২১শে নভেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, রবিবার

শেবাচিমের এ্যাম্বুলেন্সে লাইফ সাপোর্ট

আপডেট: নভেম্বর ১৭, ২০২১

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

খান আব্বাস ॥ বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগী বহনে প্রথমবারের মত লাইফ সাপোর্টযুক্ত এ্যাম্বুলেন্স দেয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে এ্যাম্বুলেন্সটি দেয়া হলেও সকল যন্ত্রপাতি সংযুক্ত করা হচ্ছে। তবে রোগী বহনে কিলোমিটার অনুযায়ী টাকা গুনতে হবে। থাকবে লাইফ সাপোর্ট পরিচালনার জন্য দক্ষ জনবল। হাসপাতালের পরিচালকের কার্যালয় সূত্র থেকে জানা গেছে, ভারত থেকে বাংলাদেশকে উপহার দেয়া এ্যাম্বুলেন্সগুলোর মধ্য থেকে একটি এ্যাম্বুলেন্স শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়। এ্যাম্বুলেন্সের লাইফ সাপোর্টের যত যন্ত্রপাতি রয়েছে তা সব খোলা ছিল। এ জন্য এখন যন্ত্রপাতি সংযোজনের কাজ চলছে। এ কাজ সম্পন্নে আরো ৪ দিনের মত সময় লাগবে। এরপর এ্যাম্বুলেন্সটি রোগী বহনে পুরোপুরি প্রস্তুত হবে। সেখান থেকে আরো অবহিত করা হয় লাইফ সাপোর্ট পরিচালনার জন্য দক্ষ জনবলের প্রয়োজন। এ জন্য যারা এ বিষয়ে দক্ষ রয়েছে তাদের মাধ্যমে ব্রাদারদের প্রশিক্ষণ দেয়া শুরু হয়েছে। এ্যাম্বুলেন্সটি সচল হলে প্রতিদিন ৮ ঘন্টা করে তারা এ্যাম্বুলেন্সে দায়িত্ব পালন করবেন। আশংকাজনক রোগীদের লাইফ সাপোর্টে তারা সার্বিক সহায়তা করবে। লাইফ সাপোর্ট না পাওয়ায় সাধারণ এ্যাম্বুলেন্সে অনেক সময় কার্ডিয়াক রোগীদের হাসপাতালে আসার পথেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তো। এটি ব্যবহারে সে ধরনের বিপদ অনেকাংশে কমে আসবে। হাসপাতালে ওয়ার্ডের চেয়েও এ্যাম্বুলেন্সে রোগীরা ভালো চিকিৎসা পাবে। জরুরী রোগীর কল না থাকলে সাধারন রোগীরাও এ এ্যাম্বুলেন্স ব্যবহারের সুযোগ পাবে। তবে রোগী বহনে কিলেমিটার অনুযায়ী টাকা গুনতে হবে। প্রতি কিলোমিটার কত টাকা তা এখনো নির্ধারণ হয়নি। তাছাড়া এ্যাম্বুলেন্স রক্ষনাবেক্ষনেও আর্থিক খরচের বিষয় রয়েছে। এ জন্য পরিচালকের দপ্তর থেকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে। ওই চিঠির উত্তর আসার পরপরই এ্যাম্বুলেন্সটি রোগী বহন শুরু করবে। তবে এ্যাম্বুলেন্সটিকে দীর্ঘ সময় ভালো রাখতে প্রয়োজন হবে রক্ষনাবেক্ষনের। রক্ষনাবেক্ষন ভালো না হলে এর সুফল বেশীদিন স্থায়ী হবে না। এ জন্যও জনবলের প্রয়োজন হবে। এ ব্যাপারে হাসপাতালের পরিচালক ডা. এইচএম সাইফুল ইসলাম বলেন, গত মাসের শেষেরদিকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে এ্যাম্বুলেন্সটি হাসপাতালের রোগীদের ব্যবহারে প্রেরন করা হয়। এ্যাম্বুলেন্সে একজন রোগীর লাইফ সাপোর্টে যা যা প্রয়োজন সবকিছুই রয়েছে। লাইফ সাপোর্ট দেয়ার জন্য দক্ষ জনবল প্রস্তুত করা হচ্ছে। এ্যাম্বুলেন্সটি রোগীর বড় উপকারে আসবে। এটি ব্যবহারে কিলোমিটার অনুযায়ী টাকা দিতে হবে। তবে কত টাকা করে দিতে হবে এ জন্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে। সেখান থেকে সিদ্ধান্ত আসার পর তা নির্ধারন করা হবে। এক হাজার বেডের হাসপাতাল হলেও প্রতিদিন গড়ে দুই হাজার থেকে ২২শ’ রোগী চিকিৎসা নিচ্ছে। এ জন্য একটি এ্যাম্বুলেন্স দিয়ে রোগী সামাল দেয়া সম্ভব হবে না। আরো এ্যাম্বুলেন্সের প্রয়োজন হবে। স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়কে সে বিষয়টিও অবহিত করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গত ২৬ ও ২৭ মার্চ বাংলাদেশ সফরে আসেন। তখন স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন, বিশেষ করে কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবিলার যৌথ প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ সরকারকে ১০৯টি লাইফ সাপোর্ট এ্যাম্বুলেন্স উপহার দেয়ার ঘোষণা দেন। ওই ঘোষনা অনুযায়ী সেপ্টেম্বর মাসে প্রথম ধাপে ৩০টি পরবর্তীতে বাকীগুলোও ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রেরন করা হয়। ওই এ্যাম্বুলেন্সের একটি দেয়া হয়েছে শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
   
Website Design and Developed By Engineer BD Network