১৩ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, বৃহস্পতিবার

শিরোনাম
সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের সাভানা পার্ক পরিদর্শনে দুদক প্রতিনিধি দল, সাংবাদিকদের বাঁধা পার্ক কর্তৃপক্ষের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র না তবুও ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লা-হিল-গালিব সাভারের ট্রাক চাপায় দুই মোটরসাইকেল আরোহী নিহত ইন্দোনেশিয়ায় বাংলাদেশী যুবক ওমর ফারুক জয়ের স্বর্ণ জয় এ অঞ্চল সবসময় দুর্যোগ প্রবন, তাই আপনাদের পাশে দাড়িয়েছি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তেলবাহী লড়ি উল্টে গিয়ে আগুন লেগে এক জনের মৃত্যু। ভূমি বিষয়ক তথ্যাদি স্কুলের পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ করো হয়েছে-ভূমিমন্ত্রী মির্জা ফকরুলরা তারেক জিয়ার নির্দেশে জনগনের সাথে প্রতারনা ও তামশা করছে-আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিগ বার্ড ইন কেইজ: ২৫ শে মার্চ রাতে বঙ্গবন্ধুর গ্রেফতার 

স্মৃতি আড্ডায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের যত চত্বর,

আপডেট: জানুয়ারি ২১, ২০২৩

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

রাবি প্রতিনিধি:
সবুজ মতিহারের বুকে ৭৫৩ একর জায়গা জুড়ে দেশের উত্তরাঞ্চলে মাথা উঁচিয়ে দাঁড়িয়ে আছে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিদ্যাপীঠ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। বিশাল এ এলাকার আনাচে কানাচে রয়েছে সুউচ্চ গাছ, বিভিন্ন স্থাপনা, ভাস্কর্য, রাস্তা এবং চত্বর। রাবি ক্যাম্পাসের বাঁকে বাঁকে থাকা কিছু চত্বরগুলোর সঙ্গে একদিকে যেমন মিশে রয়েছে অনেক স্মৃতিকথা তেমনি ক্যাম্পাসের ভৌগোলিক পরিচিতি পেতেও এগুলো সহায়ক।

বিশ্ববিদ্যালয় জুড়ে শিক্ষার্থীদের আড্ডাস্থল হয়ে উঠেছে বিভিন্ন চত্বর। এসব চত্বরের আছে অদ্ভুতসব নামের বাহার। ক্যাম্পাসজুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা এসব চত্বরেই দিনের পর দিন শিক্ষার্থীদের আড্ডাস্থল থাকতে থাকতে এখন অনেকটাই ক্যাম্পাসের অংশ হয়ে গেছে। এখন এসব চত্বরই প্রাণ দেয় ক্যাম্পাসকে। তবে ক্যাম্পাস বন্ধ থাকলেও আড্ডার বিরাম নেই এসব চত্বরে। আর চত্বর ফাঁকা তো ক্যাম্পাস প্রাণহীন।

ইবলিস চত্বর…..
বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে পুরানো ও জনপ্রিয় চত্বরের নাম ইবলিস চত্বর। ক্যাম্পাসের কাজলা গেট দিয়ে ভেতরে ঢুকলে মমতাজ উদ্দীন কলা ভবনের পশ্চিম পাশের মাঠই ইবলিশ চত্বর। তবে নামকরণ নিয়ে আছে ভিন্ন ভিন্ন মত। কেউ বলছে, এই মাঠে বিভিন্ন খারাপ কাজ হয়। নেশা করা, মেয়েদের উত্যক্ত করা, অনেক রাত পর্যন্ত-আড্ডা দেয়া। সম্ভবত এ কারণেই এই চত্বরের নাম হয়েছে ‘ইবলিশ চত্বর’। তবে এর অন্য ব্যাখ্যাও আছে। অনেকে বলেন, এই চত্বরে আগে ছেলে-মেয়েতে একসাথে আড্ডা চলতো বলে ইসলামী ছাত্রশিবির এর নাম রেখেছেন ‘ইবলিস চত্বর’। তবে আরেকটা ভিন্নমতও রয়েছে। স্বাধীনতার আগে কোন এক সময়ে এই চত্বরে ‘ইবলিশ’ নাটক করেছিলেন শিক্ষার্থীরা। আর সেখান থেকেই এই চত্বরের নামকরণ হয়ে গেছে ইবলিশ চত্বর।

টুকিটাকি চত্বর……..
বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রস্থল হিসেবেই টুকিটাকি চত্বর প্রতিষ্ঠিত। চারপাশের ভবন আর রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের আনাগোনায় সব সময়ই গমগম করে এই চত্বরটি। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরীর মূল ফটকের সামনেই এই চত্বরের অবস্থান। এখানে অবস্থিত ‘টুকিটাকি জেনারেল স্টোরের’ নাম অনুসারেই এই চত্বরের নামকরণ হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীদের আড্ডাস্থল হিসেবেই এটি বহুল পরিচিত। তবে একেবারে ক্যাম্পাসের মাঝে অবস্থান হওয়ার কারণে ক্যাম্পাস চালু থাকলে তো বটেই ছুটির দিনেও শিক্ষার্থীদের ভিড় থাকে এখানে।

ফোকলোর চত্বর…….
এটা ইবলিশ চত্বরের একাংশের নাম। ১৯৯৮ সালে ফোকলোর আড্ডা কমিটি গঠিত হয়। পরের বছর ১১ সদস্য বিশিষ্ট এই কমিটির উদ্যোগে কৃষ্ণচূড়া এবং রাধাচূড়া গাছের চারা রোপনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এ চত্বরের নাম রাখা হয় ফোকলোর চত্বর। মূলত ইবলিস নামটিকে বিলুপ্ত করার জন্য একই চত্বরে ফোকলোর আড্ডা কমিটি এ কাজটি করে। পরে ২০০৩ সালে ফোকলোর বিভাগে তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা এর সাইনবোর্ড ঝুলায়। এটি বহুল পরিচিত একটি চত্বর।

গণযোগাযোগ চত্বর…..
বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ বিভাগের নতুন নামকরণ হয়েছে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ। তবে তাতে পরিবর্তন হয়নি এই চত্বরের নাম। গণযোগাযোগ বিভাগের সামনের মেহগনি বাগানের ছায়ায় ঢাকা এই চত্বরটির অবস্থান।

ভকেট চত্বর……
এই চত্বরের প্রতিষ্ঠাতা হলেন ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী শাহীন। ভকেট শব্দটি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বহুল প্রচলিত একটি শব্দ। ভকেট শব্দটি এসেছে ইংরেজি শব্দ Advocate থেকে Advocate এর Ad বাদ দিয়ে vocate করা হয়েছে। মূলত যারা বেশি কথা বলে, কিছুটা বখাটে, উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘুরে বেড়ায় কিন্তু ভবঘুরে নয় এবং নীতি কথায় বিশ্বাসী নয় কিন্তু যুক্তিবাদী তারা ভকেট হিসাবে পরিচিত। অর্থাৎ ভকেট হল বাচাল (কিছুটা ভবঘুরে ও হালকা বখাটে) এবং যুক্তিবাদীর সংমিশ্রণ। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিরাজী ভবন ও মন্নুজান হলের মাঝখানের ফাঁকা জায়গাটাই ‘ভকেট চত্বর!” এই চত্বরটায় একসময় ভকেটদের আড্ডা বসত কিন্তু বর্তমানে আর এখানে ভকেটদের আড্ডা জমে না। রাবিতে পড়েন অথচ ভকেট শব্দটি শুনেননি এমন মানুষ খুব কমই পাওয়া যাবে!!

মহাকবি কালিদাস প্রাঙ্গন………
সংস্কৃতের প্রাণপুরুষ মহাকবি ও সংস্কৃতজ্ঞ কালিদাস রায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এ চত্বরটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ভাষা বিভাগের (সংস্কৃত) ২০০৫-০৬ শিক্ষা বর্ষের শিক্ষার্থীরা এই চত্বর প্রতিষ্ঠা করেন। মহাকবি কালিদাসের সাহিত্যকর্ম ও জীবনকর্ম নিয়ে এখানে নিয়মিত চর্চা হয়। মহাকবি কালিদাস চত্বরটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডীনস্ কমপ্লেক্স ও ৪র্থ কলাভবনের মাঝামাঝি সোজা দক্ষিণ পাশের একটি আমগাছের বাঁধানো চারপাশটাই এই চত্বরের স্থান।

দর্শন চত্বর…….
বিশ্ববিদ্যালয়ের মমতাজ উদ্দিন কলাভবনের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত এ চত্বরটি। দর্শন বিভাগের ২০০৪-০৫ সেশনের শিক্ষার্থীরা এটির প্রতিষ্ঠাতা। ক্লাসের ফাঁকে ফাঁকে এখানে বসেই আড্ডা জমিয়ে তোলে দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। বিভাগের নামানুসারেই এ চত্বরের নামকরণ করা হয়েছে দর্শন চত্বর।

বৈশাখি চত্বর…….
শহীদুল্লাহ কলাভবনের মেইন গেইটের সামনে বাম পাশে এ চত্বরের অবস্থান। বাংলা নববর্ষ ১৪১৩’র পহেলা বৈশাখে এটি প্রতিষ্ঠিত বলে এর নাম বৈশাখি চত্বর রাখা হয়। এ চত্বরের কোন কমিটি নেই, সবাই সক্রিয় সদস্য বলে বিবেচিত। প্রতিষ্ঠাতা সদস্যের মধ্যে কয়েক জন হল- রোমেল, তন্ময়, নাহিদ সুজন প্রমুখ। প্রতি বছর পহেলা বৈশাখে এই চত্বরটি জমজমাট হয়ে ওঠে বাংলা বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নানা আয়োজনের অনুষ্ঠানে।

চাচা চত্বর……..
বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ কলাভবনের মেইন গেটের সোজা দক্ষিণ রাস্তার ডানপাশে আমবাগানের ঘন ছায়ায় চাচা চত্বরটি অবস্থিত। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে হাঁটার সময় খুব সহজেই চোখে পড়ে এটি। ‘চাচা ভাতিজার অবিরাম আড্ডা’- এ প্রতিপাদ্য ঘিরেই চাচা চত্বর প্রতিষ্ঠিত। তবে কে চাচা আর কে ভাতিজা এ ব্যাপারে কোন তথ্যই বলতে পারেন না কেউই। চাচা চত্বরে মূলত প্রেমি জুটিরাই বসেন। রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরাই এটা প্রতিষ্ঠা করেছেন বলে শোনা যায়।
ময়েজ চত্বর………
বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯৯৯-২০০০ সেশনের বিভিন্ন বিভাগের ১৪ জন সদস্য মিলে ২০০৩ সালে প্রতিষ্ঠা করে ময়েজ চত্বর। সততা ও নিষ্ঠার শপথে আবদ্ধ মানুষের উপকার করার লক্ষে ওই শিক্ষার্থীদের প্রতিষ্ঠা করা সংগঠন ‘ময়েজ’ এর নামানুসারেই এই চত্বরের নামকরণ হয়েছে। ‘ময়েজ’ গ্রুপের আমৃত্যু ও প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আব্দুর রহমান ময়েজ এবং সেক্রেটারি এম ফজলে রাব্বি পাভেল। ময়েজ গ্রুপের নিজস্ব ভাষাও আছে। একসাথে বসলে তারা সে ভাষাতে কথা বলেন। ময়েজদের বেশিরভাগই ক্যাম্পাস ছেড়ে গেছেন। ময়েজ চত্বরের আগের অবস্থাও আর নেই। কিন্তু রবীন্দ্র ভবনের মেইন গেটের সামনে ডান পাশের এই চত্বরটির নাম এখনো ফেরে শিক্ষার্থীদের মুখে মুখে।

রারু চত্বর………
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া স্থানীয় শিক্ষার্থীদের সংগঠন রাজশাহী অ্যাসোসিয়েশন অব রাজশাহী ইউনিভার্সিটি (রারু)। ময়েজ চত্বরের পূর্ব পাশে এই সংগঠনের জন্য নির্ধারিত চত্বর রারু চত্বর। বেশিরভাগ সময়ে এখানে স্থানীয় শিক্ষার্থীরা আড্ডা দিলেও সাধারণ শিক্ষার্থীদেরও পদচারণা রয়েছে এখানে।

রোকেয়া চত্বর……
কেবল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়াদেরই নয়, পার্শ্ববর্তী এলাকার ছেলে মেয়েদের কাছেও আগ্রহের বিষয় রোকেয়া চত্বর। ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের হৃদয়’ বলে পরিচিত পশ্চিম পাড়ায় রোকেয়া হল সংলগ্ন বটতলায় এটি অবস্থিত। হলের সামনের গোল চত্বরের নামানুসারেই লোকমুখে এটি রোকেয়া চত্বর হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। সন্ধ্যা বেলা এখানে ভিড় জমে উঠে বন্ধু-বান্ধব আর প্রেমিক জুটিদের আড্ডায়।

প্রেম চত্বর…….
মন্নুজান হলের সামনের এই চত্বরটির নাম ছিল প্রেম চত্বর। এর ওপর বর্তমানে চতুর্থ কলাভবন নির্মিত হয়েছে। এখানে প্রকাণ্ড আকৃতির আমগাছ ছিল এবং জুটিরা নিরাপদে বসে চুটিয়ে সকাল-বিকাল প্রেমের আলাপে ব্যস্ত- থাকত। আর এ কারণেই এই চত্বরের নাম প্রেম চত্বর হয়েছে। তবে এখন চতুর্থ কলাভবনের পেছনের দিকের সংকুচিত স্থানটিই প্রেম চত্বর নামে ডাকে শিক্ষার্থীরা। কারণ এখানে এখনো প্রেমিক জুটিদের মন দেয়া নেয়া চলে নিরাপদেই।

এছাড়াও ক্যাম্পাসে আরো রয়েছে জারজিস চত্বর, লিপু চত্বর, ক্যাম্পাস বাউলিয়ানা চত্বর, জোহা চত্বর, শহিদ মিনার চত্বর, বুদ্ধিজীবী চত্বর, পাঠক ফোরাম চত্বর, স্বজন চত্বর, টিএসসিসি চত্বর, পলাশ চত্বর, ইতিহাস চত্বর, বি.বি চত্বর, পাবনা চত্বর, নগর রাষ্ট্র, ইনফরমেশন অ্যান্ড নলেজ কর্নার, বাদামতলা চত্বর, সংস্কৃতায়ন অঞ্চল, সিএসই নেটওয়ার্ক, অস্থিরপুর, এমজিএম শাহরিয়ার মেমোরিয়াল হাউজ, পরিবহন মার্কেট, ফারসি চত্বরসহ আরো অনেক চত্বর।

[

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
     
Website Design and Developed By Engineer BD Network