৩০শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, শুক্রবার

স্বাস্থ্য সংস্থা মানদন্ড : খোলা চিঠি-সজল রায়

আপডেট: জুলাই ২, ২০২১

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

এডভোকেট স ম রেজাউল করিম স্যার আপনি আমার শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসা নিবেন। আমি আপনার সংসদীয় আসনের নাজিরপুর থানায় গাওখালী বাজার একজন বাসিন্দা।
আপনি আমাদের ভালোবাসার অপর নাম।ছোট্ট বেলা থেকে আমার দাদু সর্গীয় গজেন্দ্রনাথ বৈরাগী(সাবেক মেম্বার, সাবেক চেয়ারমযান পদ প্রার্থ ৩নং দেউল বাড়ি দোবড়া ইউনিয়ন )আপনার কথা অনেক বলতেন।আপনি উচ্চ আদালতের একজন নিবন্ধিত আইনজীবী। পিরোজপুরের জনপ্রিয় ও তরুণদের আদর্শ রাজনৈতিক নেতা স ম রেজাউল করিম পারিবারিকভাবে বিভিন্ন জায়গায় মানুষের কল্যাণে ব্যাপকভাবে কাজ করছেন।

শ্রদ্ধাভাজন এই রাজনৈতিক চান সারাদেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আইন অঙ্গন সহ অন্যান্য সেক্টর উন্নত সেবা দিক, দেশের মানুষ সর্বোচ্চ সেবা পাক। একটি মানবিক, উন্নত বাংলাদেশ গড়তে মহান জাতীয় সংসদে ৩৫০ জন সাংসদেরই আপনার মতো মানসিকতা প্রয়োজন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী ১০০০ জন মানুষের জন্য ১ জন চিকিৎসক, ৩ জন নার্স এবং ৫ জন মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট থাকতে হয়। বাংলাদেশে ১৬ কোটি মানুষের জন্য ১ লক্ষ ৬০ হাজার চিকিৎসক এবং ৮ লক্ষ মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট প্রয়োজন। বাস্তবতা হলো স্বাধীনতা পরবর্তী আজ পর্যন্ত দেশে পাশ করা মেডিকেল টেকনোলজিষ্টদের সর্বমোট পরিমাণ সর্বসাকুল্যে ৫০ হাজারের বেশি নয়।

সরকারি হাসপাতালে কর্মরত প্রায় ৩০ হাজার চিকিৎসকের বিপরীতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী ১ লক্ষ ৫০ হাজার জন মেডিকেল টেকনোলজিষ্টকে নিয়োগ দেওয়ার কথা। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় কর্মরত মেডিকেল টেকনোলজিষ্টদের সংখ্যা ৬ হাজারের বেশি হবে না।

অন্যদিকে বেকার হয়ে বসে আছে প্রায় ৩০ হাজার মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট। শত শত দক্ষ রেডিওথেরাপি মেডিকেল টেকনোলজিষ্টরা সরকারি চাকুরি তো দূরে থাক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানেও চাকরি না পেয়ে তাদের দক্ষতা নষ্ট করছে। যা রাষ্ট্রের জন্য বিরাট ক্ষতির। দেশের মানুষের জন্য হৃদয়বিদারক। ল্যাবরেটরি, ফিজিওথেরাপি, ডেন্টাল, রেডিওলজি, ফার্মেসি সহ সব বিভাগের মেডিকেল টেকনোলজিষ্টদের অবস্থা একইরকম!

যারা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন তাদের অধিকাংশের বেতন ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা অমানবিক। সরকারি চাকুরিতে ঢুকবার সুযোগ না পাওয়ায় তাদেরকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সস্তা শ্রমে অধিক পরিশ্রম করতে হচ্ছে। পরিবারকে না দিতে পারছেন একটু স্বচ্ছলতা, না পারছেন নিজেকে একটু শান্তি দিতে।

মেডিকেল টেকনোলজিষ্টদের ব্যক্তিগত সমস্যার দিকে দৃষ্টিপাত আমার লেখার মূল উদ্দেশ্য নয়। রাষ্ট্র ও জনগণের সর্বোচ্চ স্বার্থে স্বাস্থ্যখাতে মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট কতটা গুরুত্বপূর্ণ সেটি মহান জাতীয় সংসদে সকলের সামনে তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী কাছে ও রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা গড়ে তোলার যে বিরাট প্রয়োজনীয়তা ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে শূন্যতা আপনি সোচ্চার ভূমিকা দেখিয়ে যদি জাতীয় সংসদে গুরুত্ব তুলে এর অভাব টা ঘুছাতে পারেন। প্রধানমন্ত্রী জনবান্ধন নেত্রী, স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নের তার কাজে প্রসংশা সারা বিশ্ব।কিন্তু কিছু আমলা দের জন্য এই প্রসংশা আজ স্বাস্থ্য সংস্থা কাজ প্রশ্ন বিদ্ধ।এটা পরিপূর্ণ হলে বাংলার মানুষ বিনা চিকিৎসায় আর ফিরবে না, বসে থাকবেন না হাজার হাজার মেডিকেল টেকনোলজিস্ট। আমি একজন মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট জাতির মুক্তির আশায় কেন্দ্রীয় ভাবে কাজ করে যাচ্ছি । আপনি যেভাবে সংসদে সারা বাংলাদেশের মানুষের মনে কথা বলতে পারেন প্রতিনিধিত্ব করে , স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এই উদাসীন ভাব দূর করেন আমরা পিরোজপুর জেলার মানুষ নয় বাংলাদেশের মানচিত্রের সকলের আপনার প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বীকার করবে।আপনার প্রতি অত্যন্ত আশাজাগানিয়ার❤️ আপনার মতো করে যেসব সাংসদ জাতীয় সংসদে সোচ্চার হচ্ছেন তাদের প্রতিও মেডিকেল টেকনোলজিষ্টদের সম্মান অক্ষুণ্ণ থাকবে আজীবন।

মেডিকেল টেকনোলজিষ্টদের সকল সমস্যার সমাধানে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি এবং সেই মোতাবেক পদক্ষেপ প্রয়োজন। নির্বাচনী ইশতেহারে স্বাস্থ্য শিক্ষা বোর্ড গঠন এবং গ্রামকে শহরে রূপদান করতে হলে সেই মোতাবেক দ্রুত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন জরুরী।

মাননীয় সাংসদ স ম রেজাউল করিম মহোদয় আপনার দীর্ঘায়ু ও সুস্থ্য জীবন কামনা করছি। আমরা আশাবাদী আপনি একদিন আরও অনেক উচ্চপর্যায়ে দেশের মানুষের সেবা করার সুযোগ পাবেন। অবহেলিত কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ পেশা মেডিকেল টেকনোলজিষ্টদের সমস্যা সমাধান করবেন এই প্রত্যাশা করছি। আমাদের পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর থানার নন্দিত মানুষ আপনি, আপনার মেধা ও প্রজ্ঞায় দেশবাসীর উন্নত জীবনলাভ হোক। শুভ কামনা

সজল রায়
মেডিকেল টেকনোলজিস্ট
০২/০৭/২০২১ ইং

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
   
Website Design and Developed By Engineer BD Network