২০শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, রবিবার

দূর্ণীতিতে বেসামাল বাকেরগঞ্জ থানার এএসআই রেজাউলের যত অপকর্ম!

আপডেট: সেপ্টেম্বর ২০, ২০২০

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

ডেক্স রিপোর্ট
অন্তহীন অপকর্মে বেসামাল হয়ে পড়েছে বাকেরগঞ্জ থানার সহকারি উপ-পরিদর্শক (এএসআই) রেজাউল। ‘‘পুলিশই জনতা, জনতাই পুলিশ বা পুলিশ জনগণের বন্ধু’’ এই কথাগুলো অর্থহীন হয়ে পড়ছে এই পুলিশ কর্তার নানা ধরণের বিতর্কীত কর্মকান্ডে। অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে কলসকাঠী ইউনিয়নসহ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দারা। মিথ্যা মামলার ভয় দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে কাড়িকাড়ি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অসংখ্য ঘটনার জন্ম দিয়েছেন এএসআই রেজাউল। নানা অপকর্ম এবং অসদাচরণের কারণে সহকর্মী সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তারাও নাখোশ তার প্রতি। একাধিক কর্মকর্তা বলেন, রেজাউলের কথাবার্তা ও কর্মকান্ড ভাল না হওয়ায় বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া তার সাথে কথাবার্তা বলেন না তারা। জানা গেছে, গত এক বছর পূর্বে তিনি বাকেরগঞ্জ থানায় সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) হিসেবে যোগদান করেন।

এ থানায় যোগদানের পর উপরি আয় করতে বেপরোয়া হয়ে উঠে তিনি। সহকর্মী বা অন্য কেউ তার অপকর্মের প্রতিবাদ করলে সে নিজেকে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের আত্মীয় পরিচয় দিয়ে ভয় দেখান। এছাড়া এএসআই রেজাউলের বাড়ি বাকেরগঞ্জ উপজেলার পার্শ্ববর্তী আমতলী উপজেলায় হলেও প্রায় সময় তিনি নিজেকে গোপালগঞ্জের লোক পরিচয় দিতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ভুক্তভোগী জানান, বাখরকাঠী মৌজার ৩০ শতক জমি আরএস রের্কড মূলে ক্রয় করার পর তিনি ভোগদখলে আছেন। এরমধ্যে সম্প্রতি শরিফুল ইসলাম নামের জনৈক ব্যক্তি বায়নাসূত্রে মালিকানা দাবি করে এএসআই রেজাউলের নিকট একটি দরখাস্ত দেয়। পরে এএসআই রেজাউল মাস দু’য়েক আগে তাকে থানায় ডেকে নিয়ে জমির কাগজপত্র দেখতে চায়। তিনি জানান, রেজাউলকে সমস্ত কাগজপত্র দেয়ার পর থানার একজন দালালের মাধ্যমে তার নিকট ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। দারোগা রেজাউলের দাবীকৃত ঘুষের টাকা দিতে না পারায় বিষয়টি এখনও অমীমাংসিত রয়েছে।

বাল্যবিবাহ ঠেকানোর নামে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করে মোটা অংকের অর্থ আদায় করার একাধিক অভিযোগ রয়েছে এএসআই রেজাউলের বিরুদ্ধে। প্রায় তিন মাস আগে উপজেলার কলসকাঠী ইউনিয়নের দিয়াতলী গ্রামের আলকাস হাওলাদারের মেয়ের সাথে কালাম চৌকিদারের ছেলের বাল্যবিবাহের সংবাদ পেয়ে দারোগা রেজাউল সেখানে গিয়ে বিয়ে বন্ধ করার ভয় দেখিয়ে ১০ হাজার টাকা আদায় করেন। গত ১৫ দিন আগে একই গ্রামের গ্রামের খলিল হাওলাদারের মেয়ের বাল্যবিবাহের খবর পেয়ে বিবাহ বন্ধ করার নামে রাতে বাড়িতে গিয়ে মেয়ের পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা আদায় করেন।

এছাড়াও মামলায় ফাঁসানোর হুমকী দিয়ে অবৈধ আয়ের ধান্ধায় সাধারণ মানুষের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করারও অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে এএসআই রেজাউলের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের দাবী, পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের তদন্তে এসব অভিযোগের সত্যতা মিলবে।

অভিযোগে জানা যায়, গত ১৭ সেপ্টেম্বর রাতে উপজেলার গারুড়িয়া ইউনিয়নের সাহেবপুর গ্রামের লাবনী আক্তার (১৩) নামের এক কিশোরী পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের ভরপাশা গ্রামের নয়ন হালদারের পুত্র হাসান হাওলাদারের সাথে পালানোর সময় স্থানীয় তরুণরা তাদের দুজনকে ধরে ফেলেন। পরবর্তীতে থানা পুলিশকে খবর দিলে এসআই জহিরুল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্সসহ সেখানে উপস্থিত হওয়ার পূর্বেই কোনো দায়িত্ব না থাকার পরেও রেজাউল সেখানে উপস্থিত হয়ে ওই কিশোরীকে নিয়ে অন্ধকারে গিয়ে তাদেরকে ছেড়ে দেয়ার শর্তে অর্থ দাবী করেন। এনিয়ে সাহেবপুর বাজারের স্থানীয়দের সাথে এসএসআই রেজাউলের বাকবিতন্ডা হয়। জনরোষের কারণে অবস্থা বেগতিক দেখে দায়িত্বরত এসআই জহিরুল ইসলাম বিশেষ কৌশলে পরিস্থিতি শান্ত করেন।

উপজেলার কলসকাঠী ইউনিয়নের লিজা আখতার (৩০) তার স্বামীর নির্যাতনের শিকার হয়ে থানায় লিখিত একটি অভিযোগ দায়ের করেন। স্ত্রী নির্যাতনকারী স্বামীর পক্ষাবলম্বন করে এএসআই রেজাউল ওই গৃহবধূর সঙ্গে অসদাচরণ করেন এবং তাকে থানা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য হুমকি-ধামকি দেন। এতে স্বামীর নির্যাতনের শিকার লিজা ন্যায়বিচার পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়ে তার পিতার বাড়িতে অবস্থান করছেন।

এসব ঘটনায় এএসআই রেজাউলের বিরুদ্ধে পুলিশ সিকিউরিটি সেল, ডিআইজিসহ বিভিন্ন দফতরে একাধিক লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগীরা।

উপজেলার কলসকাঠী ইউনিয়নের সাবেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শওকত হোসেন হাওলাদারের ভাই শমসের হাওলাদারের পুত্র সাইফুল ইসলাম রোকেয়া রব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ইন্দ্রজিতকে লাঞ্ছিত করে। এঘটনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাধবী রায়কে জানানো হলে তিনি অফিসার ইনচার্জ আবুল কালামকে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন। এর প্রেক্ষিতে অফিসার ইনচার্জ আবুল কালাম একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে এএসআই রেজাউলকে দায়িত্ব দেন। কিন্তু দুর্নীতিবাজ এএসআই রেজাউল এ ঘটনার মাধ্যমেও অর্থবাণিজ্য করেন। সূত্র জানায়, ‘আপনি হিন্দু মানুষ, সাইফুল ইসলামদের সাথে আপনারা পারবেন না’ -এধরণের বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখিয়ে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত করে আসামিদের নিকট থেকে মোটা অংকের টাকা আদায় করেন বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশের কলঙ্ক এসএসআই রেজাউল।

এছাড়া এসএসআই রেজাউল উপজেলাজুড়ে দেদার চালাচ্ছেন কিশোর-যুবকদের আটক অতঃপর অর্থবাণিজ্য। উপজেলার কলসকাঠী পাড়ের বাড়ি, ঢাপরকাঠী বাজার, দিয়াতলী, ক্ষুদ্রকাঠী, বেবাজসহ বিভিন্ন এলাকায় লুডু খেলার অভিযোগ তুলে প্রথমে মোবাইল জব্দ করা হয়। পরে স্থানীয় দালালের মাধ্যমে মোটা অংকের টাকা আদায় করা হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এরকম প্রায় অর্ধশত অর্থবাণিজ্যের ঘটনার অভিযোগ পাওয়া গেছে ভুক্তভোগীদের নিকট হতে।

এ বিষয়ে এএসআই রেজাউলের কাছে অভিযোগ বিষয় জানতে চাইলে কোনো সদুত্তোর না দিয়ে ইনিয়েবিনিয়ে এড়িয়ে যান তিনি।

এ বিষয়ে বরিশাল জেলা পুলিশ সুপার মোঃ সাইফুল ইসলাম পিপিএম বলেন, অন্যায়ের সাথে কোনো আপোস করবে না পুলিশ। অপরাধের সাথে যেই জড়িত থাকুক তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি আরো বলেন, শুধু এএসআই রেজাউল কেন, অপরাধের সাথে ওসি জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
   
Website Design and Developed By Engineer BD Network