১৪ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার

 

যাত্রা, জুয়া ও হাউজি বন্ধ করে দিয়েছি-সিটি মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ

আপডেট: অক্টোবর ২২, ২০১৯

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শুদ্ধি অভিযানের মাধ্যমে দেশ থেকে সকল অপকর্ম দূর করার জন্য বিরামহীন কাজ করে চলছেন। তিনি শক্ত হাতে সংগঠনের হাল ধরেছেন। তাঁর আত্মীয়দেরও কোন ছাড় দিচ্ছেন না। তাঁর আদর্শের একজন অনুসারী হয়ে আমিও আমার পরিবারের কাউকে কোন ধরনের ছাড় না দেয়ার মানষিকতা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। মেয়র গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে নগরীর কাশীপুর চৌমাথা এলাকায় অনুষ্ঠিত ২৮ ও ৩০ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির দেয়া বক্তব্যে একথা বলেন। মেয়র বলেন, আমি মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার আগেই এ নগরী থেকে যাত্রা, জুয়া ও হাউজি বন্ধ করে দিয়েছি। মাদক আমাদের জীবনে সামাজিক ব্যাধি হিসেবে দেখা দিয়েছে উল্লেখ করে মেয়র বলেন, আমরা সকলে মিলে একত্রে কাজ করলে মাদক নির্মূল করা সম্ভব। তিনি বলেন, আমি যেমন অতীত থেকে শিক্ষা নিয়েছি তেমনি আমার পূর্ব পুরুষদের কাছ থেকে রাজনৈতিক শিক্ষা নিয়ে আজ সকল আরাম আয়েশ ভুলে মানুষের সেবায় কাজ করার চেষ্ঠা করছি। মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ বলেন, আজকে অবৈধ পথে আয় করে অনেকে কোটি কোটি টাকা কামিয়েছেন। অবৈধভাবে আয় করা ওই টাকা সংগঠনের কোন কাজে আসবেনা। আজ আমাদের দল ক্ষমতায় না থাকলে ওই টাকা আমাদের বিরুদ্ধেই খরচ করা হবে। বিএনপি মিথ্যার উপর ভড় করে রাজনীতি করে একথা উল্লেখ করে মেয়র বলেন, যারা আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারী তারাও আজকে বিএনপির মতো মিথ্যাচারের রাজনীতি শুরু করেছে। ওই সকল হাইব্রিডরা অনেক আগে থেকেই নানা মিথ্যা প্রচারনা চালিয়ে আসছে। সকলের মানষিকতা পরিবর্তন হওয়া দরকার। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে আমাদের মানুষের মতো মানুষ হয়ে কাজ করতে হবে। মেয়র বলেন, আমার কোন চাওয়া পাওয়া নাই। কে কি আমাকে নিয়ে বললো আমি তা মাথায় নেইনা। বরিশালের জনগন আমাকে নিয়ে কি বললো সেটাই আমার কাছে মুখ্য। কোন জরিপে আমাকে শ্রেষ্ঠ মেয়র বানানো হলো সেটাও আমার কাছে প্রধান বিষয় না। জনগনের কাছে আমি কতোটা শ্রেষ্ঠ সেটাই প্রধান। তিনি বলেন, আমি জোর দিয়ে বলতে পারি আমি কোন দূর্নীতি করিনাই। আগে বরিশালে যে লুটপাটের ধারা চলে আসছিল তা আমি বন্ধ করেছি মাত্র। আমার কোন সম্পত্তি নাই। জনগনের ভালবাসাই আমার সম্পদ। জনগনই আমার ব্যাংক ব্যালেন্স। আমার ব্যক্তিগত কোন লোক নেই। জনগনই আমার আর আমি জনগনের লোক। আগামীতে স্বচ্ছ না থাকলে রাজনীতিতে টিকে থাকা মুশকিল হয়ে যাবে। নিজের গত এক বছরের কাজের বিষয়ে মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ বলেন, আমি জনগনের চাহিদা অনুযায়ী দৃশ্যমান কোন উন্নয়ন কাজ করতে পারি নাই এটা হয়তো ঠিক। তবে আমি জবাবদিহীতা সৃষ্টির মধ্য দিয়ে নড়র ভবন থেকে চুরি ও ঘুষ বন্ধ করতে পেরেছি। জনগনের টাকা মেরে খাওয়ার জন্য আমি মেয়রের দায়িত্ব নেইনি। আমি কারো কাছ থেকে কোন অনৈতিক সুবিধা নেইনা। আমি ৫ বছরের গ্যারান্টি দিয়ে নগরীর সব রাস্তার কাজ করে দেবো। আগে আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ ও শওকত হোসেন হিরন ছাড়া বেশীর ভাগ সময়ে অন্য দলের মেয়ররা দায়িত্ব পালন করেছেন। তারা তাদের পছন্দের অযোগ্য লোকদের গুরুত্বপূর্ন পদে চাকুরী দিয়েছেন। আমি সেই জনবল ছাটাই না করে তাদের দিয়েই একটি পরিচ্ছন্ন নগরী গড়ার চেষ্ঠা করছি। ৩০ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম মোস্তফার সভাপতিত্বে সম্মেলনে উদ্ধোধক ছিলেন বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাড. গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল, প্রধান বক্তা ছিলেন, সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. একেএম জাহাঙ্গীর। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন মহানগরের সহ-সভাপতি অ্যাড.কেবিএস আহাম্মদ কবির। বক্তব্য রাখেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র গাজী নঈমুল হোসেন লিটু। সম্মেলনে বরিশাল মহানগর, ওয়ার্ড ও স্থানীয় পর্যায়ের আওয়ামী লীগ এবং অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও দল সমর্থিত কাউন্সিলররা উপস্থিত ছিলেন।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
 
Website Design and Developed By Engineer BD Network