২৪শে জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার

বিএমটিএ বিতর্ক ও টেকনোলজিস্টের চাওয়া

আপডেট: জানুয়ারি ১৪, ২০২২

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

ওবায়দুর রহমান মাসুম ঃ
আগামীকাল ১৫ জানুয়ারি ঢাকার জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ মেডিকেল টেকনোলজিস্ট এসোসিয়েশন (বিএমটিএ) পূর্নগঠনে কাউন্সিল অধিবেশন।
নিশ্চয়ই এই সময়ে পথহারা ও জাতীর চরম সংকটে বিএমটিএ গঠনের বিকল্প নাই। গত সাত বছর ধরে (২০১৫-২১ইং) অকার্যকর বিএমটিএ সময়ের অতিথি হয়ে ধরা দিয়েছিল আমার চোখে।

আমার চোখে বিএমটিএঃ-
২০১৪ সালের ০৩ ডিসেম্বর মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট পেশার ১০ দফা দাবী আদায়ে ইনস্টিটিউট অব হেলথ্ টেকনোলজি বরিশালের শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশি হামলা হয়। তৎক্ষনাৎ বরিশাল জেলা বিএমটিএ এগিয়ে আসে আহতদের পাশে। যখন পুলিশ আমার ১৪ জন সহযোদ্ধাদের গ্রেফতার করে, শতাধিক শিক্ষার্থীদের আহত করে, আঁখি-আঁখিনুর-সুরাইয়া’রা যখন হাসপাতালে কাতরাচ্ছিল তখনই প্রবেশ ঘটে জেলা বিএমটিএ সভাপতি গোলাম মোস্তফা সেলিমের, তাৎক্ষণিক সকল শিক্ষক ও টেকনোলজিস্টদের নিয়ে তিনি চিকিৎসা সেবা দেয়ার দায়িত্ব পালন করেন। লিখিত মুচলেকা দিয়ে থানা থেকে আটককৃতদের ছাড়িয়েও আনেন। এমনই ব্যক্তি যিনি কেন্দ্রীয় বিএমটিএ-কে চাপ প্রয়োগ করেন এবং সকল ইনস্টিটিউটে শুরু আন্দোলন তৈরি হয়। ঠিক তখনই শেবাচিম হাসপাতালের বেডে কাতরাতে কাতরাতে বিএমটিএ-র সাথে থাকার জন্য মনে মনে সিদ্ধান্ত নেই। একজন দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী হিসেবে।
এই আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোঃ নাসিম সাহেবের সাথে প্রথম কোন আলোচনার স্বাদ পায় কেন্দ্রীয় বিএমটিএ। সভাপতি আলমাস আলী খানের নেতৃত্বে তিনদফা দাবী বাস্তবায়ন হবে মর্মে মন্ত্রী স্বাক্ষরিত মাইনরস প্রকাশিত হয় যার প্লাটফর্ম বরিশাল আইএইচটি’র সহযোদ্ধারা তৈরী করে দিয়েছিলো। তিনমাসের মধ্যে দাবী বাস্তবায়ন হবে বললেও তৎকালীন নির্বাচিত বিএমটিএ এই দাবী আদায়ে ব্যর্থতার পরিচয় দেয় কিংবা রাজনৈতিক অসুবিধা চিন্তা করে এগিয়ে আসেনি কেহ। এ দিনটি আজ দেশের সকল টেকনোলজিস্টরা “মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট দিবস ” হিসেবে পালন করে।
এমন সংকট যখন চলমান ঠিক তখনই গঠিত হয় “জাতীয় দাবী বাস্তবায়ন পরিষদ ”
স্বামেপ নেতা চন্দ্র শেখের সাহাকে আহবায়ক ও শাহ আলম খান পারভেজকে সদস্য সচিব করে গঠন করা এই সংগঠন সারাদেশে ঝড়ের গতিতে মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টদের ঐক্যবদ্ধ করতে পারে এবং শিক্ষার্থীদের আস্থা অর্জিত হয়। বিএমটিএ-র নির্দেশনা না পাওয়ার পরও এই আন্দোলনে অংশ নেই, ঢাকায় রাজপথে টিএসসির বিশাল সমাবেশে এই চন্দ্র শেখর সাহেব (যিনি বিএমটিএ পূর্নগঠনের সভার সভাপতি) জ্বালাময়ী বক্তব্য দিয়ে সরকারকে দাবী আদায়ের জন্য সময় দিয়ে চিরদিনের জন্য সমাবেশ সমাপ্ত করেন। এরপর আর কোন টেকনোলজিস্ট আন্দোলনে আমি তাকে দেখিনি।
তার বক্তব্য যতটা না মন কেঁড়েছিল সেদিন কচি শিক্ষার্থীদের, ততটাই আমার অভক্তি তার জন্য। একজন নেতা যদি পারিপার্শ্বিক চাপ সহ্য-ষড়যন্ত্র সহ্য করতে না পারে তাহলে এটাও তার ব্যর্থটা। তখনকার সময়ে ডিপ্লোমা শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী হিসেবে পরিবারের বাঁধা উপেক্ষা করে, চরম অর্থ সংকট উপেক্ষা করে যে আশা দেখেছিলাম তা মচকে দেন তিনি।
একবার স্বামেপের জরুরি সভায় উনাকে দেখে আমার দারুন বিরক্ত লেগেছিল, কেউকে বলতে পারিনি।

বিএমটিএ বিতর্কঃ-
১৫ তারিখ এমন একজন ব্যক্তির সভাপতিত্বে পূর্নগঠিত বিএমটিএ সভা হবে যার প্রতি আমার আস্থা নাই, নেতৃত্ব দেয়ার গুনাবলী তার আছে বলে আমি মনে করিনা।
এই পূর্নগঠিত বিএমটিএ সভায় স্বামেপের একাংশ আর বিএমটিপি অংশ নিচ্ছে অথচ পেশার নেতৃত্ব দেয়া আরও প্রথমসারির কমপক্ষে ০৪ টি সংগঠনের কোন প্রতিনিধি নাই।
এর ব্যাখ্যাও অবশ্য আছে, অর্থায়ন, বিরোধীদলীয় মতবাদ এবং সমালোচকদের বিরুদ্ধে দাঁতভাঙা জবাব দিতে স্বাধীনতার সপক্ষের শক্তি নিয়ে ঐক্যবদ্ধ প্লাটফর্ম দাবী করলেও ভিতরে ভিতরে অনেক দূর্বলতা। সম্মেলন প্রস্তুত কমিটির সদস্য সচিবের নামে টেকনোলজিস্ট পাড়ায় অনেক নেতিবাচক কথা চলমান তাছাড়া উনিও একবার স্ব-ঘোষিত বিএমটির ঘোষনা করেছিলেন কিন্তু মার্কেটে তার সেই বিএমটিএ-র আহবায়ক কমিটি দাঁড়াতে পারেনি।
সুতরাং দীর্ঘদিনের ঝিমিয়ে থাকা স্বাধীনতা মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট পরিষদ (স্বামেপ)- এর একাংশ পেয়ে তার মন্দ হয়নি। দূর্বার সাংগঠনিক শক্তিধর বিএমটিপি বেশ কয়েকটি জেলায় স্বঘোষিত বিএমটিএ জেলা কমিটি করেছে, আবার অনেক জেলায় তাদের নিজস্ব কমিটিও বিদ্যমান৷ সুতরাং এই পূর্নগঠিত বিএমটিএ সভার সম্মেলনে একপ্রকার গোপন নেতৃত্ব দিবে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল টেকনোলজিস্ট পরিষদ(বিএমটিপি)।
স্বামেপের প্রতিনিধি কমিটিতে নির্বাচিত করতে হলেও এই সভায় বিএমটিপি-র দারস্থ হতে হবে কারণ হাউজ পুরো বিএমটিপির দখলে থাকবে।
সুতরাং কমিটি গঠনের পর তৃণমূলে বিএমটিপি কতটা মানিয়ে নিতে পারবে তা নির্ভর করবে সহনশীল আচরণে।
ঐদিকে ছাত্র আন্দোলন ব্যতীত পেশার অস্তিত্ব হুমকিতে সেই ছাত্র প্রতিনিধিদের অবস্থানও পরিস্কার নয়। যদি সেটাই হত তাহলে অনুষ্ঠান ঢাকা আইএইচটিতেই হত। সুতরাং এখনও অনেক খরার পথ সামনে।

সাধারন টেকনোলজিস্টের চাওয়াঃ-
সকল টেকনোলজিস্ট এটা এককথায় অনুধাবন করে যে, একটি নেতৃত্ব দেয়া বিএমটিএ দরকার এই সময়ে। দিনে দিনে অবহেলিত এই জাতির মুক্তির পথ হিসেবে বিএমটিএর বিকল্প নাই। কিন্তু কাদের নেতৃত্ব হচ্ছে এ বিষয়টি যতটা প্রভাব ফেলেছে তার চেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেছে তরুন টেকনোলজিস্টদের ভোট দিতে না পারার আকুলতা।
নিজের ভোট নিজে দিয়ে নেতা নির্বাচন করতে না দেয়ার সুযোগ নিচ্ছে বিরোধীপক্ষ।
হ্যা, এ পেশার একদল আছে যারা সত্যিই চায়না এই সরকারের শাসনামলে পেশার উন্নতি হোক তারাও সাধারণ সেঁজে ভোটারাধিকার প্রয়োগের পক্ষে। আবার সিলেকশন সুযোগ অনেক পতঙ্গের কীটরা সংগঠনের সহায়তায় ক্ষমতায় যাবে। অনেকের ইতিহাস দালালীর, উগ্রতার। এসকল ব্যক্তি যদি আবার ক্ষমতার স্বাধ পায় তবে জাতি সত্যিই ডুবে যাবে বাকিটুকু।

সুতরাং,
যে বিএমটিএ- নির্বাচিত হোক না কেন, যেভাবেই হোক না কেন—
সহনশীল আচরণ এবং সাধারণ টেকনোলজিষ্টদের চাহিদা অনুযায়ী সকল সংগঠনের মতামত নিয়ে কাজ করা ব্যতীত তারা প্রতিষ্ঠা পাবে না।
জোর করে স্বৈরশাসক হওয়া সম্ভব কিন্তু ঝড় উঠলে সামাল দেয়ার ক্ষমতা থাকবে না৷
লেখকঃ
ওবায়দুর রহমান মাসুম
প্রধান সমন্বয়কারী
The Voice of Medical Technologist

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
   
Website Design and Developed By Engineer BD Network