২২শে মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, রবিবার

রাজাপুরে হাঁস পালনে ভাগ্য ফিরেছে দুই কলেজ ছাত্রর

আপডেট: জানুয়ারি ২৬, ২০২১

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

রহিম রেজা, ঝালকাঠি
ঝালকাঠির রাজাপুরের ছোট কৈবর্তখালি গ্রামের আঃ আলিম সিকদারের ছেলে কলেজ ছাত্র রাসেল ও রাকিব সিকদার দুই ভাই হাঁস পালন করে ভাগ্য ফিরিয়েছেন। করোনায় কলেজ বন্ধ থাকায় বাড়িতে বেকার সময় কাটাচ্ছিলেন, সেই সময়কে কাজে লাগিয়ে হাসের খাবার করে বর্তমানে ডিম বিক্রি করে প্রতিদিন আয় করছেন প্রায় ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা।
কলেজ ছাত্রী রাসেল সিকদার জানান, তিনি ঢাকার গ্রীন রোডের একটি কলেজে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়েন এবং ছোট ভাই রাসেল উপজেলার রাজাপুর ডিগ্রি মাদ্রাসার ফাজিলে পড়েন। গত ২০২০ সালের মার্চে মাসের শেষের দিকে করোনার জন্য স্কুল কলেজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা হাসের ফার্ম করার জন্য উদ্যোগ নেন। তাদের বাড়ি থেকে উত্তর দিকে একটি খালের পশের পাকা সড়কের বিপড়িতে ধানি জমি কেটে উচু করে হাস পালনের উপযোগি একটি কাঠ-টিনের একটি ঘর নির্মান করেন। পানিতে হাঁস পালার জন্য ওই ঘরের সামনের প্রায় ২শ’ গজ খাল জাল দ্বারা বেড়া দিয়ে আটকে দেন। ঘরটিতে বিদ্যুত সংযোগ দেন এবং নির্দিষ্ট এলাকাটি সিসি ক্যামেরার আওতায় নিয়ে নেন। প্রতিটি হাঁসের বাচ্চা ৩৫ টাকা দরে ১১শ’ ক্যাম্পেল জাতের হাসের বাচ্চা ক্রয় করেন। এতে তাদের খরচ হয় প্রায় দেড়লক্ষাধিক টাকা। হাসগুলো সার্বক্ষণিক দেখাশুনা করার জন্য দুইমাস আগে থেকে এলাকার আবু সালের মাদ্রাসা পড়ুয়া ছেলে মিরাজ (১১) কে মাসে ২ হাজার টাকা বেতনে রেখেছেন। হাঁসগুলি ডিম পাড়ার উপযোগি হতে ৬ মাস সময় লেগেছে কিন্তু এতো দিনে ২শ’ হাস মারা গেছে। গত তিন মাস আগে থেকে হাস গুলো ডিম দিতে শুরু করেছে। হাস গুলোর প্রতিদিনের খাবারের জন্য ২০ কেজি ফিড ও ৪০ কেজি ধান লাগে। প্রতি কেজি ফিড ৪০ টাকা ও প্রতি কেজি ধান ২০ টাকা করে ক্রয় করতে হয়। প্রতি দিনের খাবারের সাথে পশু সম্পদ কর্মকর্তার পরামর্শ অনুযায়ী বিভিন্ন প্রকারের প্রায় ২শ’ টাকার ঔষধ খাওয়াতে হচ্ছে। বর্তমানে ৯শ’ হাসের মধ্যে প্রতি দিন ৫শ’ থেকে ৬শ’ ডিম পাড়ে। প্রতি হালি ডিম ৪৫ টাকা দরে ফার্ম থেকে পাইকার এসে ক্রয় করে নিয়ে যায়। ভবিষ্যতে এই ফার্ম বড় করা এবং পাশাপাশি গরু অথবা মুরগির ফার্ম করার ইচ্ছা আছে তাদের। এদিকে এ খামার দেখে ওই এলাকার অন্য বেকার যুবকদের মধ্যেও আগ্রহ বাড়ছে।
এ বিষয়ে উপজেলা পশু সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোঃ সাজেদুল ইসলাম জানান, পশু হাসপাতালের যারা ফিল্ডে কাজ করেন তারা ওই ফার্মের খোজ খবর নিচ্ছেন এবং পরামর্শ দিচ্ছেন। অপরদিকে ফার্মের লোকজন এসে হাসপাতাল থেকে ঔষধ নেন। তিনি আরো জানান, ফার্ম কর্তৃপক্ষ চাইলে হাসপাতাল কাছ থেকে একটি প্রত্যায়ন পত্র নিয়ে করোনাকালিন সরকারের দেয়া প্রনোদোনা থেকে ব্যাংক দিয়ে পাঁচ শতাংশ মুনাফায় সহজ শর্তে ঋণ নিতে পারেন।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
     
Website Design and Developed By Engineer BD Network