১লা ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার

বানারীপাড়ায় কিশোরীকে এক মাস আটকে রেখে ধর্ষণ : মামলা

আপডেট: অক্টোবর ২১, ২০২১

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

জি.এম রিপন,বানারীপাড়া
বানারীপাড়ায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক কিশোরীকে প্রায় এক মাস আটকে রেখে ধর্ষণ করার অভিযোগে পাঁচ জনকে আসামী করে থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। বুধবার রাতে উজিরপুর থানায় ভিকটিমের পিতা বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেণ। উজিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো.আলী আর্সাদ এ মামলাটি তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এস.আই মো.জুয়েল হোসেনকে নির্দেশ দেন। এস.আই জুয়েল হোসেন ওই রাতেই ভিকটিমকে উদ্ধার করে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালের ওসিসিতে ভর্তি করেণ। পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে সেখানে তিনি ভিকটিমের ডাক্তারী পরীক্ষা শেষে আদালতে জবানবন্দি রেকর্ড করেণ।
এব্যাপারে ভিকটিম ও তার পরিবার জানান, ১৭ সেপ্টেম্বর বানারীপাড়া উপজেলার উত্তরকুল এলাকার মতলেব ফরাজীর ছেলে মো.জামাল হোসেন ফরাজী (২৬) বিয়ের প্রেলোভন দেখিয়ে উজিরপুর উপজেলার নিজ বাড়ির সামনে থেকে এক কিশোরীকে (১৫) জোরপূর্বক তুলে এনে কচুয়া গ্রামের ম্যারেজ রেজিষ্টার মাওলানা মো.আবু হানিফের কাছে নিয়ে যান। সেখানে জামাল ফরাজী ওই কিশোরীকে ইসলামি শরিয়া মোতাবেক বিয়ে করার নাটক করেন। পরে জামাল ফরাজী তাকে তার কর্মস্থল সন্দিপ এলাকার এক বন্ধুর বাসায় নিয়ে যান। সেখানে জামাল ফরাজী তাকে প্রায় এক মাস আটকে রেখে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেণ। পরে ১৮ অক্টোবর জামাল ফরাজী ওই কিশোরীকে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসেন। এসময় জামাল ফরাজীর পরিবার ওই কিশোরীকে বেদম মারধর করার পাশাপাশি তার শরীরে ব্যবহ্নিত স্বর্ণালংকার খুলে রেখে উজিরপুরের হাবিবপুর এলাকায় নিয়ে একটি সড়কের পাশে ছেড়ে দিয়ে আসেন। পরে সেখান থেকে ওই কিশোরী তার এক আত্মিয়ার বাড়িতে আশ্রয় নেন। পরদিন সেখান থেকে বাড়ি ফিরে ওই কিশোরী তার পরিবারকে পূরো ঘটনাটি খুলে বলেন। এঘটনা জেনে ১৯ অক্টোবর ওই কিশোরীর বাবা তার মেয়েকে নিয়ে বানারীপাড়ার লবনসাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে যান। সেখানে তিনি এব্যাপারে অভিযোগ জানালে দায়ীত্বেরত এস.আই আবু হানিফ অভিযুক্ত জামাল ফরাজীর বাবা মতলেব ফরাজীকে ঢেকে আনেন। এসময় মতলেব ফরাজী সেখানে গিয়ে প্রকাশ্যে ওই কিশোরীকে মেনে না নেয়ায় ঘোষনা দিলে এস.আই আবু হানিফ ভিকটিম ও তার পরিবারকে বানারীপাড়া থানায় পাঠিয়ে দেন। পরে ওই দিনই তারা (কিশোরীর পরিবার) এ ঘটনাটি বানারীপাড়া থানা পুলিশকে অবহ্নিত করেন। এসময় তারা ওই কিশোরীকে উপজেলা ৫০ শয্যা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
এব্যাপারে বানারীপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো.হেলাল উদ্দিন জানান, নিয়ম অনুযায়ী ঘটনাস্থল উজিরপুর থানা এলাকায় হওয়ায় মামলাটি সেখানে রজু করার জন্য ওই থানার অফিসার ইনচার্জকে অবহ্নিত করেছেন। এছাড়া ওই ঘটনার পর থেকে জামাল ফরাজী এলাকা ছেড়ে অন্যত্র গাঁঢাকা দিয়েছে বলেও তিনি জানান।
এব্যাপারে উজিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো.আলী আর্সাদ জানান, বুধবার রাতে ভিকটিমের বাবা বাদী হয়ে পাঁচ জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেছেন। বৃহস্পতিবার সকালে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ভিকটিমের ডাকারী পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে। এছাড়া ওই মামলায় অভিযুক্ত আসামীদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
এদিকে উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের কচুয়া গ্রামের ম্যারেজ রেজিষ্টার মাওলানা মো.আবু হানিফ জানান, এক মাস পূর্বে উত্তরকুল গ্রামের মতলেব ফরাজীর ছেলে মো.জামাল হোসেন ফরাজী তার কাছে এক কিশোরীকে বিয়ে করার জন্য নিয়ে এসেছিলেন। এসময় ওই কিশোরীর নিবন্ধন অনুযায়ী তার জন্ম ২০০৬ সালে হওয়ায় এবং তার প্রাপ্ত বয়স ১৮ বছর না হওয়ার কারণে তিনি সেই বিয়ে পড়াননী বলে দাবী করেন।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
   
Website Design and Developed By Engineer BD Network