১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং, শনিবার

 

শেবাচিম হাসপাতালে চিকিৎসক সংকটে ২ ওয়ার্ডের সেবা বন্ধ

আপডেট: সেপ্টেম্বর ৫, ২০২০

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

শুরু থেকেই দক্ষিণাঞ্চলের কোটি মানুষের একমাত্র ভরসাস্থল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে একদিনের জন্য চিকিৎসকের মঞ্জুরীকৃত পদের অর্ধেকও পূরন হয়নি। চিকিৎসক সংকটে ইতিমধ্যে দুটি ওয়ার্ডের চিকিৎসা সেবা বন্ধ হয়ে গেছে। আর বেশীরভাগ ওয়ার্ডে ধার করা চিকিৎসক দিয়ে চলছে চিকিৎসা সেবা। এছাড়া নার্স থেকে শুরু করে টেকনোলজিস্ট এবং তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীর পদ শূন্য থাকায় এর প্রভাব পড়ছে রোগীদের উপর। শূন্য পদ পূরন করে রোগীদের শতভাগ চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা না হলে আন্দোলনের হুমকি দিয়েছেন সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ।

মেডিক্যালের প্রশাসনিক দপ্তর সূত্র থেকে জানা গেছে, ১০ বছর পূর্বে ৩৬০ শয্যার হাসপাতাল এক হাজার বেডে উন্নিত করা হয়। করোনার পূর্বে স্বাভাবিক দিনগুলেতে ২ হাজার থেকে ২২শ’ রোগী চিকিৎসা সেবা নিয়েছে। কিন্তু জনবল রয়েছে সেই ৩৬০ শয্যার। ওই জনবল ৫০ বছরেও পূরন হয়নি। বর্তমানে ২২৪ চিকিৎসকেরস্থলে ১২৮টি পদ বছরের পর বছর ধরে শূন্য। ৯৭৫ নার্সের মধ্যে শূন্য ৪৫টি। টেকনোলজিস্টের ৪৩ পদের বিপরীতে ২৩টি এবং কর্মচারীদের ৪২৬টি পদের বিপরীতে ১৪৭টি শূন্য।

বার্ন এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের ইনচার্জ সিনিয়র স্টাফ ব্রাদার লিংকন জানান, ২০১৫ সালের ১২ মার্চ মেডিক্যালের নীচতলায় ৮টি বেড নিয়ে এ ইউনিটের পথচলা শুরু হয়। রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিতে সেখানে ৮ চিকিৎসক এবং ১৬ নার্স ও ব্রাদারের পদ রাখা হয়। শুরু থেকেই ওই ওয়ার্ডের দায়িত্বে ছিলেন সিনিয়র কনসালট্যান্ট ও বিভাগীয় প্রধান ডাঃ এম.এ. আজাদ সজল। গত এপ্রিলে ওই চিকিৎসকের অস্বাভাবিক মৃত্যুর পর চিকিৎসক সংকটে ওই ওয়ার্ডটি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়া হয়। বর্তমানে দায়িত্বরত নার্স ও ব্রাদার এবং কর্মচারীরা রুটিনমাফিক দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

ব্রাদার লিংকন আরো জানান, ওয়ার্ডটি চালু না থাকায় অগ্নিদগ্ধ রোগীরা মারাত্মক দুর্ভোগে আছেন। তাদেরকে ঢাকায় চিকিৎসা নিতে যেতে হচ্ছে। এতে করে যারা হতদরিদ্র তারা ঢাকায় না যেতে পারায় তাদেরকে সার্জারী ওয়ার্ডে চিকিৎসা সেবা দিতে হচ্ছে। প্রতিদিন রোগীর স্বজনরা আসছেন ওয়ার্ডটি চালু হয়েছে কিনা জানতে। আমরাও চাচ্ছি যত দ্রুত সম্ভব ওয়ার্ডটি চালু হউক। কারণ এ ওয়ার্ডে চিকিৎসা সেবা দিতে যে সকল ওষুধ দরকার তা সরকার থেকে বিনামূল্যে দেয়া হচ্ছে। কিন্তু ওয়ার্ডটি বন্ধ থাকায় সব ধরনের সুযোগ সুবিধাও বন্ধ।

গত এক বছর পূর্বে মানসিক বিভাগের এক মাত্র চিকিৎসক তপন কুমার সাহা অবসরে গেলে চিকিৎসক সংকটে ওয়ার্ডটি বন্ধ করে দেয়া হয়। বর্তমানে ওই ওয়ার্ডে যন্ত্রপাতির বাক্স দিয়ে ভরে রাখা হয়েছে।

এছাড়া মাত্র একজন চিকিৎসক দিয়ে চলছে আইসিইউ ওয়ার্ডটি। ওই ওয়ার্ডে চিকিৎসক না থাকলে বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে ধার করে চিকিৎসক এনে রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়। অনেক সময় মোবাইলের মাধ্যমেও চিকিৎসা সেবা দিতে বাধ্য হন নার্সরা। এভাবে হাসপাতালের ৩৭টি ওয়ার্ডে চিকিৎসক সংকট থাকায় রোগীদের চিকিৎসা সেবা মারাত্মকভাবে ব্যহত হচ্ছে।

একাধিক রোগীর স্বজনরা জানান, বড় চিকিৎসক একবার মাত্র রাউন্ডে এসে ওষুধ লিখে দেন। কিন্তু এরপর আর তাদের পাওয়া যায় না। তাদের অনুপস্থিতিতে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও নার্স-ব্রাদ্রাসার একমাত্র ভরসা। তবে বড় চিকিৎসক প্রতিদিন দুই থেকে তিনবার রাউন্ডে আসলে তাদের জন্য ভালো হয়।

রোগীর স্বজনরা আরো জানান, কিছু কিছু ওয়ার্ডে রোগীর চাপ থাকলেও ভিতরে স্থান সংকুলান না হওয়ায় ওয়র্ডের বারান্দা ও হাটাচলার স্থানে রোগীদের জায়গা করে নিতে হয়। এতে করে চিকিৎসা সেবা তেমন ভালো হয় না। এ জন্য ওয়ার্ডের পরিধি বাড়ানোর দাবি জানান তারা।

এ ব্যাপারে শিক্ষক নেতা অধ্যক্ষ মহসিন উল ইসলাম হাবুল বলেন, শূণ্য পদ পূরন করে রোগীদের শতভাগ চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা না হলে জনগণ বিদ্রোহী করলে সেখানে সরকারের কোন কিছুই করার থাকবে না। তিনি চিকিৎসকের পদ পূরনের সাথে সাথে বর্তমান রোগী অনুযায়ী জনবল কাঠামো দেয়ার দাবি জানান।

চিকিৎসক সংকটে ওয়ার্ড বন্ধ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি স্বিকার করে মেডিক্যালের পরিচালক ডা. বাকির হোসেন বলেন, এক হাজার রোগীর অনুমতি পেলেও সে অনুযায়ী জনবল দেয়া হয়নি। পূর্বের জনবল দিয়েই চলছে এখানকার চিকিৎসা সেবা। এরপরও চিকিৎসকের শতভাগ শূন্য পদ পূরন হয়নি।

তিনি আরো বলেন, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে দুই হাজার রোগীর চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে নতুনভাবে অর্গানোগ্রাম প্রণয়ন করার জন্য চিঠি দেয়া হয়েছে। নতুন অর্গানোগ্রাম প্রণয়ন করা হলে সকল সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে আশা করছেন পরিচালক।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
Website Design and Developed By Engineer BD Network