৩রা আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, মঙ্গলবার

অভিভাবক হীন একটি সেতুর অভাবে ভোগান্তিতে বাবুগঞ্জ উপজেলার ২ ইউনিয়নবাসী

আপডেট: জুলাই ১৮, ২০২১

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

সাইফুল ইসলাম,বাবুগঞ্জ(বরিশাল)প্রতিনিধি ঃ
মাত্র একটি সেতুর অভাবে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার দেহেরগতি ও কেদারপুর ইউনিয়নের ৪ গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ। কোনো মতে ভাঙ্গা সেতুর উপর দিয়ে ঝুঁকি নিয়েই পারাপার হচ্ছেন তারা।

দীর্ঘদিন ধরে একটি ব্রিজের দাবি জানিয়ে জনপ্রতিনিধি ও সরকারি দফতরের অফিসে ধর্না দিয়েও কোনো সুফল পাননি ভুক্তভোগীরা।
দেহেরগতি ও কেদারপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী খয়রাতির খাল নামক স্থানে মল্লিক বাড়ির সামনের এ সেতটিু দিয়ে দুটি ইউনিয়ন (দেহেরগতি ও কেদারপুর ) ৪টি গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হয়ে থাকেন।

সেতুটির পশ্চিম পাশের অন্তত ২টি গ্রামের মানুষকে নিত্যদিন কৃষিপণ্য বিপণন, চিকিৎসা ও শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে যেতে হয় পূর্ব দিকের কেদারপুর ও বাহেরচর গ্রামে। পূর্ব দিকেরও ২টি গ্রামের মানুষকে নানা কাজে যাতায়াত করতে হয় নদীর অপর দিকের গ্রামগুলোতে।
প্রয়োজনের তাগিদে স্থানীয়রাই বাঁশ ও খুঁটি দিয়ে সেতু তৈরি করে কোনো রকমে যাতায়াতের ব্যবস্থা করে নিয়েছেন। শত বছরের এ সেতু দিয়ে মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করলেও আজও সুনজর পড়েনি এলজিইডি কর্তৃপক্ষের।

ফলে দুটি দেহেরগতি ও কেদারপুর ইউনিয়নের ৪ গ্রামের লক্ষাধিক মানুষের সেতুবন্ধন অধরাই রয়ে গেছে।

দেহেরগতি ইউনিয়নের বাহেরচর গ্রামের বাসিন্দা বাবু আকন, স্কুলছাত্রী সাহানারা, ও মহিবুল ইসলাম সোহাগ জানায়, গত মাসে ভারি বর্ষণে বাঁশের সেতুটি পানির নিচে তলিয়ে গিয়েছিল। তখন আমাদের কষ্টের সীমা ছিলো না। আমাদের এই এলাকার শতাধিক ছাত্র ছাত্রী কেদারপুর ও বাহেরচর ক্ষুদ্রকাঠী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়ালেখা করে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাদের ওই সেতু পার হয়ে স্কুলে যেতে হয়।

স্থানীয় এলাকার ভুক্তভোগীরা জানান, সরকারের কোনো পদক্ষেপ না থাকায় ও ঠিকমত সংস্কার না হওয়ায় সেতুটি এখন দুর্বল কাঠামোর উপর দাঁড়িয়ে আছে। অতি প্রয়োজনের সময় ঝুঁকি নিয়েই পার হতে হয় সেতুটি। যেকোনো সময় সেতুটি ভেঙে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে এমন আশঙ্কা এলাকাবাসীর।

এলজিইডি থেকে বার বার আশ্বাস দিলেও সেতুটি বাস্তবায়নে এগিয়ে আসেনি কেউ।

স্থানীয় কৃষক জব্বার ও ব্যবসায়ী সাখাওয়াত হোসেন জানান, বর্ষার সময় সেতুটি ডুবে গেলে অনেক দূরের রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। তাতে খরচও বেশি হয়। নানা ধরনের ভোগান্তিতে পড়ে কৃষক, ব্যবসায়ী ও স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা।


কেদারপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নুরে আলম বেপারী জানান, দেহেরগতি ও কেদারপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী খয়রাতির খাল নামক স্থানের সেতু নির্মাণ করা অত্যান্ত জরুরী। সেতুটি নির্মাণ হলে দুই ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের মানুষ এর সুফল ভোগ করবে। শিগগিরই সেতুটি নির্মাণের দাবি জানান তিনি।

বাবুগঞ্জ উপজেলা এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মনোয়ারুল ইসলাম বলেন, যথাস্থানে একটি সেতু নির্মাণের ব্যবস্থা করার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে মৌখিকভাবে জানিয়েছি। শিগগরই লিখিতভাবে উক্ত স্থানেসেতু নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বিষয়টি উপস্থাপন করবো।

এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি এ সেতুটি নির্মাণের। সেতুটি নির্মিত হলে শিক্ষার পাশাপাশি অর্থনেতিক উন্নয়ন ও লক্ষাধিক মানুষের দুর্ভোগ কমবে বলে জানান স্থানীয়রা।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
   
Website Design and Developed By Engineer BD Network