১লা মার্চ, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, শুক্রবার

জেলা পুলিশ সুপারের সদয় দৃষ্টি কামনা পটুয়াখালীতে ঝিলিক সমাজ উন্নয়ন সংস্থার টাকা, পাস বহি ও আসবাবপত্র লুট

আপডেট: অক্টোবর ২১, ২০২৩

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

তারিখঃ ২০ অক্টোবর ২০২৩

গলাচিপা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধিঃ
পটুয়াখালীর গলাচিপায় ঝিলিক সমাজ উন্নয়ন সংস্থা নামের একটি এনজিওর সংস্থার টাকা পাস বহি ও আসবাবপত্র লুট হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় গলাচিপা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কলেজ রোড (সাহা বাড়ির সামনে শাহজাহান হাজীর ভবন) এলাকায়। এ বিষয়ে ঝিলিক সমাজ উন্নয়ন সংস্থার শাখা ব্যবস্থাপক লিমা বেগম জানান, গলাচিপা পৌরসভার ঝিলিক সমাজ উন্নয়ন সংস্থা অফিসে ২০ জন বেকার নারী কাজ করে। এই অফিসটি উপজেলার প্রধান অফিস। এই অফিসের শাখা আমখোলা, চিকনিকান্দী, রতনদী তালতলী ইউনিয়নের উলানিয়া বাজারে আছে। আমরা আরও কয়েকটি শাখা খোলার পরিকল্পনা করছি। আমরা স্বল্প সুদে কৃষক থেকে শুরু করে ব্যবসায়ীদের মাঝে ঋণ বিতরণ করে আসছি। গ্রাহকরা আমাদের কাছ স্বল্প সুদে ঋণ পেয়ে স্বাবলম্বী হচ্ছে এবং প্রতিদিন তারা কিস্তির টাকা পরিশোধ করে আসছে। আমাদের ৩টি শাখা অফিসের সকল প্রকার নথিপত্র, পাস বহি, সঞ্চয় ও কিস্তির টাকা, ব্লাংক চেক প্রধান কার্যালয় অফিসের আলমারির ভিতরে সংরক্ষিত ছিল। প্রতি দিনের মত বৃহস্পতিবার সকালে ফিল্ড কর্মী রেহেনা বেগম, আমেনা বেগম, হালিমা বেগম, নাসিমা বেগম ও রাবেয়া বেগম অফিসে আসেন। অফিসের তালা খুলে যার যার ফিল্ডে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নেন। হঠাৎ করে গলাচিপা পৌরসভার মুসলিম পাড়ার মৃত রাজ্জাক নাইয়ার দুই ছেলে সোহেল নাইয়া (৩০) ও শিপলু নাইয়া (২৭) আমাদের অফিসের ভিতর না বলে ঢুকে স্টিলের আলমারীসহ অফিসের আসবাবপত্র, টাকা পয়সা লুট করে নিয়ে যায়। আমরা বাধা নিষেধ করলে আমাদের ফিল্ডকর্মীদের গায়ে হাত তোলে। এ বিষয়ে ঝিলিক সমাজ উন্নয়ন সংস্থার চেয়ারম্যান মো. শাহিন কাজী বলেন, ২০১৬ সালে ঝিলিক সমাজ উন্নয়ন সংস্থা একটি সংগঠন পটুয়াখালী জেলা সমাজ সেবা কার্যালয় থেকে নিবন্ধিত হয়। যার নিবন্ধন নম্বর পটুয়া-৬১৩/১৬। এর পর থেকেই আমরা মাক্রোক্রেডিটের কাজ করা শুরু করি। করোনাকালীন সময়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে কোন টাকা না নিয়ে আমরা তাদেরকে নিজ অর্থায়নে সেবা প্রদান করি এবং আমাদের কর্মীদের নিয়ে খোজ খবর রাখি তারা কীভাবে আছে এবং কেমন আছে এটা জানার জন্য। গ্রাকদের সঞ্চয়ের টাকা আমার অফিসে আছে। আমরাও গ্রাহকদের প্রায় ৫ কোটি টাকা দিয়েছি। কষ্ট শুধু একটাই আমি অফিসিয়াল কাজে ঢাকা থাকায় কতিপয় কিছু মানুষ আমাকে না জানিয়ে কুপ্রকৃতি লোকদের ইন্ধনে আমার অফিসে ঢুকে কর্মীদের মারধর করে এবং অফিস থেকে প্রায় মালামাল, পাসবহি, চেক, টিভি, ফ্রিজ, স্টিলের আলমারী, চেয়ার, টেবিল, টাকা লুট করে নিয়ে যায়। এতে সংস্থার ব্যপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক গ্রাহকের তথ্য ও টাকা দেয়া এবং আদায়ের হিসাব ওই পাস বইয়ে ছিল। এখন আমরা কীভাবে গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা তুলব বুঝতে পারছি না। পাশাপাশি আমাদের শাখা অফিস ৩টিও তোপের মুখে পড়েছে। এর সকল দায়ভার লুটকারী সোহেল ও শিপলুকে নিতে হবে। আমি প্রশাসনের কাছে বিচারের জোর দাবী করছি। যেহেতু সরকারকে ভ্যাট ও ট্যাক্স দিয়ে আমি এই সংস্থাটি চালাচ্ছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ডিজিটাল বাংলার রূপকার ও গ্রাম উন্নয়নের ধারক বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার কাছে আমার জোর দাবী এই লুটেরা কারা। এদের কোথায় বাড়ি। এরা কোন দল করে। এভাবে দিনে দুপুরে লুট করে নিয়ে যাচ্ছে। আজ তো আমার টাকা পয়সা লুট করে নিল একদিন তারা দেশের সম্পদ লুট করতেও পিছপা হবে না। তাই আমি এর সঠিক বিচার চাই। এবং আমার সংস্থার নিরাপত্তার জোর দাবী জানাচ্ছি। এ বিষয়ে ঝিলিক সমাজ উন্নয়ন সংস্থার পাশের ব্যবসায়ী আলতাফ মিয়া, পরেশ সাহা, দিলীপ দাস, উত্তম সাহা এরা বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে হঠাৎ করে মৃত রাজ্জাক নাইয়ার ছেলে সোহেল নাইয়া ও তার ভাই শিপলু নাইয়া গাড়ি নিয়ে অফিসে ঢুকে মাঠকর্মীদের ভয় দেখিয়ে অফিস থেকে মালামাল, টাকা পয়সা ও কাগজপত্র সবকিছু নিয়ে যায়। এ বিষয়ে সোহেল নাইয়া ও তার ভাই শিপলু নাইয়ার কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন, সঞ্চয়ের টাকা না পেয়ে অফিস থেকে মালামাল বাসায় নিয়ে এসেছি। এ বিষয়ে পৌরসভার প্যানেল মেয়র সুশীল চন্দ্র বিশ^াস বলেন, ঘটনাটি আমি শুনেছি। আসলে কাজটি দুঃখজনক। এ প্রসঙ্গে গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শোনিত কুমার গায়েণ বলেন, ঝিলিক সমাজ উন্নয়ন সংস্থাটির অফিসে ঝালেমার কথা শুনে সেখানে পুলিশ পাঠিয়েছি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ বিষয়ে ঝিলিক সমাজ উন্নয়ন সংস্থার কর্ণধার মো. শাহিন কাজীর মা মোসা. সাজেদা বেগম বাদী হয়ে গলাচিপা থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
     
Website Design and Developed By Engineer BD Network