২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, বৃহস্পতিবার

কাউখালীতে ভরা মৌসুমেও মিলছে না ইলিশ হতাশ জেলেরা

আপডেট: জুলাই ২৪, ২০২১

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

সৈয়দ বশির আহম্মেদ, পিরোজপুর প্রতিনিধি ॥ পিরোজপুরের কাউখালীর কচা সন্ধ্যা ও কালিগঙ্গা ও গাবখান নদীতে ভরা মৌসুমেও ইলিশের আকাল দেখা দিয়েছে। জেলেরা নদীতে দিন রাত জাল ফেলে আপ্রান চেষ্টা করলেও তাদের জালে মাছ ধরা পড়ছে না। ফলে জেলেদের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম হতাশা।
কাউখালীতে পাঁচ হাজারেরও বেশী ইলিশ জেলে পরিবার রয়েছে, এসব জেলে বিভিন্ন ব্যাংক ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে নৌকা ও জাল গড়ে নদীতে নেমেছে। কিন্তু সারাদিন জাল ফেলেও মাছ না পাওয়ায় তারা নিরাশ হয়ে বাড়ি ফিরছে। এখন অনেক জেলে নদীতে যাচ্ছেনা। নদীর তীরে নৌকায় বসে অলস সময় কাটাচ্ছেন। অন্য কোনো আয়ের উৎস না থাকায় বেকার হয়ে পরেছেন উপজেলার হাজার হাজার জেলে। বেশীরভাগ জেলে আবার ব্যাংক ও এনজিও ঋণের কিস্তির ভয়ে বাড়িতে যাচ্ছেন না। তাদের পরিবারের সদস্যরা অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছে।
সরেজমিনে জেলেপাড়ায় গিয়ে এক করুন চিত্র দেখা যায়, জেলেদের স্ত্রীরা অভাবের তাড়নায় দিশেহারা হয়ে পরেছেন। তাারা জানান, বিভিন্ন এনজিও ব্র্যাক, গ্রামীণ ব্যাংক, আশা, বিআরডিবি থেকে আনা ঋণের টাকা প্রতি সপ্তাহে পরিশোধ করতে হয়। তারা সংসার চালাতে পারছেন না কিস্তি দেবে কিভাবে- এই দুঃশ্চিন্তায় তাদের ঘুম হারাম হয়ে যাচ্ছে। কাউখালীর ১৭২৪ টি জেলে পরিবার সরকারী সাহায্য পেলেও তা জেলেদের সংখ্যার তুলনায় যৎসামান্য। কাউখালীর এলাকার ইলিশ জেলে মাইনুল, ফোরকান মাঝি, কাওসার, ইউনুছ জানান, তাদের একমাত্র পেশা ইলিশ ধরে বিক্রি করা এবং তা দিয়ে সংসার চালানো। ইলিশ মাছ নদীতে না পেয়ে তারা হতাশ এবং করোনার কারনে আয় রোজগার কমে গেছে।বর্তমানে সরকার সহজ শর্তে মৎস্য অধিদপ্তর থেকে লোন দিলে আমরা এই করুন অবস্থা থেকে রেহাই পাব। চিরাপাড়ার জেলে কাওসার জানান, এতদিন নদীতে ইলিশ ধরা বন্ধ ছিলো এবং লকডাউনের মধ্যে আমরা কোন কাজ করতে পারি নাই সরকারী যে সাহায্য পেয়েছি তা চাহিদার তুলনায় কম।
এ ব্যাপারে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফনি ভূষন পাল জানান, উপজেলার জেলেদেরকে পূর্ণবাসনের জন্য চার মাসের জন্য প্রতি মাসে ১৬৫০ জন জেলেকে জনপ্রতি ৪০ কেজি চাল দেয়া হচ্ছে। এছাড়া সমুদ্রগামী ১৯২ জন জেলেকে ১ম কিস্তিতে জনপ্রতি ৫৬ কেজি করে চাল দেয়া হয়েছে এবং দু’এক দিনের মধ্যে দ্বিতীয় ও তৃতীয় কিস্তিতে ৩০ কেজি করে চাল প্রদান করা হবে যাহা ইউপি চেয়ারম্যানদের অবহিত করা হয়েছে। উল্লেুখ্য কাউখালীর কচা নদীর সু-স্বাদু ইলিশ কাউখালীরের চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে রফতানি করা হতো। এমনকি ভারতের জামাই ষষ্ঠী অনুষ্ঠানে কচা নদীর ইলিশ খুব জনপ্রিয় ছিল। এছাড়া বিশেষজ্ঞদের ধারনা জলবায়ূ পরিবর্তনের ফলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় এ সমস্ত নদীতে কাঙ্খিত ইলিশ মিলছেনা এ ছাড়া উপকূলীয় অঞ্চলে পানির লবনাক্ততার উপর নির্ভর করছে ইলিশ পাওয়া কেননা যেখানে পানির লবনাক্ততা কম সেখানেই ইলিশ মিলবে। তিনি আরও বলেন খুব শীঘ্রই এসব নদীতে প্রচুর ইলিশ পাওয়া যাবে।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
   
Website Design and Developed By Engineer BD Network