২৫শে নভেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, বৃহস্পতিবার

পুলিশ পরিচয়ে ছিনতাইকারী চক্র

আপডেট: অক্টোবর ১৫, ২০২১

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

ডেস্ক রিপোর্ট:
ভোরে বয়স্ক পথচারীদের কাছ থেকে পুলিশ পরিচয়ে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান জিনিস ছিনতাই করে একটি চক্র। পাঁচ বছরে দেড় হাজারের বেশি ছিনতাই করেছে এ চক্রটি। চক্রের ৫ সদস্যকে গ্রেপ্তারের পর এ তথ্য পেয়েছে পুলিশ।

২৭ সেপ্টেম্বর, সকাল ৬টা ৪৫ মিনিট। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, রাজধানীর আদাবরের শেখেরটেকে সাদা রংয়ের প্রাইভেটকার থেকে নেমে দুই ব্যক্তি মেইন রোডে নেমে দুই গলিতে ঢুকে পড়েন। কিছুক্ষণ পর গাড়ির কাছে আসেন দুজনেই। প্রথমজনকে পাশের রাস্তায় যাওয়ার ইঙ্গিত দেন দ্বিতীয় ব্যক্তি।

আরেকটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, পাশের সেই ফাঁকা রাস্তায় হাঁটছেন এক নারী। তাকে অনুসরণ করতে থাকে একজন। আশপাশ ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করে পুলিশ পরিচয়ে ওই নারীর গতিরোধ করে স্বর্ণালঙ্কারসহ সঙ্গে থাকা সব মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেয়।

পরে আদাবর থানায় মামলা করেন ওই নারীর ছেলে। মামলা তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে বের করা হয় গাড়ির নম্বর। এর সূত্র ধরে শনাক্ত করা হয় আসামিদের। পরে রাজধানীর ডেমরা ও কদমতলীতে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয় পাঁচ আসামিকে। উদ্ধার করা হয় স্বর্ণালঙ্কার, পুলিশের ভূয়া আইডি কার্ড, জব্দ করা হয় ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত গাড়ি।

পুলিশ বলছে, এ চক্রের প্রধান কাজী শওকত হোসেন ও আরেক সদস্য রাশেদ পুলিশ কর্মকর্তা সাজে। সুমন সাজে পথচারী। টার্গেট ব্যক্তিকে গতিরোধ করে কখনো মূল্যবান জিনিস নিজেদের হেফাজতে রাখার কথা বলে, এতে রাজি না হলে ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। গাড়ি চালানোর দায়িত্ব থাকে মাসুম। স্বর্ণ ও মূল্যবান জিনিস বিক্রির করে বিল্লাল।

পুলিশ জানাচ্ছে, গত ৪/৫ বছর ধরে এই চক্রটি নিয়মিত ছিনতাই করছে। প্রতিদিন ভোর ৪টায় রাস্তায় নেমে সকাল আটটা পর্যন্ত কমপক্ষে ৫-৬টি ছিনতাই করে। দেড় হাজারের বেশি ছিনতাইয়ের কথা স্বীকার করেছে তারা।

ঢাকা মহানগরী ছাড়াও ঢাকা-মাওয়া, ঢাকা-আরিচা হাইওয়ে এবং ঢাকার পার্শ্ববর্তী এলাকাতেও পুলিশ পরিচয়ে ছিনতাই করে আসছিল এ চক্রটি। চক্রের প্রত্যেক সদস্যের নামে ৩-৪টি করে মামলা রয়েছে।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
   
Website Design and Developed By Engineer BD Network