২৩শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, শুক্রবার

সরিষার ভালো ফলনে খুশি কৃষক কনু মিয়া

আপডেট: জানুয়ারি ২০, ২০২৪

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

হেলাল আহমদ, বালাগঞ্জ প্রতিনিধিঃসিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার পূর্ব পৈলন পুর ইউনিয়নের কৃষক কনু মিয়া’র ফসলের মাঠে হলুদ সরিষা ফুলের সমারোহ। এর সঙ্গে সরিষার মাঠে বইছে মৌমাছির গুঞ্জণ। এই সরিষার ফুলে ফুলে দোল খাচ্ছে কৃষক কনু মিয়ার রঙিন স্বপ্ন। এক সময় কৃষকেরা আমন ধান কাটার পর জমি ফেলে রাখতো। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই রীতি পাল্টেছে। আমন ধান কাটার পরপরই কৃষিজমিতে শুরু হয় সরিষার চাষ। মাত্র ৬০ থেকে ৭০ দিনের মধ্যে ফসল ঘরে তুলতে পারেন সরিষাচাষীরা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়,বিগত বছরগুলো থেকে চলতি মৌসুমে বালাগঞ্জ বেড়েছে সরিষার আবাদ।উপজেলার পূর্ব পৈলন পুর ইউনিয়নে বেশি সরিষার চাষ হয়ে থাকে।পাশাপাশি অন্যান্য ইউনিয়ন গুলোতেও সরিষার আবাদ হয়।কৃষি বিভাগ বলছে এবছর উৎপাদনও বেশি হবে বিগত বছরগুলোর চেয়ে। উপজেলার চাষিরা সরিষা ক্ষেত থেকে সরিষার পাশাপাশি এসব জমিতে ভুট্টা, ডাইল,গম, মিষ্টি কুমড়া, পেঁয়াজ, রসুন, মিষ্টি আলু, লাউ শাক সহ বিভিন্ন রবিশস্য চাষের ধুম পড়ে গেছে।

পূর্ব পৈলন পুর ইউনিয়নের কৃষকরা সরিষা পশা পাশি । এবার বালাগঞ্জ ৭৮০ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ হয়েছে। প্রাকৃতিক পরিবেশ অনুকূলে থাকায় চলতি মৌসুমে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার সরিষা চাষে বাম্পার ফলন হয়েছে। এতে কৃষকরা বেশ আনন্দিত।

সরেজমিনে কৃষক কনু মিয়ার এর সাথে কথা বলে জানা যায়,গত বছর তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে সামান্য কিছু জমিতে সরিষার আবাদ করেন।সরিষার ভালো ফলন ও লাভ হওয়ায় এই বছর তিনি উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শ ও সহযোগিতায় এক্ষেত্রে এসব চাষীদের বিনামূল্যে সার-বীজ দিয়ে সহায়তাও করা হয়েছে।১ টি প্লটে বিশ বিঘা জমিতে সরিষার আবাদ করেছেন।

প্রতি বিঘা জমিতে দেড় থেকে দুই হাজার টাকা করে ব্যয় হয়েছে। সরিষার ফুলে খেত ভরে গেছে। ফলন ভালো হওয়ায় বিঘা প্রতি পাঁচ থেকে ছয় মণ সরিষা পাওয়া যাবে বলে আশাবাদী তিনি।দুটি ফসলের মাঝে সরিষার ফলনকে বোনাস হিসেবে দেখছেন কৃষক কনু মিয়া। সরিষা কেটে ওই জমিতে আবার বোরো ধান আবাদ করা যায়। এতে কৃষি জমির সর্বাধিক ব্যবহার নিশ্চিত হয়। সরিষা আবাদে খরচ কম, লাভ বেশি। এক থেকে দুই বার সেচ দিলেই চলে। বাজার দর ভালো হলে এক মণ সরিষা ২ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। এক মণ ধান এক হাজার ১২-শ টাকা। আর এক মণ সরিষার মূল্য তিন হাজার টাকা।

এ বিষয়ে উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাজিব মিয়া বলেন, কৃষকদের সরিষার বীজ দিয়ে সার্বিক সহযোগিতা করেছে কৃষি অফিস। বিঘাপ্রতি জমিতে সরিষা চাষ করতে খরচ হয় দুই হাজার টাকা। লাভ হয় দশ হাজার টাকা।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোহাম্মদ আশিকুর রহমান বলেন, সরিষা মূলত একটি মসলা জাতীয় ফসল। সরিষা চাষে স্বল্প সময়ের মধ্যে কৃষক অধিক ফলন পান।

তিনি আরও বলেন, আমাদের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সব সময় কৃষকদের পাশে থেকে তাদেরকে পরামর্শ দেন ও সার্বিক বিষয়ে খোঁজখবর নেন। আশা করছি প্রাকৃতিক বিপর্যয় না ঘটলে এবার বালাগঞ্জ উপজেলায় সরিষার বাম্পার ফলন হবে।#

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
     
Website Design and Developed By Engineer BD Network