১৭ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, বৃহস্পতিবার

পদ্মা সেতুসহ পাঁচ প্রকল্পে বরাদ্দ কমছে ৯ হাজার ৯৯ কোটি টাকা

আপডেট: মার্চ ২, ২০২১

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

পদ্মা সেতুসহ পাঁচ মেগা প্রকল্পে বরাদ্দ কমছে ৯ হাজার ৯৯ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। মূল বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) এসব প্রকল্পের অনুকূলে বরাদ্দ ছিল ২৪ হাজার ৪৯৬ কোটি ১২ লাখ টাকা। এখন সেটি কমিয়ে সংশোধিত এডিপিতে ১৫ হাজার ৩৯৬ কোটি টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রকল্পগুলো হলো রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, দোহাজারী হতে রামু হয়ে কক্সবাজার ও রামু হতে মিয়ানমারের কাছে ঘুমধুম পর্যন্ত সিঙ্গেল লাইন ডুয়েল গেজ ট্র্যাক নির্মাণ, ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এবং কর্ণফুলী টানেল প্রকল্প। এদিকে, এডিপি থেকে কাটছাঁট হচ্ছে সাত হাজার ৫০১ কোটি টাকা। মূল এডিপির আকার রয়েছে দুই লাখ পাঁচ হাজার ১৪৪ কোটি ৭৯ হাজার টাকা। এখন কাটছাঁট করে সংশোধিত এডিপির আকার দাঁড়াচ্ছে এক লাখ ৯৭ হাজার ৬৪৩ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের (২০২০-২১) সংশোধিত এডিপি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) বৈঠকে উপস্থাপন করা হচ্ছে আজ মঙ্গলবার। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠেয় বৈঠকে গণভবন থেকে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী ও এনইসি চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা।

পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম সোমবার বলেন, অর্থনীতিবিদদের ধারণা ছিল করোনা মহামারিতে দেশের অর্থনীতিতে ধস নামবে। উন্নয়ন প্রকল্পগুলো মুখথুবড়ে পড়বে। কিন্তু সরকারের দক্ষ ব্যবস্থার কারণে অল্প সময়ের মধ্যে দেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়নে আবারও গতি ফিরেছে। ফলে সরকারি তহবিলের বরাদ্দ কমাতে হয়নি। তবে বৈদেশিক অংশে যে বরাদ্দ কমানো হচ্ছে সেটিও অন্য অর্থবছরের তুলনায় বেশি নয়। করোনা না এলে হয়তো অধিকাংশ বরাদ্দই ব্যয় করা সম্ভব হতো।

সংশোধিত এডিপির খসড়া পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, পদ্মা সেতু প্রকল্পে মূল এডিপিতে বরাদ্দ ছিল পাঁচ হাজার কোটি টাকা। এখন দুই হাজার ৯০০ কোটি টাকা কমিয়ে সংশোধিত এডিপিতে প্রস্তাব করা হচ্ছে দুই হাজার ৯৯ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। এ প্রসঙ্গে পদ্মা সেতুর প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম বলেন, আমাদের লক্ষ্য ছিল চলতি বছরের জুনের মধ্যেই এ প্রকল্পের কাজ শেষ করা। এরই মধ্যে কোভিড-১৯ আসায় সে লক্ষ্য পূরণ সম্ভব হচ্ছে না। এক বছর পিছিয়ে আগামী বছর জুনে সমাপ্ত করার নতুন লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে বরাদ্দ রয়েছে ১৫ হাজার ৬৯১ কোটি ১৩ লাখ টাকা। এখন পাঁচ হাজার ৫২৪ কোটি ৩৫ লাখ টাকা কমিয়ে সংশোধিত প্রস্তাব করা হচ্ছে ১০ হাজার ১৬৬ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। দোহাজারী থেকে রামু হয়ে কক্সবাজার এবং রামু হতে মিয়ানমারের কাছে ঘুমধুম পর্যন্ত সিঙ্গেল লাইন ডুয়েল গেজ ট্র্যাক নির্মাণ প্রকল্পে বরাদ্দ রয়েছে এক হাজার ৫০০ কোটি টাকা।

এখন ৫১০ কোটি টাকা কমিয়ে প্রস্তাব করা হচ্ছে ৯৯০ কোটি টাকা। কর্ণফুলী টানেল প্রকল্পের অনুকূলে বরাদ্দ ছিল এক হাজার ৫৫০ কোটি টাকা। এখন ১২৫ কোটি টাকা কমিয়ে সংশোধিত এডিপিতে এক হাজার ৪২৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পে বরাদ্দ রয়েছে ৭৫৪ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। এখন ৪০ কোটি টাকা কমিয়ে ৭১৪ কোটি ৯৪ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের সচিব প্রদীপ রঞ্জন চক্রবর্তী বলেন, কোভিডের শুরুতেই অনেকে দেশে চলে গেছেন। তারপর দীর্ঘ সময় তারা ফিরতে পারেননি। এতে কিছু প্রকল্পের বরাদ্দ কমাতে হচ্ছে। তবে বর্তমানে প্রকল্পগুলোতে গতি ফিরে এসেছে।

১০ মেগা প্রকল্পে বরাদ্দ ৩১ হাজার ৩৯১ কোটি টাকা : সার্বিকভাবে দেশের উল্লেখযোগ্য ১০টি মেগা প্রকল্পে চলতি অর্থবছরের সংশোধিত এডিপিতে বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে ৩১ হাজার ৩৯১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। মূল এডিপিতে বরাদ্দ রয়েছে ৩৩ হাজার ৩২১ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। এ ক্ষেত্রে বরাদ্দ কমছে এক হাজার ৯৩০ কোটি ১৪ লাখ টাকা। মেট্রোরেল প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে পাঁচ হাজার ৫৪২ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্পে ৬৫১ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগ প্রকল্পে পাঁচ হাজার ৪৫৪ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। মাতারবাড়ী বিদ্যুৎ প্রকল্পে চার হাজার ২০০ কোটি টাকা এবং মাতারবাড়ী বন্দর উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে ১৪৫ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। এসব প্রকল্পে মূল এডিপির তুলনায় সংশোধিত বরাদ্দ বেড়েছে।

এডিপিতে কাটছাঁট সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকা : চলতি অর্থবছরের এডিপি থেকে (বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি) বাদ যাচ্ছে সাত হাজার ৫০১ কোটি ৭৯ হাজার টাকা। এটি পুরোটাই বৈদেশিক সহায়তার অংশ। এ ক্ষেত্রে মূল এডিপির আকার ছিল দুই লাখ পাঁচ হাজার ১৪৪ কোটি ৭৯ হাজার টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিলের এক লাখ ৩৪ হাজার ৬৪৩ কোটি টাকা এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে ৭০ হাজার ৫০১ কোটি ৭২ হাজার টাকা। বর্তমানে কাটছাঁট করে সংশোধিত এডিপির আকার দাঁড়াচ্ছে এক লাখ ৯৭ হাজার ৬৪৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিলের অংশ ঠিক থাকলেও বৈদেশিক সহায়তা কমিয়ে হচ্ছে ৬৩ হাজার কোটি টাকা।

সর্বোচ্চ বরাদ্দপ্রাপ্ত খাত : সংশোধিত এডিপিতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে পরিবহণ সেক্টরে ৪৯ হাজার ২১২ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ পানি সরবরাহ ও গৃহায়ণ সেক্টরে ২৬ হাজার ৪৯১ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। তৃতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ শিক্ষা ও ধর্ম সেক্টরে মোট ২৪ হাজার ৫৭১ কোটি ৮০ লাখ টাকা। এ ছাড়া বিদ্যুৎ সেক্টরে বরাদ্দ ২১ হাজার ৯৪৫ কোটি ১৭ লাখ টাকা, পল্লি উন্নয়ন ও পল্লি প্রতিষ্ঠানের জন্য বরাদ্দ ধরা হয়েছে ১৮ হাজার ২৮৯ কোটি ৭০ হাজার টাকা। স্বাস্থ্য, পুষ্টি জনসংখ্যা ও পরিবারকল্যাণ সেক্টরে ১৪ হাজার ৯২১ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। বিজ্ঞান, তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি সেক্টরে ১১ হাজার ৫৭৫ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। কৃষি সেক্টরে সাত হাজার ৭৩৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা। পানিসম্পদ সেক্টরে ছয় হাজার ৭০৮ কোটি ৯৩ লাখ টাকা এবং শিল্প সেক্টরে তিন হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন