাজ আমরা কোথাও দেখিনায়। এখানে পচা পাথর ও মাটি মিশানো বালু ব্যবহার করছে। এটা কোনো ভাবেই সম্ভাব না।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নিম্নমানের পাথরে খোয়া স্তুপ করে রাখছে, ইটিরে বড়-বড় খোয়া সড়কে বিছিয়ে রাখছে। কোথাও কোথাও ময়লা-আবর্জনা মধ্যেই ঝাঁঝরা ইটি দিয়ে রেখেছে। এছাড়াও সড়কের কোথাও কোথাও ফেলে রাখা হয়েছে বালু, রাস্তার মাঝে মাঝে বড়-বড় গর্ত, আবার কোথাও দেখা গেছে ইটের ভাঙা অংশের স্তুপ। বড় বড় গর্তে পানি জমে চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। আর এতে চরম ভোগান্তীতে পড়ছে নিয়মিত চলাচলকারী হাজারও মানুষ।

স্থানীয়রা বলছে, বাকেরগঞ্জ ও নলছিটি উপজেলার কুশাংগল, সরমহল, মানপাশা, বিরংগল, শ্যামপুর, দাওকাঠি ও কাঁঠালিয়া গ্রামসহ শ্যামপুর বাজারে নিয়মিত কয়েক হাজার পথচারী এই পথ দিয়ে যাতায়েত করে। সড়কের নির্মাণ কাজ ধীরগতি হওয়ায় বিকল্প পথ দিয়ে যেতে কয়েক ঘন্টা বেশি সময় খরচ করতে হচ্ছে। এতে এক দিকে সময় ও অর্থ দুটোই নষ্ট হচ্ছে। এছাড়া শ্যামপুর মাধ্যিমিক বিদ্যালয়, শ্যামপুর মাদ্রসা, সরকারি বাকেরগঞ্জ কলেজ, রতনা আমিন মহিলা কলেজ, বাকেরগঞ্জ ইসলামীয় মহিলা কলেজের কয়েকশ ছাত্র-ছাত্রী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে পড়তে হচ্ছে সীমাহীন বিড়ম্বনায়।

ভাড়ায় চালিত মটোরসাইকেল চালক আল-আমিন জানান, মটোরসাইকেল নিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই সারা রাস্তায় বড়-বড় গর্ত, ইটের খোয়া স্তুপ করে রাখছে। বিকল্প পথ দিয়ে যেতে হয় তাও যাত্রী কমে গেছে।

শ্যামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিজামুল কাদির অভিযোগ করে  বলেন, নলছিটি ও বাকেরগঞ্জ উপজেলার ১০ টি গ্রামের লোক যাতায়েত করে এই সড়ক দিয়ে, দীর্ঘ দিন মাটি খুঁড়ে রাখায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। সড়কটি দ্রিুত নির্মাণের জন্য ঠিকাদার প্রতিষ্ঠনকে বলা হলেও তার গুরত্ব দেয়নি।

জানতে চাইলে রঙ্গশ্রী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান বশির উদ্দিন সিকদার মুঠোফোনে জানান, ‘সড়কের কোথাও নিময়নুযায় কাজ হচ্ছেনা। নিম্নমানের মালামাল ব্যবহার করায় কাজ বন্ধ করে দিয়ে ছিলাম। এরপর তারা আবারও কাজ শুরু করে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের যোগসাজেশে নিম্ন কোয়লিটির কাজ করছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান।’

ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মেসার্স সিফাত এন্টারপ্রাইজের পক্ষে নির্মাণ কাজে দায়িত্বরত সাকিল মল্লিক বলেন, নিমার্ণ কাজে সিডিউল অনুযায়ী করা হচ্ছে, না বুঝে পাথর সম্পর্কে প্রশ্ন তুললে আমাদের কিছুই করার নেই। তবে করোনার সময় মালামাল না পাওয়ায় কিছু সমস্যা হয়েছে।

এ বিষয় বাকেরগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) আবুল খায়ের মিয়া বলেন, সড়কটি পরির্দশন করে প্রয়োজনিয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
Website Design and Developed By Engineer BD Network