৩০শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, শুক্রবার

 

বাকেরগঞ্জ থানার দুর্নীতির বরপুত্র এএসআই রেজাউলকে অপসারণ দাবী!

আপডেট: সেপ্টেম্বর ২২, ২০২০

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

বাকেরগঞ্জ প্রতিনিধি
দিন, মাস, বছর যায়- বেসামাল বাকেরগঞ্জ থানার সহকারি উপ-পরিদর্শক (এএসআই) রেজাউলের অত্যাচার থামে না। কোনোদিন হয়তো ওই অত্যাচারীর কবল থেকে মুক্তি মেলবে- এই অপেক্ষায় থেকে আশাহত হয়ে পড়ছে বাকেরগঞ্জের ভুক্তভোগীরা। ২০১৮ সালের ৫ সেপ্টেম্বর বাকেরগঞ্জ থানায় যোগদানের পরপরই সাধারণ নিরিহ মানুষের মাথায় চড়ে বসে দুর্নীতির বরপুত্র এএসআই রেজাউল। অধিকাংশের ধারণা, বাকেরগঞ্জ থানা থেকে এই দুর্নীতিবাজের বিদায়ঘন্টার অপেক্ষা শেষ হলে মুক্তি মিলবে সীমাহীন অত্যাচারে অতিষ্ঠ নিরুপায় মানুষের।

ইতোমধ্যে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর বেজাহানী অত্যাচারী পুলিশ অফিসার এএসআই রেজাউলকে বাকেরগঞ্জ থানা থেকে অপসারণের দাবী উঠেছে। উপজেলার প্রায় সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ এই দাবীর সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী তুলেছেন।

এ্যাডভোকেট মোসাঃ রাবেয়া বলেন, গত ১৯ সেপ্টেম্বর শনিবার বিকেলে খারিজ হয়ে যাওয়া মামলার একটি তামাদী ওয়ারেন্ট দিয়ে উপজেলার দাড়িয়াল ইউনিয়নের কাটাদিয়া গ্রামের রনি নামের তার এক মোয়াক্কেলকে চাঁদাবাজীর শিকার বানানো হয়। ওই সময় তিনি বিভিন্ন আইনের বরাত দিয়ে ওয়ারেন্টের কপি দেখতে এবং মামলার বিস্তারিত জানতে চাইলে এএসআই রেজাউল টালবাহানা করে টাকার দাবীতে অনঢ় থাকেন। এই দুর্নীতিবাজ পুলিশের অপসারণের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা দিয়ে এ্যাডভোকেট মোসাঃ রাবেয়া দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করেন।

উপজেলার কলসকাঠী ইউনিয়নের বেবাজ গ্রামের কৃতি সন্তান গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব মনির বকস্ বলেন, বাদী-আসামী কিংবা অপরাধী আর নিরপরাধী নেই। এএসআই রেজাউলকে দাবীকৃত উৎকোচ না দিলেই নির্ঘাত হয়রানীর শিকার হতে হবে। তিনি অনতিবিলম্বে এই দুর্নীতিবাজের অপসারণ দাবী করেন। তিনি বলেন, এর ব্যতীক্রম হলে তা নিঃসন্দেহে পুলিশবাহিনীর ভাবমূর্তি বিনষ্ট করবে।

উপজেলার রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের শ্যামপুর গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনাকে পুঁজি করে ভয়ভীতি আবার কাউকে প্রলোভন দেখিয়ে দু’পক্ষের নিকট থেকে ২/৩ দফায় মোটা অংকের উৎকোচ গ্রহন করেন এএসআই রেজাউল। এ ঘটনার ভুক্তভোগীরা আইনি প্রতিকারের দাবী করছেন। ভুক্তভোগী চম্পা বেগম জানান, মামলা এজাহার করার কথা বলে তার নিকট থেকে ১৬ হাজার টাকা নেন এএসআই রেজাউল।

ভুক্তভোগীদের দাবী অনুযায়ি, বেসামাল বাকেরগঞ্জ থানার এএসআই রেজাউলের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। তার নানা কর্মকান্ডে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে কলসকাঠী ইউনিয়নসহ বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দারা। মিথ্যা মামলার ভয় দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নেয়ার একাধিক অভিযোগ রয়েছে এ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

এ থানায় যোগদানের পর সে ‘উপরি কামাতে’ বেপরোয়া হয়ে উঠে। সহকর্মী কেউ তার অপকর্মের প্রতিবাদ করলে নিজেকে সে ক্ষমতাসীন দলের আত্মীয় পরিচয় দিয়ে ভয় দেখায়। এছাড়া দারোগা রেজাউলের বাড়ি বাকেরগঞ্জ উপজেলার পার্শ্ববর্তী আমতলী উপজেলায় হলেও অনেক সময় তিনি নিজেকে গোপালগঞ্জের লোক পরিচয় দিতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন।

বাল্যবিবাহ ঠেকানোর নামে দারোগা রেজাউলের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করারও একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রায় তিন মাস আগে কলসকাঠী ইউনিয়নের দিয়াতলী গ্রামের আলকাস হাওলাদারের মেয়ের সাথে কালাম চৌকিদারের ছেলের বাল্যবিবাহের সংবাদ পেয়ে দারোগা রেজাউল সেখানে গিয়ে বিয়ে বন্ধ করার ভয় দেখিয়ে ১০ হাজার টাকা আদায় করেন। গত ১৫ দিন দিয়াতলী গ্রামের খলিল হাওলাদারের মেয়ের বাল্যবিবাহের খবর পেয়ে ওই রাতে বিবাহ বন্ধ করার নামে মেয়ের পরবারেরর কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা আদায় করেন।

এছাড়াও দারোগা রেজাউলের বিরুদ্ধে টাকার বিনিময়ে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা এজাহার করিয়ে দেয়ার হুমকি এবং বিনা কারণে মানুষের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করারও একাধিক অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগীরা জানান, পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের তদন্তে এসব অভিযোগের সত্যতা মিলবে।

জানা যায়, গত ১৭ সেপ্টেম্বর রাতে উপজেলার গারুড়িয়া ইউনিয়নের সাহেবপুর গ্রামের লাবনী আক্তার (১৩) নামের এক কিশোরী পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের ভরপাশা গ্রামের নয়ন হালদারের পুত্র হাসান হাওলাদারের সাথে পালানোর সময় স্থানীয় তরুণরা তাদের দুজনকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন। পরবর্তীতে থানা পুলিশকে খবর দিলে এসআই জহিরুল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্সসহ সেখানে উপস্থিত হবার পূর্বেই কোনরকম ডিউটি ছাড়াই দারোগা রেজাউল সেখানে উপস্থিত হয়ে কিশোরীকে নিয়ে অন্ধকারে গিয়ে তাদেরকে ছেড়ে দেয়ার শর্তে অর্থ দাবি করেন। এনিয়ে সাহেবপুর বাজারের স্থানীয়দের সাথে দারোগা রেজাউলের বাকবিতন্ডা হয়। পরের দায়ত্বিরত এসআই জহিরুল ইসলাম পরিস্থিতি শান্ত করেন।

এ বিষয়ে এসএসআই রেজাউলের কাছে অভিযোগ বিষয় জানতে চাইলে তিনি কোন সদুত্তর দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। শওকত হোসেন হাওলাদারের শমসের ছেলে সাইফুল ইন্দ্রজিত শিক্ষক রোকেয়া রব সরকারি ইউএনও ওসিকে রেজাউল দেখতে এসে বলে হিন্দু মানুষ ১ মাস আগে পাড়ের বাড়ি মোবাইলে লুডু খেলে টাকা নেয়।

এ বিষয়ে বরিশাল জেলা পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম (পিপিএম) বলেন, অন্যায়ের সাথে কোনো আপোস করা হবে না। অপরাধী যেই হোক তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। তদন্ত সাপেক্ষে এএসআই রেজাউলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান তিনি।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
Website Design and Developed By Engineer BD Network